আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সময় এখন ঐক্য গড়ার, সময় এখন জেগে উঠার

Published on 17 July 2016 | 1: 04 pm

:: প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন শাকিল ::

”এ ব-দ্বীপের প্রতি ইঞ্চি মাটি অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমিক বাঙালীর”

উক্ত মতবাদের সাথে দ্বিমত পোষণকারী, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল চেতনা বিদ্বেষী এতে সন্দেহ করার কোন অবকাশ আছে কি ? ধর্মের ঠুনকো অযুহাত কিংবা অপব্যাখ্যায়- এ ব-দ্বীপে অমানবিক অধার্মিকতা, অপ্রীতিকর ও অমীমাংসিত অনেক কিছুই অতীতেও সংগঠিত হয়েছে,বর্তমানেও হচ্ছে হয়ত ভবিষ্যতেও হবে ! যা শান্তিপ্রিয় মানবিক বোধসম্পন্ন সুস্থ মস্তিষ্কের প্রতিটি মানুষ তীব্র ঘৃণায় সদা তা করছে প্রত্যাখ্যান। বাংলার দেশপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান নিজের বুকের তাজা রক্ত ও অমূল্য জীবন বিলিয়ে দেশ-মাতৃকার বিপক্ষের সব অপকৌশল ও অপ-শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগ্রামে যুগে-যুগে থেকেছে জেগে, এটাই এ জনপদের গৌরবময় আলোকিত বাস্তবতা। সকল অসুন্দর, মিথ্যা ও অমানবিকতার কালো দাফট এজনপদের শান্তিকামী ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহী জনতা রুখেছে কালে কালে যা চলমান ।

বাংলার সাধারণ মুসলমান, অত্যান্ত সহজ-সরল সভ্য ও ভদ্র এবং তাঁদের সুস্থ মানবিক বোধসম্পন্ন গুণাবলির সুখ্যাতি রয়েছে জগত জুড়ে। আবহমানকাল থেকেই এ জমিনের সাধারণ মুসলমান অত্যান্ত ধর্মপরায়ণ এবং ধর্মভীরু তবে তারা ধর্মান্ধ নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সামাজিক প্রগতির সোনালি উদাহরণ স্বরূপ বিশ্ব জমিনে এ বাংলাদেশের বাঙালীরাই একমাত্র প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। রক্তে অর্জিত প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থান আধুনিক বিশ্ব মানচিত্রের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে রয়েছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

দেশি-বিদেশি নানান বেনিয়া চক্রের লোলুপ দৃষ্টি এবং নানান কূটচাল ও ষড়যন্ত্রে আটষট্টি হাজার বর্গমাইলের শান্তিনিকেতন বার বার হয়েছে অশান্ত আর সবুজ শ্যামলিমা বাংলার উর্বর প্রান্তর হয়েছে রক্তস্নাত। এ জমিনে সাধারণ মানুষের যত রক্ত ও জীবন ঝরেছে ততই মানুষ দেশপ্রেমের শপথে বার বার হয়েছে দীপ্ত বলীয়ান । কবি সুকান্তের ভাষায় বলতে হয় – বন্ধু, তোমার ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ্ণ করো চিত্ত, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে নিজেদের ভেতর মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক হানাহানি রক্তপাত হলেও ভারত,আফগানিস্তান,পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যন্য অসভ্য অঞ্চলের মত গোত্রীয় বা জাতি উপ-জাতি স্থায়ী দন্দ-সংঘাত নায়।

এ বদ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান এবং সামাজিক পরিবেশ জঙ্গি বা অতি জিহাদিদের জন্যে কেবলই মরণ ফাঁদ ছাড়া অন্য কিছু নয় । কাজেই এখানে শান্তির ধর্ম ইসলামের দোহায় বা অন্য কোন ফর্মুলায় দেশী-বিদেশী নানান কূটকৌশল বাস্তবায়ন অথবা কথিত ইসলামিক স্টেট কায়েমের রক্ত উল্লাস কখনো সফল হবেনা এবং হবে না । এদেশের মুসলমান অন্তর দিয়ে বুঝে এবং মানে কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়। ইসলামের মহান শিক্ষা শান্তির বানী হৃদয়ে ধারন করা এ জনপদের জনগনের ভেতর রাজনৈতিক যতই মতভেদ থাকুক না কেন, সময়ের ডাকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ধর্মের মান রক্ষায় বীর বাঙ্গালী দ্রোহের চেতনায় জেগে উঠে বারবার তা কে না জানে !

মহান একাত্তরে ইসলামের অপব্যখ্যায় ও দোহায় দিয়ে যখন বর্বর পাক হানাদার বাহিনী এদেশের শান্তিপ্রিয় নিরহ মুসলমান হত্যা এবং মা বোনদের ধর্ষণ, লুটপাট ও ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছিল তখন কি বাঙালীর অসাম্প্রদায়িক চেতনা জেগে উঠেনি? বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের অমূল্য মহান ত্যাগে অর্জিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রাণপ্রিয় জন্মভুমি স্বাধীন বাংলাদেশে শান্তির ধর্ম ইসলামের দোহাই দিয়ে বা অপব্যাখ্যায় দেশী-বিদেশী সব ষড়যন্ত্র,সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য রুখে দেয়ার দায়িত্ব এখন কার ? অবশ্যই আমাদের।

বিশ্ব জমিনের শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে কতিপয় উগ্র সম্প্রদায়ের বর্তমান চলমান সকল অপব্যাখ্যার মোকাবেলায় পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফের সঠিক বানী সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচার করার উদ্যেগ নিতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞানের আলোকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভেদাভেদ থাকুক না কেন দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে পড়ে তখন জাতীয় এবং সামাজিক ঐক্য এবং প্রতিরোধের আর কোন বিকল্প অবশ্যই নায়। সময় এখন ঐক্য গড়ার, সময় এখন জেগে উঠার ।

[লেখক : উপ সম্পাদক, সোনালী সন্দ্বীপ]


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন