আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সব প্রতিষ্ঠানে সতর্কতা – নিজস্ব উদ্যোগেও কড়া নিরাপত্তা

Published on 13 July 2016 | 5: 30 am

রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার পর পরিবর্তন এসেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ও চিঠি পাঠিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগেই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও সব বিমানবন্দরে বেড়েছে নজরদারি ও সতর্কতা। নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসাকেন্দ্র বা বাসাবাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কোথাও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা, তল্লাশিও করা হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

 বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলা হচ্ছে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তা বাড়াতে বলা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর ও গণগ্রন্থাগারের মতো যেসব স্থানে বেশি লোক সমাগম হয়, সেসব স্থানে নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে।’ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১৭টি দপ্তর ও সংস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বা উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করতে সংস্থাগুলোকে মানা করা হয়েছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা উদ্যোগ :গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেসরকারি বা নিজস্ব উদ্যোগেও নিরাপত্তার উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিপণিবিতান, মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনের লোকজন জানান, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনার পর সতর্ক হয়ে উঠেছেন তারা। মিরপুরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের অনেক দোকান মালিক নিজে থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। ‘নাসির ফেব্রিক্স’ নামে একটি কাপড়ের দোকানে নতুন করে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

প্রাইম ব্যাংকের মিরপুর-১ নম্বর সেকশন শাখাতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। ব্যাংকটির কর্মকর্তা শাম্মী নাজনীন রেশমা বলেন, ‘গুলশানের ক্যাফেতে হামলার পর স্থানীয় থানা থেকে চিঠি দিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়।’ এখানে নতুন করে যোগ হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর। কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাহকসহ সবাইকে তল্লাশির পর ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। ঈদের বন্ধের সময়ও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা ছিল।

খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকার নিটল-নিলয় টাওয়ারে একটি শীর্ষ মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানের কল সেন্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপক বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাইকে পরিচয়পত্র দৃশ্যমান করে রাখতে হচ্ছে।’

গুলশানে ক্যাফেতে হামলার পর রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে হামলার হুমকি দেয় জঙ্গিরা। এর পর ওই শপিংমলসহ সব বিপণিবিতানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গণমাধ্যম কার্যালয়গুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি সতর্কতা। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কারওয়ান বাজার এলাকার কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে কড়াকড়ি। কিছু হাসপাতালেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়িতেও নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন নাগরিকরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সবাইকে পুলিশের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন