আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘ইসলামের নামে মানুষ হত্যা জিহাদ নয়’ : আল্লামা শফী

Published on 15 July 2016 | 4: 41 am

বিদেশী, অমুসলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে দেশে সম্প্রতি ইসলামের নাম ব্যবহার করে গুলশান, শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনাকে দেশ এবং মুসলিম জাতিসত্তার জন্যে ভয়াবহ অশনি সংকেত উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্‌রাসার মহাপরিচালক হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, বেছে বেছে বিদেশি, অমুসলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হত্যা করা, হত্যার হুমকি দেওয়া, মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় হামলা প্রচেষ্টা চরম উদ্বেগজনক। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পেছনে ইন্ধনদাতাদেরকে চিহ্নিত করা বা খুঁজে বের করা সবচেয়ে জরুার। তিনি বলেন, শক্তিশালী কোন পক্ষের ইন্ধন ছাড়া বিচ্ছিন্ন ঘুটিকয়েক অপরাধীর পক্ষে এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা অসম্ভব। গতকাল সংবাদপত্রে প্রেরিত হেফাজত আমীরের প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আল্লামা শফী এসব উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও জাতীয় ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করার জন্যে বিভিন্ন অপশক্তি গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা এদেশ থেকে ইসলামকে উচ্ছেদ করে আধিপত্য ও শোষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই কাজে তারা কলেজইউনিভার্সিটির উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রসহ সরলমনা কিছু মুসলিম যুবককে আদর্শিকভাবে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যায় প্রভাবিত করে ব্যবহার করতে সক্ষম হচ্ছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। দেশ ও মুসলিম জাতিসত্ত্বা বিরোধী এই ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে দেশের আলেম সমাজ, ইসলামী নেতৃবৃন্দ, মসজিদের ইমাম ও খতীবকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষার প্রচারপ্রসারে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান জানান। তিনি বলেন, কোন মদ্যপানকারী আল্লাহু আকবার বলে মদ পান করলে যেমন কেউ সেটাকে ইসলামী মদ বলবে না, তেমনি কোন সন্ত্রাসী আল্লাহু আকবার বা ইসলামের নাম নিয়ে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য কাজ করলে সেটাকে ইসলামের জিহাদ ভাবার অবকাশ নেই।

আল্লামা শফী বলেন, সৎ ও সরল চিন্তার প্রতিটি মানুষই কোন না কোনভাবে ধর্মের প্রতি দুর্বল থাকে। কারণ, ধর্ম মানুষকে সৎ ও আদর্শবান হতে সাহায্য করে। আর দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ধর্মীয় শিক্ষার অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ শিক্ষিত বিশাল ছাত্রসমাজ পরিপূর্ণ সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান থেকে দূরে থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শত্রুরা এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে। তারা সাধারণ শিক্ষিত তরুণদেরকে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত ও বিপথগামি করতে এ কারণে সক্ষম হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মহীন শিক্ষানীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জাতির জন্যে সন্ত্রাস ও কথিত জঙ্গীবাদের বিপর্যয় ডেকে আনছে।

তিনি বলেন, মসজিদে খতীবগণকে নজরদারির কথা বলার মানেই হচ্ছে, সন্ত্রাস ও হত্যাকান্ডের দায় ইসলামের উপর চাপানোর চেষ্টা। বাংলাদেশের উপর এখন সারা বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ। খতীব নজরদারির সংবাদে বিশ্ববাসীর কাছে এমন বার্তা যাবে যে, বাংলাদেশের লাখ লাখ মসজিদের খতীব জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের কাজে জড়িত। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ধরা পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর নজরদারির কথা বলা হচ্ছে মসজিদের খতীব ও ওয়াজ মাহফিল। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সন্ত্রাস দমনে সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হেফাজত আমীর সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও কথিত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উলামায়ে কেরামকে আরো বেশী ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা করার জন্যে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উলামায়ে কেরামকে হুমকিধমকি ও হয়রানি করা বন্ধ করে বরং তাঁদেরকে উদ্বুদ্ধ করুন। স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করুন। তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদেরকে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা শিখিয়ে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন