আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



স্বপ্ন আছে সন্দ্বীপে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার : সুজাত শিমুল

Published on 06 October 2015 | 1: 21 pm

অভিনেতা সুজাত শিমুল।
সন্দ্বীপের ইতিহাসে যুক্ত হল আরেকটি গর্বময় নাম। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং বিজ্ঞাপণচিত্রে তাঁর অভিনয় শৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করেছে
অনায়াসে। অভিনয় করছেন চলচ্চিত্রেও।

এক দশকেরও বেশি মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন সন্দ্বীপের কালাপানিয়ায় জন্ম নেয়া এ তরুণ অভিনেতা।
সন্দ্বীপ কালাপানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক,চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর বর্তমানে পুরোপুরি ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনয়।

আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত শিমুল বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ছোটপর্দার একাধিক নাটকে।

সম্প্রতি মানবকণ্ঠে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন সুজাত শিমুল। সে সময় তার সাক্ষাত্কার নেন মাসুদ রানা। তাঁর কথায় উঠে এসেছে তার অভিনয় জগতে পদচারণার বিভিন্ন দিক। ব্যক্ত করেন “সন্দ্বীপ” নিয়ে তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নও।

মাসুদ রানার গ্রহণকৃত সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের সুবিধার্থে হুবুহু তুলে ধরা হল——-

বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

এখন পুরো ব্যস্ততা যাচ্ছে ঈদের নাটকের শুটিং নিয়ে। প্রতিদিনই নানা লোকেশনে ছুটতে হচ্ছে কাজের জন্যে। পাশাপাশি চলতি ধারাবহিক নাটকগুলো তো আছেই।
এবারের কোরবানির ঈদে নাটক টেলিফিল্ম
মিলিয়ে প্রায় ১৭ টি কাজ করছি। এর মধ্যে
মঞ্চের কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার চেষ্টা
করছি। এছাড়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও মাঝে মাঝে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আরো দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং শেষ করলাম।

অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হলেন কিভাবে?

২০০১ সালের কথা। আমি তখন চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বষের্র ছাত্র। আমার বন্ধু নাজিমের পরামর্শে চট্টগ্রাম শিল্পকলায় গিয়েছিলাম আবৃত্তি শিখতে। সুযোগ ঘটে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার।
তারপর এক সময় আবৃত্তি চর্চার পাশাপাশি
মঞ্চ নাটকের প্রতিও জাগে প্রবল আগ্রহ।
শিল্পকলার মঞ্চে গেলাম নাটক দেখতে।
নাটকে রক্ত মাংসের মানুষের সঙ্গে
মানুষের যে যোগাযোগ তা দেখেই মূলত
মঞ্চ নাটকের প্রতি আগ্রহটা জাগে।

মঞ্চের শুরুর গল্পটা বলুন?

২০০৫ এর কথা। আরণ্যক নাট্যদলে অভিনয়
বিষয়ক একটি কর্মশালার মধ্য দিয়ে শুরু হয়
আমার মঞ্চের পথচলা। তারপর কাজ করি
চট্টগ্রামের নাট্যাধার নাট্যদলের সঙ্গে।
আনন জামানের রচনা ও মোস্তফা কামাল
যাত্রার নির্দেশনায় শিখণ্ডি কথা নাটকের মধ্য দিয়ে আমার মঞ্চে অভিষেক।

আরন্যকের সঙ্গে আছেন কতদিন?

আমার নাট্য গুরু মামুনুর রশীদ। সেই সুবাদে
আরন্যক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হই ২০০৫ সালে। দলের হয়ে প্রথম অভিনয় করি এবং
বিদ্যাসাগর, রাঢ়াং, ইতি ইয়োকাস্তে, পুতুল কথন, আগুনের ডালপালা, ভঙ্গ বঙ্গ এবং কবর নাটকে। বর্তমানে দলের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে ব্যতিক্রম নাট্যদলের সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ হয়। গাজী রাকায়েতের নির্দেশনায় ফরাসী নাট্যকার আন্তন চেখভের চরিত্রে অভিনয় করেছি আরশোলা নাটকে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রথম
জাতীয় রেপাটর্রী নাটক টার্গেট প্লাটুন নাটকে অভিনয় করেছি। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ।

মঞ্চের নিয়ে আপনার ভাবনার কথাগুলো
বলুন?

এক কথায় মঞ্চ একজন শিল্পীর জন্য পূণ্যের
জায়গা। আমার প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা
থেকে বলছি মঞ্চে দাঁড়ানোর পর শরীরের
বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিয়ে কি
যে আড়ষ্টতা! তারপর সংলাপ প্রক্ষেপণের
বিষয়টি তো আরো একটি কঠিন ব্যাপার
ছিল। তারপর এক সময় সব প্রতিকূলতা কেটে
যায়। তৈরি হয় এই মঞ্চের প্রতি নিবিড়
ভালবাসা। এভাবে মঞ্চও ধীরে ধীরে আপন
করে নেয় শিল্পীকে। শুরু হয় শিল্পী ও মঞ্চের মধ্যে গভীর সখ্যতা। সর্বোপরি একজন সৃজনশীল ও শক্তিমান অভিনেতা নিজেকে গড়ে তুলতে মঞ্চের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

একজন অভিনয় শিল্পীর কি কি গুণাবলী
থাকা দরকার বলে মনে করেন?

একজন অভিনেতার মধ্যে কঠিন শৃঙ্খলা এবং
মানবিকতা-এই দুটি গুণাবলী থাকা একান্ত
বাঞ্চনীয় বলে আমি মনে করি।
স্তানিস্লাভস্কির একটি বিখ্যাত উক্তি
আছে- অ্যান অ্যাক্টর মাস্ট বি
নেসেসারিলি এ গুড ম্যান। অভিনেতাকে
সত্যিই একজন ভালো মানুষ হতে হবে। এর
কোন বিকল্প নেই। অভিনেতাকে কঠিন
শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েও চলার অভ্যাস রপ্ত
করতে হবে।

টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করলেন কখন
থেকে?

টেলিভিশনের আগে ২০০৮ সালে
চলচ্চিত্রের ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই।
চলচ্চিত্রটির নাম ছিল ‘গুরু ভাই’। সেই
চলচ্চিত্রে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে
আমার প্রথম অভিনয়ের সুযোগ ঘটে। আর
টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করি ২০০৯
সালে। মামুনুর রশিদের একটি নাটকে।
তারপরে একে একে বাড়তে থাকে কাজের
কলেবর। এ পর্যন্ত অভিনীত এক ঘন্টার
নাটকের সংখ্যা প্রায় ১৫০-এরও বেশি। আর
ধারাবাহিক নাটকের সংখ্যা প্রায় ৫০টি।

নতুন চলচ্চিত্রের খবর কি?

সম্প্রতি দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছি।
একটি তৌকির আহমেদের পরিচালনায়
অজ্ঞাতনামা আর অন্যটি ওয়াহিদ
তারেকের পরিচালনায় আলগা নোঙর। দুটি
সিনেমায় আমি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছি।

বর্তমানে কি কি নাটকে কাজ করছেন?

বর্তমানে চারটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি। মামুনুর রশীদের অক্ষয়, অঞ্জন আইচের সাপলুডু, শামীম জামানের আনন্দ
গ্রাম, রেদোয়ান রনির ঝালমুড়ি নাটক।
ঈদের পরে শ্যুটিং শুরু হবে আরো দুটি ধারাবাহিক নাটকের।

আপনার জীবনের স্বপ্ন কি?

জীবনে খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। মৃত্যুর
আগ পর্যন্ত শিল্পের চর্চাটা নিবিড়ভাবে করে যেতে চাই। শিল্পের এই চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের জন্যে কাজ করে যেতে চাই। একজন ভালো মানুষ হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মরতে চাই। আরেকটি স্বপ্ন আছে। যদি সময় সুযোগ বা সামর্থ হলে আমার সন্দ্বীপে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার। (সুত্র : দ্বীপের সংবাদ)


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন