মিতু হত্যা।। অস্ত্র সরবরাহকারী ভোলা সহযোগীসহ রিমান্ডে

বাকলিয়া থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার সন্দেহভাজন অস্ত্র সরবরাহকারী এহেতাশামুল হক ভোলা ও সহযোগী মনির হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ দুই আসামিকে তিন দিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আব্দুল কাদের এ আদেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ভোলা ও তার সহযোগী মনিরকে বাকলিয়া থানার এক অস্ত্র মামলায় ৫৮ () ২০১৬ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিনদিন মঞ্জুর করেছেন।

জানা গেছে, গত ২৮ জুন মহানগর হাকিম নওরিন আক্তার কাকন অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে করা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করে তাদের কারাগারে পাঠান। এর আগে ওইদিন ভোরে বাকলিয়ার রাজাখালী থেকে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ ভোলা ও মনিরকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় সিএমপি। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেছিলেন, গ্রেপ্তারকৃত এ দুই আসামি মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিলার গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। যা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম এবং আনোয়ার হোসেন। এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আরো তথ্য পেতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভোলা ও মনিরকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। গত ২৬ জুন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন অর রশিদের আদালতে জবানবন্দি দেন ওয়াসিম ও আনোয়ার। ওই সময় আসামি মোতালেব ওরফে ওয়াসিম জানান, পুলিশের বড় সোর্স’ আবু মুছার নির্দেশেই এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে খুন করা হয়েছে। জবানবন্দিতে তারা আরো জানান, আবু মুছার নির্দেশে জিইসি মোড় এলাকার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুনের জন্য তারা গত ৫ জুন ভোরে জড়ো হয়। এই হত্যা মিশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল মুছার ওপরই। তার নির্দেশনা মতে টাকার বিনিময়ে মোট সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। তারা হলেনআবু মুছা, ওয়াসিম, রাশেদ, নবী, কালু, শাহজাহান ও আনোয়ার। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে এহতেশামুল হক ভোলার নাম জানায় তারা। এরমধ্যে নবী ও রাশেদ গত ৫ জুন রাতে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান।

গত ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি এলাকায় বাবুল আক্তারের স্ত্রী গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের। এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তথ্য বের করে আনতে ভোলা ও মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market