আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘নামাজের সময় মানুষ হত্যাকারীরা মুসলমান নয়’

Published on 14 July 2016 | 3: 12 am

নামাজের সময় যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তারা কখনও মুসলমান হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বিকেলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে এই মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শোলাকিয়ার ঈদ এবং ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে তারাবির নামাজ না পড়ে যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে তারা কোনো দিন মুসলিম হতে পারে না, ইসলাম কাউকে হত্যা করতে বলেনি।’

এই ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি ঘৃণ্য অপরাধ। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদে নববীতে পর্যন্ত বোমা হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। তারা কি মানুষ? তারা মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে হেয় করেছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ঠিক যে সময় মানুষ নামাজ পড়তে যাচ্ছে জঙ্গিরা তখন নামাজ বাদ দিয়ে হামলা চালিয়েছে। যে হামলায় গুলশানে তিন বাংলাদেশি ও ১৭ জন বিদেশি নিহত হয়েছেন এবং শোলাকিয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন।

জঙ্গিরা জান্নাতে যেতে পারবে না, তারা জাহান্নামে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শান্তি-সংহতি বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার যখন কাজ করছে তখন তারা তা বানচাল করতে হামলা চালাচ্ছে।

বাংলার মাটিতে জঙ্গিদের ঠাঁই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলার মাটিকে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা-জেলা পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হবে।আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে জঙ্গিদের দেশে স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য পেশাজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ সন্তানের খোঁজ খবর নিতে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনুরোধ করে বলেন, সন্তানরা কার সঙ্গে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে মিশে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। পাড়ায় কোনো নতুন লোকের আগমণ ঘটলে তার পরিচয় এবং তার আসার উদ্দেশ্য কি তার তথ্য সংগ্রহ করবেন।

মসজিদে খুতবার সময় জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা করতে ঈমামদের অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনতে একযোগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশদের তৎপর হয়ে মাদকাসক্তদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

কনফারেন্সে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিক আহমেদ, সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মজিদ মিয়া, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিভিন্ন পেশার নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন