আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



একটি ছোট গল্প —– (রক্ত বাঁচাতে পারে আপন জনের প্রাণ) —–

Published on 29 July 2016 | 2: 05 pm

 সুনীল চন্দ্র দাস ————-

কোমল ময় সূর্য্যের কিরণ উদয় হল পূর্ব দিক হতে। আর এ কোমলতা যেন স্পর্শ করেছে সজীবের মনকে! কারণ, আজকে যে সজীবদের কলেজে অতীতের ন্যায় সংস্কৃতি আনুষ্ঠান আরম্ভ হবে এবং একটি গান নিয়ে সজীব ও অংশ গ্রহণ করেছে।

হাসি খুশি মন নিয়ে কলেজে হাজির হল সজীব। সল্প ক্ষণ এদিক-সেই দিক করার পরে,প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করল সজীব। যথাযথ ভাবে সজীব তার গানটি গাইতে শুরু করল:

আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা ভাঙা বেড়ার ফাঁকে অবাক জোছনা ঢুইকা পড়ে হাত বাড়াইয়া ডাকে…

হাত ইশারায় ডাকে কিন্তু মুখে বলে না আমার কাছে আইলে বন্ধু আমারে পাইবা না।

তুমি আমায় ডাকলা না গো তুমি রইলা দূরে তোমার হইয়া অবাক জোছনা ডাকলো অচিন সুরে!

একজন দক্ষ সংগীত শিল্পির মত গানটি পরিবেশন করল সজীব। মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসাবে কখনো হতাশা বা দুঃখ স্থান করতে পারেনি সজীবের মনে।কিন্তু সেই সব সময়, দুঃখ ভরা ক্লান্ত গান গাইতে ভালোবাসে। আর আজকে সজীবের গানটি যে একজন মানবীর অন্তরে আঘাত হানবে এবং নতুন কিছুর অনুপ্রেরণা জাগাবে, কে জানতো? অনেক ক্ষণ মন স্থির করে একলা আপন মনে বেঞ্চে বসে রইল মানবী।অবশেষে কলেজ থেকে বিদায় লগ্নে -সজীবের সামনে এসে দাঁড়ালো মানবী।

আর বলতে লাগলো-The song was extraordinary to me. I can not say what you mean.Really awesome. (গানটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। যা বলে বুঝাতে পারব না।সত্যিই অসাধারণ)। এক ঝলক মৃদু হাসি দিয়ে সজীবের সামনে থেকে চলে গেলো। (মানবী মেয়েটার ডাক নাম হল পাখি।নতুন কিছু করতে বা নতুন সৃষ্টির মাঝে উড়াল দিতে চাই পাগলি মেয়েটার। কিন্তু সৃষ্টি কর্তা নির্মম পরিহাস, দীর্ঘ দিন ধরে রক্ত শূণতায় ভোগতেছে পাখি মেয়েটা।তাই প্রেম,ভালোবাসা এবং আনন্দ উল্লাসকে হত্যা করে গোপনে কান্নাকাটি খেলায় মেতে উঠে।

তবে আজকে কেমন করে, নিজের অগোচরে সজীবকে অনেক কথা বলে ফেলেছে।ভূলে গেলো তার দুঃখ ও অতীতের দিন গুলো। আজকে যেন পেয়ে গেছে বেঁচে থাকার সন্ধান।) দীর্ঘ কয়েক দিন পরে হঠাৎ সজীবের মুঠোফোন বেজে উঠল।

সজীবঃ হ্যালো, কে বলছেন?

পাখিঃ Are you awake? (তুমি কি জেগে আছ?)

সজীবঃ হুম, সামনে পরীক্ষা-তাই পড়ায় মনোযোগ দেওয়া চেষ্টা করছি। কিন্তু আপনি কে?

পাখিঃ Your friend.(তোমার বন্ধু)।

সজীবঃ How funny! (কি মজার!) আচ্ছা বন্ধু তোমার নাম কি?

পাখিঃ নামটা তো জানি না!

সজীবঃ আমাকে বন্ধু ভাবেন, কিন্তু নাম প্রকাশ করবেন না।তা হলে কি আপনি?

পাখিঃ না, না আমাকে ভূল বুঝবেন না।আসলে আমার নাম পাখি।

সজীবঃ সাথে সাথে মারাত্মক ভাবে রেগে ফোন বন্ধ করে দিল।আর মনে মনে বলতে লাগলো, আজ কাল সব ছেলে-মেয়েদের একটায় সমস্যা, মা-বাবার দেওয়া নামকে বাদ দিয়ে নিজেই নতুন নাম সৃষ্টি করে।

পাখিঃ বড় একটা হতাশার নিশ্বাস ফেলে বলল, মনে হয় ফোনে চার্জ নেই। অবশেষে ফোন বন্ধ করে শুয়ে পড়ল।

সজীবঃ আসলে কাজ টা ঠিক করিনি, এতো মিষ্টি কন্ঠে বাজিয়াত করে কথা বলা কন্যা সত্য বলেছে হয়তো! না, না আমি রাগ করা ঠিক হয়নি। আসলে বেশি রাগ মানুষের অমঙ্গল ডেকে আনে। এখন বুঝতে পারলাম। পাখিঃ গত রাতের মত, আজকে আবার কল করল মেয়েটি।

সজীবঃ আজকে লেখা পড়া বাদ দিয়ে,কথা বলতে বলতে দুই জনে যেন স্বর্গে পাড়ি দিল। (এই ভাবে অনেক দিন কাটতে লাগল আনন্দে। এক দিন কথা না হলে,মনে হয় যুগ যুগ ধরে কথা-বার্তা হচ্ছে না দুই জনের।)

পাখিঃ এই শুনছো,আমি না আর বেশি দিন বাচঁবো না।জানো,তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে হবে ভাবতে পারচ্ছি না! আজকে আমার কাছ থেকে মা মোবাইল নিয়ে যাবে।

সজীবঃ মৃদু হাসি দিয়ে বলল,এখন রাখছি পরে কথা হবে। তার পর থেকে-মিনিটের পর মিনিট,ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস অতিবাহিত হতে লাগল। এই সময়ের মধ্যে কত সহস্র হাজার বার ফোন করে কথা বলতে চেয়েছে, নিজেও জানে না। হতাশা ভরা অশ্রু নিয়ে বলতে লাগলো- আমি যে আর পারছি না। খুব মিস করছি তোমায়। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমার। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না । মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে অনেক চেষ্টা করেও তোমায় ভূলতে পাচ্ছি না । তুমি কি করে পারলে আমাকে এমন করে ভুলে যেতে? আচ্ছা, সত্যি কি আমাকে তোমার মনে পরে না ? কি করে এতো নিষ্ঠুর হলে তুমি..? অনেক দিন পর………

সুজনঃ কিরে সজীব দীর্ঘ দিন যাবৎ তোর ফোনে কল করতেছি,কিন্তু তোকে পাচ্ছি না। কি হলো তোর,এত লোকো চুরি কেন? (সুজন হল সজীবের খুব কাছের বন্ধু।)

সজীবঃ কেনো কি হয়েছে? সুজনঃ আমাদের এলাকার একটা মেয়ের রক্তের প্রয়োজন। আমাদের কারো রক্তের সংগে মিলছে না। মেয়েটার A+ পজেটিভ রক্তের প্রয়োজন। যা এক মাত্র তুকে দিতে হবে।

সজীবঃ কিন্তু আমি কি করে দেবো?

সুজনঃ ভয় পাওয়ার কারণ নেই-তুই কি জানি,আমাদের সবার রক্ত প্রতি ৩ মাস পর পর পানি হয়ে যায়।

সজীবঃ তা হলে রক্তের মূল্য কোথায়?

সুজনঃ মূল্য আছে,যদি ঐ রক্তের বিনিময়ে মানুষের জীবন বাঁচে!

সজীবঃ হুম তা হলে চল- আমিতো এমনি নিজেকে মারতে বসেছি। দেখি তার পরেও কাউকে বাঁচাতে পারি কিনা! অবশেষে রক্ত প্রদান করা হল।পরে ডাক্তার এসে বলল,আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ, মেয়েটির জীবন বাঁচানোর জন্য। আরও একটা সুখবর হল, মেয়েটি আর কখনো রক্ত শূর্ণতায় ভোগবে না।

সুজনঃ তোর কারণে আজ একটা মরন পথের যাত্রী কে বাঁচাতে পারলাম। তুই আসলে আমাদের প্রকৃত বন্ধু। সজীবঃ এমন কথা বলে আমাকে ছোট করিছ না।

সুজনঃ চল মেয়েটিকে দেখে আসি।

সজীবঃ হুম চল। মেয়েটির কাছে যাওয়ার পরে, আরে আপনি, আমাদের কলেজের ছাত্রী না এবং আমার সাথে কথা হয়েছিল।

পাখিঃ হুম আমি।আপনারা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন,কি বলে যে স্বাগত করবো ভেবে পাচ্ছি না।

সজীবঃ আমাদের আর ছোট করবেন না।আচ্ছা বন্ধু তোমার নাম কী? পাখিঃ আপনি আমাকে চিনেন,, তুমি আর আমি অনেক পরিচিত।

সজীবঃ এ কি আপনি থেকে তুমি-ব্যাপার কী বলুন তো?

পাখিঃ আমি হলাম তোমার হারিয়ে যাওয়া পাখি।

সজীবঃ কেনো হারিয়ে গিয়েছিলে, কি অপরাধ ছিল আমার? কেনো বা তোমার মা মোবাইল নিয়ে গেলো? পাখিঃ তখন আমি এত দুর্বল হয়ে পরেছি যে,, কথা বলতে কষ্ট হতো। কিন্তু তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতাম না।আর এইটা দেখে মা আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নেয়।

সজীবঃ এই পাগলী এখন আর অতীত শুনতে চাই না। এখন থেকে তুমি শুধু আমার,আর আমি শুধু তোমার। পাখিকে আরও কাছে টানিয়া জড়িয়ে ধরে বললো, “সারাজীবন আমার হয়ে থেকো এভাবেই, বুকে জড়িয়ে রেখো আমায় তোমাতেই”।

পাখিঃ সজীবের কানে কানে কহিলো, ” থাকবো পাশে সারাজীবন, রেখো আমায় করে আপন”।

লেখক: শিক্ষার্থী, মুস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজ সন্দ্বীপ।

বিভাগ: বি,বি,এস(পাস). বর্ষ:২০১৪/২০১৫


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন