আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সাগরে তিন ঘণ্টা ভেসে তীর পেলেন সন্দ্বীপের রিপন

Published on 25 July 2016 | 3: 38 am

সন্দ্বীপ চ্যানেলে তিন ঘণ্টা উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন সন্দ্বীপের রিপন (৩৮)। গত শনিবার দুপুরে স্রোতের ধাক্কায় কার্গো বোট থেকে ছিটকে পড়ে যাবার পর প্রায় ১২ কি.মি. দূরে ফকিরহাট ফেরী ঘাটের কাছাকাছি ককশিট ধরে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।  বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। রিপন সন্দ্বীপের হারামিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ঐ দিন তিনি কার্গো বোটে করে কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ যাচ্ছিলেন। জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণাধীন কুমিরা ঘাট থেকে একটি কার্গো বোট ৩০ জন যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ৩ নং সতর্কতা সংকেতের কারণে এ সময় সাগর ছিল খুবই উত্তাল। উদ্ধার হওয়া রিপন ঐ বোটের যাত্রী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রার ২০/২৫ মিনিট পর স্রোতের ধাক্কায় হঠাৎ বোটটি প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দেয়। এ সময় ছিটকে পানিতে পড়ে যান রিপন। স্রোতের তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে তিনি বোট থেকে বেশ দূরে চলে যান। বোটের অন্যান্য যাত্রীরা রিপনকে উদ্ধার করতে বললে চালক বোটের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাতে অসম্মতি জানান।

পরে তারা মোবাইলে কুমিরা ঘাটে দুর্ঘটনার খবর জানালে কয়েকটি স্পিড বোট দ্রুত সন্দ্বীপ চ্যানেলে উদ্ধারে নেমে পড়ে। প্রায় ৩ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সীতাকুণ্ড ফকিরহাট ঘাট থেকে ২ কি.মি উত্তরে একটি ককশিট ধরে ভাসমান অবস্থায় কুমিরা ঘাটের স্টাফরা তাকে উদ্ধার করে। সন্ধ্যায় ঘাট কর্তৃপক্ষ তাকে চট্টগ্রাম শহরে মেডিকেল সেন্টার নামে একটি ক্লিনিকে নিয়ে আসে।

বেঁচে যাওয়া রিপন মোবাইলে এ প্রতিবেদককে জানান, পানিতে পড়ে যাবার পর ধরে ভাসার মত আমি কিছুই পাইনি। শরীরের সকল কাপড়চোপড় খুলে ফেলে আল্লাহর নাম নিয়ে ভাসতে থাকি। এ সময় প্রচুর লোনা পানি খেয়েছি আবার বার বার বমিও করেছি। এভাবে ধীরে ধীরে আমি দুর্বল হতে থাকি। নিস্তেজ হয়ে এই যেন ডুবে যাচ্ছিবার বার এ রকমই মনে হচ্ছিল। আনুমানিক ২ ঘণ্টা পর হঠাৎ হাতের কাছে একটি ককশিট পেয়ে যাই এবং তা ধরে ভাসতে থাকি। পরে ২টি স্পীড বোট এসে আমাকে উদ্ধার করে।

রিপন আরো জানানতাকে উদ্ধারসহ চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ায় তিনি কুমিরা ঘাট ইজারাদারের প্রতি কৃতজ্ঞ। রিপনের সঙ্গী তার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন তানসেন জানান, ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান এসে তার খোঁজ খবর নিয়ে গেছেন এবং চিকিৎসার সকল ব্যয়ভারের ব্যবস্থা করেছেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন