আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সন্ধ্যা নামতেই গুলশান ও বনানীতে ভুতুড়ে পরিবেশ

Published on 24 July 2016 | 2: 53 am

নীরব নিস্তব্ধ রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা। নীরবতা যেন কাটছেই না। দিনে প্রধান প্রধান সড়কে লোকের কিছু সমাগম থাকলেও সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই নেমে আসে ভুতুড়ে পরিবেশ। থমথমে নীরবতা, রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো ক্রেতাশূন্য। গাড়ির তেমন আওয়াজ নেই। যারা জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় চলছেন তাদের মোড়ে মোড়ে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তারা এখনো ভয়ের মধ্যে আছেন। আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীদের হামলার পর থেকেই আতঙ্ক তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এক দিকে আতঙ্ক, অপর দিকে মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তাদের সহ্য করতে হচ্ছে। এ ছাড়া এলাকার যারা ব্যবসায়ী রয়েছেন, তারা আতঙ্কে আছেন কখন তাদের ব্যবসাবাণিজ্য গুটিয়ে এলাকা ছাড়তে হয়!
রাজধানীর গুলশানে প্রবেশের চার দিকেই এখন পুলিশি চেকপোস্ট। ভেতরের রাস্তাগুলোতেও একই অবস্থা। বের হওয়ার রাস্তায়ও। এত নিরাপত্তার পরও আতঙ্ক কাটছে না কূটনৈতিক পাড়াখ্যাত গুলশান, বনানী ও বারিধারা। আর্টিজান হামলার ২৩ দিন পরও সুনসান নীরবতা বলে দেয় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খুব প্রয়োজন না হলে বাসার বাইরে বের হচ্ছেন না এখনো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা তৎপরতা দেখেও তা-ই মনে হয়।
গত ১ জুলাই রাতে বন্দুকধারীরা গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২৩ জনকে হত্যা করে। বন্দুকধারীদের হাতে শুরুতেই নিহত হন বনানী থানার ওসি সালাহ উদ্দিন এবং ডিবি পুলিশের এসি রবিউল ইসলাম। পুলিশসহ আহত হন অন্তত ৫০ জন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেন সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা। এই অভিযানে পাঁচ বন্দুকধারী ও এক সন্দেহভাজন নিহত হয়।
সেই থেকেই গুলশান, বনানী ও বারিধারায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, আগে থেকেই কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার ছিল। আর্টিজান হামলার পর এই নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়। ঘটনার পর সেখানে বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে বিজিবি না থাকলেও সেখানে র‌্যাব-পুলিশের সমন্বয়ে জোরালো নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য। পুলিশের গুলশান জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব এলাকায় সিসি ক্যামেরা ছিল না ইতোমধ্যে সেসব এলাকাও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এখনো মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। টহল পুলিশ সার্বক্ষণিক মহড়া দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চেকপোস্টগুলোতে যানবাহন এমনকি সাধারণ পথচারীদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে। রাতে এই তল্লাশি অভিযান আরো জোরদার করা হয়। গুলশানের এন্ট্রি-এক্সিটের অনেক পথ আপতত বন্ধ। ওগুলোতে সাধারণের হাঁটাও বন্ধ রয়েছে। গুলশানের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেছেন, এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, দিনেও কোনো কোনো রাস্তায় চলাচল করতে ভয় লাগে। তিনি বলেন, রাতে পুরো গুলশানে ভুতুড়ে পরিবেশ নেমে আসে। রনি নামের এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, আর্টিজান হামলার পরে তাদের ব্যবসা শেষ। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পরই মূলত জমে উঠত গুলশান। এখন সন্ধ্যার পরে ক্রেতা মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে ওই এলাকা থেকে ব্যবসাবাণিজ্য গুটিয়ে ফেলতে হবে। এই এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোরও একই অবস্থা। কিছু হোটেলে কিছু বিদেশীর অবস্থান ছাড়া বাকি হোটেলগুলোতে কোনো অতিথি নেই। এ দেশের কোনো নাগরিক এখন আর গুলশানের হোটেলে অবস্থান করেন না। মার্কেট বিপণিবিতানগুলোর অবস্থাও একই। ক্রেতা নেই। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, যারা এই এলাকার বাসিন্দা তারা এখন চরম অস্বস্তিতে আছেন। এমনকি নিজ বাড়িতে ঢুকতে আর বের হতে তাদের তল্লাশির শিকার হতে হয়। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তারা এখন আর ঘর থেকে বের হতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
এ দিকে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, গুলশান-বনানীর নিরাপত্তা নিয়ে মহানগর পুলিশের আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে যেসব এলাকা ছিল ইতোমধ্যে সেসব এলাকাও সিসি ক্যামেরার আওতায় চলে এসেছে। চেকপোস্ট, টহলব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু গুলশান-বনানীই নয়, পুরো মহানগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, গুলশান-বনানীর জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই এলাকার জন্য আলাদা রঙের ২০০ রিকশা থাকবে। যাতে বাইরে থেকে কোনো যানবাহন ঢুকলে তা শনাক্ত করা যায়।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন