আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘বাবুল আক্তার চাকরিতে আছে, কিন্তু অফিসে আসে না’ ।। হামলার গুজব সৃষ্টি করে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে : আইজিপি

Published on 22 July 2016 | 4: 14 am

চাকরি করার মানসিক অবস্থায় নেই পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। চাকরিতে বহাল আছে, তবু অফিস করে না, কোন অফিসারের সাথে যোগাযোগ রাখছে না। এভাবে ছুটিতে না থেকেও যদি সে অফিস না করে তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর নাসিরাবাদে সিএমপির অফিসার্স মেসের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান। সম্প্রতি নিখোঁজদের নিয়ে র‌্যাবের দেয়া তালিকা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, র‌্যাব যে তালিকা দিয়েছে তা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। কে কোন কারণে নিখোঁজ সেটা বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে পুলিশ এখনো কোন তালিকা তৈরি করেনি বলে জানান শহীদুল হক।

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ড তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আইজিপি শহীদুল হক জানান, স্থানীয় পুলিশ এটি তদন্ত করছে। তদন্তের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ‘মেইন একিউসড’ মুছাকে পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টা ষ্পষ্ট হবে। পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন জানিয়ে আইজিপি বলেন, সে (বাবুল আক্তার) চাকরিতে বহাল আছে। তবে সে অফিস করেনা। আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেনা। কোনো অফিসারের সাথে যোগাযোগ রাখছে না। সে বলছে সে ডিপ্রেসড, চাকরি করার মানসিক অবস্থায় নেই। সে তো আমাদের সাথে কথা বলে সদর দপ্তরেও যাচ্ছে না। এভাবে ছুটিতে না থাকার পরও সে যদি অফিস না করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইজিপি।

যদিও গত ২৫ জুন নাটকীয়ভাবে নিজের স্ত্রীকে হত্যার গুজব ছড়িয়ে এসপি বাবুল আক্তারকে ঢাকার শ্বশুরবাড়ির থেকে মধ্যরাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় ডিবি কার্যালয়ে। পরে তাকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হলেও আর পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত এসপি বাবুল আক্তার আর স্বপদে যোগদান করেননি। গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছিল, বাবুল আক্তার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন ওই দিন রাতেই। তবে এনিয়ে নানা গুজব খবর বের হলেও সরকার কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এ নিয়ে মুখ খুলেননি বাবুল আক্তার নিজেও। গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার পর গত ২৬ জুন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয়া শাহজাহান, ওয়াসিম, আনোয়ার, অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা, তার সহযোগী মনিরকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়াও মূল হোতা মুছার ভাই সাইদুল শিকদার সাকুকেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। যদিও গত ৫ জুলাই ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঠান্ডাছড়ি এলাকায় অন্যতম সন্দেহভাজন রাশেদ ও নবী গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, পুলিশ যাদেরকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ দাবি করে আসছে। এদিকে র‌্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজদের তালিকা পূর্ণাঙ্গ নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক। বৃহস্পতিবার রাতে নগর পুলিশ কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অপরাধ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান। আইজিপি বলেন, তালিকায় সবাই জঙ্গি নয়। তালিকা আমাদের কাছেও আছে। আমরা যাচাই বাছাই করছি। আমরা একেবারে মাঠ পর্যায়ে ওয়ান টু ওয়ান যাচাইবাছাই করব। যাচাই করার পরে ফাইনাল লিস্ট হওয়ার পর বোঝা যাবে এখানে কারা মিসিং, কারা নরমালি মিসিং, কারা জঙ্গির কারণে চলে গেছে সেটা বোঝা যাবে। এসব ভেরিফিকেশন চলছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার এখনও কোন তালিকা দেয়নি। আমরা যাচাইবাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করে জাতিকে জানাব।আইজিপি বলেন, জননিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে জঙ্গিরা নাশকতা করতে না পারে। তার জন্য যত প্রচেষ্টা ও কৌশল প্রয়োগ করা দরকার পুলিশ তা করছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনা ইঙ্গিত করে পুলিশ প্রধান বলেন, আমরা নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছি যাতে জঙ্গিরা নাশকতা না করতে পারে। যত রকমের কৌশল আছে সেটা প্রয়োগ করছি। আমরা বলছিনা যে দেশে বড় কোন ঘটনা ঘটে যাবে, আবার এটাও বলা যাবেনা যে জঙ্গিরা বড় কোন ঘটনা ঘটাতে পারবে না। হোমগ্রোন কিছু মিলিট্যান্ট তো আছেই। তবে তাদের মাস্টারমাইন্ডরা তো আমাদের আওতায় আছেই।

এদিকে বিভিন্ন শপিং মল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি হামলার যে কথা শুনা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করেছেন আইজিপি। তিনি বলেন, এটা ভিত্তিহীন একটা গুজব। যতগুলো আক্রমণ হয়েছে একটা ঘটনাও আগাম জানিয়ে করেনি। তাই এখন যারা গুজব সৃষ্টি করে আতংক ছড়াচ্ছে, এটা আমার মনে হয় ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে পেনিক করার জন্য বলা হচ্ছে। নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে উদ্বোধন হওয়া দশতলা এই অফিসার্স মেসের চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো: শফিকুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) দেবদাস ভট্টচার্য, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন