আজ শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ইং, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিদেশি নাগরিক হত্যায় বিএনপি-জামায়াতের মদদ আছে

Published on 04 October 2015 | 7: 48 am

দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের মদদ আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার দুপুর ১২টার দিকে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দুজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে। পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো আইএসের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সংবাদ প্রচার করেছে।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, অনেকে বলছেন, যখন ফাঁসির দড়ির কাছাকাছি গেছে দুই রাজাকার, তখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এটা তাঁদের বিচার বানচাল করার চেষ্টা কি না। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কর্মপরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুজন নাগরিক মারা গেছেন। তাঁদের একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। গুলশানে ইতালির নাগরিককে চারটি গুলি করা হয়েছে। এর আগে বিএনপির নেতার বক্তব্য এবং হত্যার পর তার প্রতিক্রিয়া দেখলে কিছু বিষয় আঁচ করা যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গুলি করে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেসব দেশ ঘোষণা দেয়নি যে সেখানে কেউ আসবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল।  যখন তাদের বিচার করা হচ্ছে, তখন কিছু প্রতিক্রিয়া হবে। তিনি বলেন, যদি কেউ এ ধরনের ঘটনা (মানুষ খুন) ঘটায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রতিনিয়ত যখন যে ঘটনা ঘটেছে, আমরা ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দিচ্ছি। এ দুই ঘটনায় সব অর্জন ধ্বংস হয়ে গেল, এমনটা মনে করার নেই। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের মদদ আছে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের হাত আছে।

গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দারা) খবর নিচ্ছে। ধরা পড়বে। বিচারও হবে। সৌদি নাগরিক হত্যার পর বিচার করেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিদ্যুত ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের দিক দিয়ে সফলতা অর্জন করেছি। গ্রামীণ অর্থনীতি ও শহর অর্থনীতির সমতাও আমরা অনেকখানি নিশ্চিত করতে পেরেছি। জাতিসংঘের অধিবেশনে এসব ভূমিকার জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতিসংঘের সফর পরবর্তী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার সকালে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) এর ধারাবাহিকতায় এবারের অধিবেশনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) গৃহীত হয়েছে। ১৭টি আশু উন্নয়নের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট করে ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন বার বার উঠে এসেছে এবারের অধিবেশনে। আর এসডিজি গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব​ নেতারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচন নিয়ে কিছু বলেনি, দেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন।


Advertisement

আরও পড়ুন