আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মিতু হত্যা – গ্রেফতারের পর নিখোঁজ মুছা, সন্ধান চান স্ত্রী

Published on 04 July 2016 | 7: 41 am

পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ওরফে মিতু ‍আক্তারকে হত্যার ঘটনায় কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছাকে পুলিশ ১৩ দিন আগে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী পান্না আক্তার। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার না করায় এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে মুছার ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছে জানতে চেয়েছেন তার স্ত্রী।

সোমবার (০৪ জুলাই) পান্না এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মুছা দোষ করলে অবশ্যই দোষী হবে, সাজা পাবে।  তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা হোক।  তাকে আদালতে হাজির করা হোক।  বিচারে যেটা হবে সেটা আমরা মেনে নেব। কিন্তু তাকে মেরে ফেলার কথা আসছে কেন? মুছার ভাগ্যে কি ঘটেছে আমাদের জানান।

‘আমি স্ত্রী হিসেবে আমার স্বামীকে জীবিত ফেরত চাই।  আমার ধারণা সে বেঁচে আছে।  অনেকে বলছে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমি এটা বিশ্বাস করি না। ’ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন পান্না।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মুছাকে গ্রেফতারের বর্ণনাও দেন পান্না আক্তার।

তিনি জানান, ২২ জুলাই সকাল ৭টার দিকে মুছা, পান্না ও তাদের দুই ছেলে এবং মুছার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার নগরীতে এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন।  সকাল ৯টার দিকে একদল পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে হাজির হয়।  পুলিশ সবাইকে বন্দর এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে।  সকাল ১১টার দিকে মুছা ও তার ভাইকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়।

আটক অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম এবং পুলিশ পরিদর্শক নেজাম উদ্দিনকে (বতর্মানে ইমিগ্রেশনে কর্মরত) পান্না আক্তার চিনতে পেরেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আটকের ১০ দিন পর গত শুক্রবার সাইদুল ইসলাম সিকদারকে পুলিশ রাঙ্গুনিয়া থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।  কিন্তু গত ১৩ দিন ধরে মুছার কোন খোঁজ পাচ্ছি না।  আমি রাঙ্গুনিয়া থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম।  কিন্তু তারা আমার জিডি গ্রহণ করেনি।

মুছার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ কয়েকদিন নজরবন্দি করে রেখেছিল বলেও দাবি পান্না আক্তারের।

মুছা ২০০৩ সাল থেকে প্রশাসনের সোর্স হিসেবে কাজ করছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পান্না আক্তার।  তবে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে মুছা কাজ করত কিনা সেটা জানা নেই বলে জানিয়েছেন পান্না।

‘আমি বাবুল আক্তারকে চিনি না।  কখনও তার নাম শুনিনি।  কখনও তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।  বাবুল আক্তারের বিষয়ে কখনও আমার স্বামী আমাকে কিছু বলেনি। ’ বলেন পান্না আক্তার।

ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বাবুল আক্তার মুছার বাসায় অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন কিনা, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরোয়াভাবে জন্মদিন করেছি।  ভালভাবে আত্মীয়স্বজনদেরও বলিনি।  প্রশাসনের কাউকে বলিনি। ’

‘বাবুল আক্তারের সঙ্গে যদি আমার স্বামীর ভাল সম্পর্কই থাকে তাহলে তার স্ত্রীকে সে মারবে কেন ? অনেক অফিসারের সঙ্গেই তো মুছার ভাল সম্পর্ক ছিল।  কিন্তু বাবুল আক্তারের কথা তো আমি তার মুখে কখনও শুনিনি। ’ বলেন পান্না

তাহলে মুছাকে ফাঁসানো হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে একথা আমি বলব না।  তবে মুছা বিএনপি করত, এটাই তার দোষ।

হত্যাকাণ্ডের সময় মুছা নিজের বাসায় ছিল দাবি করে পান্না আক্তার বলেন, এসময় সে বসে বসে টিভি দেখছিল।  আমি রমজানের বাজার গুছিয়ে রাখছিলাম।  সে খুব নরমাল ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে মুছাকে দেখা গেছে বলা হলে পান্না বলেন, এটা সন্দেহ।  মুছা কিনা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

‘এখন শুনছি মুছা নাকি খুনের নির্দেশদাতা।  মুছা কেন খুন করতে যাবে ? তার কি স্বার্থ ? মুছাকে আদালতে হাজির করা হোক।  তারপর সবকিছু পরিস্কার হবে। ’ বলেন পান্না আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে মুছার দুই ছেলে শামসুদ্দোহা সিকদার সানি (১০) ও নূরুদ্দোহা সিকদার সানজু (৭) এবং শ্বশুর ফারুক সিকদার উপস্থিত ছিলেন।


Advertisement

আরও পড়ুন