আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না তারেক

Published on 23 July 2016 | 3: 18 am

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাত বছরের কারাদণ্ড হওয়ায় আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না তিনি। দেশে এসে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পর রায় স্থগিত হলেই শুধু সংসদ নয় সব ধরনের নির্বাচন করার যোগ্য হতে পারেন তিনি।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, দুই বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। সেই সঙ্গে সাজাভোগ শেষে পাঁচ বছর পার করার পরই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও অযোগ্য দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।

একাদশ সংসদ নির্বাচন ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে হওয়ার কথা রয়েছে। মুদ্রা পাচার মামলায় নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

তারেক রহমান বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। এরপর ২০০৯ সালের কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পদোন্নতি হয়, এবং গত মার্চে দ্বিতীয়বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।

যুক্তরাজ্যে থাকা তারেক রহমান হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, লন্ডনে থেকে আপিল করতে পারবেন না। আমরা যদি উনাকে ধরে আনতে পারি, অথবা তিনি যদি এসে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে আপিল করতে পারবেন।

এ বিষয়ে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্টের এই সাজা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। হাই কোর্ট একতরফাভাবে এই বিচার করেছেন। সেখানে তারেক রহমানের পক্ষে কোনো আইনজীবী বক্তব্য রাখতে পারেন নাই। ইনশাল্লাহ যখন সময় আসবে, তারেক রহমান এই মাটিতে আসতে পারবেন। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আপিল করে আমরা দেখাতে পারব, এই মামলা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচনে তারেক রহমান অংশ নিয়েছিলেন; তাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথ সুগম হলেও ফলাফলের গেজেটও প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তীতেও ওই নির্বাচনটিও বাতিল হয়।

জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব ফরহাদ হোসেন জানান, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ২ বছরের দণ্ড হলেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য হবেন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সাজা ভোগের পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত হলেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে রায় স্থগিত হলে ভোটে অংশ নিতে বাধা নেই,  যোগ করেন তিনি। তারেক ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যাচেষ্টাসহ দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানীর অভিযোগে বেশকিছু মামলা রয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন