আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বকশিসের নামে হিজড়াদের চাঁদা আতংকে নগরবাসী

Published on 25 June 2016 | 7: 00 am

সোনালী নিউজ প্রতিবেদন : সারাবছরই হিজড়াদের উৎপাত। অফিস-আদালত, বাসা-বাড়ী, বিয়ের অনুষ্ঠান সর্বত্রই এক ধরনের চাঁদাবজীতে ব্যাস্ত হিজড়ারা। হিজড়াতঙ্কে ভুগছে নগরবাসী। ইদানিং এদের নেটওয়ার্ক গ্রামের দিকেও সম্পসারিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে্‌ এদের সন্ত্রাসী অপতৎপরতা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবী উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এদিকে ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম মহানগরী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে হিজড়াদের তৎপরতা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। হিজড়াদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট নগরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী তথা চাকুরিজীবিরাও। এখন মানুষ হিজড়াতঙ্কে ভুগছে বললেও অতুক্তি হবেনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে অফিস-আদালত থেকে শুরু করে মার্কেট, অলিগলির দোকান, সেলুন, হকার কেউই বাদ যাচ্ছেনা হিজড়াদের চাঁদাবাজী থেকে। বখশিসের নামে টাকা তোলার যে রীতি হিজড়াদের মধ্যে প্রচলন ছিল তা এখন বখশিষে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের এ কর্মকান্ড চাঁদাবাজীর রেকর্ডকেও হার মানাচ্ছে। অফিস আদালত, শপিং মলের দোকানদার, শো রুম, গলির দোকানদার অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রতিষ্ঠান ভেদে হিজড়াদের একটা মাসিক চাঁদা ধার্য করা আছে।

এর বাইরে বিভিন্ন ঈদ-পূজা-পার্বন-উৎসবকে ঘিরে তাদেরকে কয়েকগুন বাড়তি টাকা গুনতে হয় হিজড়াদের পিছনে। চাঁদার সকল অঙ্কই হিজড়ারা নির্ধারণ করে দেন। কারো সামর্থ্য, দেয়ার ইচ্ছা, সমস্যা কোনটাই তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। এভাবে জোরপূর্বক টাকা উঠানোকে কোনমতেই বখশিষ হিসেবে মানতে নারাজ চট্টগ্রামের সাধারণ জনগন।

হিজড়াদের চাঁদাবাজীর স্বীকার এরকম অনেকেই বলছেন, জোর করে আদায় করলে সেটা বখশিস নয় পরিস্কার চাঁদাবাজী। খুশি মনে যে যা দেয় সেটাই বখশিস। এখন মানুষ সকাল বেলা অফিস, দোকানপাট খুলেই আতঙ্কে থাকেন কখন হিজড়ারা আসছেন তাদের দাবী নিয়ে। কেউ তাদের দাবীমত টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্নভাবে তাদেরকে হেনস্থা করা হয়। মোবাইলে একাধিক হিজড়াকে ঢেকে এনে সেখানে ঝটলা পাকিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়। তখন নিরূপায় হয়েই হিজড়াদের চাহিদা মত টাকা দিয়ে নিস্তার পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। 

হিসাব করলে দেখা যাবে দৈনিক একজন হিজড়ার গড় আয় কয়েক হাজার টাকা। তাদের কারো কারো ব্যবহৃত মোবাইলের দাম অর্ধলক্ষ টাকা বলেও একজন হিজড়া ঘনিষ্ট আগ্রাবোদের এক চা ব্রিক্রতা এই প্রতিবেদককে জানান।

এদিকে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। প্রশাসন এ বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে একপ্রকার নিরবে হিজড়াদের চাঁদাবাজীকে সমর্থন করে যায়। আকারে ইঙ্গিতে বুঝানোর চেষ্টা করে দিয়ে দেন, তারা য চায় তা-ই দিয়ে দেন। এ যখন অবস্থা তখন ভুক্তভোগীরা এ চাঁদার ভাগ প্রশাসনও পেয়ে থাকেন বললে করার কিছুই থাকেনা।

পহেলা বৈশাখ, ইংরেজী নববর্ষ, ঈদ, কোরবান, পূজা কোনটাই বাদ যায়না হিজড়াদের হিসাব থেকে। তার উপর কেউ মারা গেলে তার জন্যও হিজড়াদের টাকা দিতে হয়। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন হিজড়াদের কত টাকা লাগে এসব উৎসব পার্বনে। তারা যেভাবে গনহারে চাঁদাবাজী করে তাতে প্রতিটা উপলক্ষেই কয়েকগুন বেশী টাকা তারা তোলেন। প্রতিমাসের নির্দিষ্ট তারিখে তাদের মাসিক মাসোহারা দিয়ে দিতে হয়। এমন অনেক অফিসও আছেন যেখানে কয়েকমাস ধরে কর্মচারীরা তাদের বেতন পান না অথচ প্রতিমাসের নির্দিষ্ট তারিখেই হিজড়াদের টাকা পরিশোধ করতে হয়। এখানে যে ব্যবসা নেই, আয় রোজগার নেই, প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে কোন কিছুই তাদের ভাবনায় ছেদ কাটেনা। তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, স্বাভাবিক মানুষ না হয়ে হিজড়া হওয়াতোই ভাল ছিল।

সহজ ও বিনা পরিশ্রমে অধিক আয়ের কারণে হিজড়া পেশাটি এখন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক স্বাভাবিক নারী পুরুষও হিজড়া বেশে দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজী। দেখার কেউ যেন নেই। হিজড়ারা কিভাবে চলবে বা দিনাতিপাত করবে সেটা একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তাই বলে তারা জোর করে প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদাবাজী করবে আর পুরো জাতি চোখ বুজে তা সহ্য করবে এমনতো হতে পারে না। ভুক্তভোগীদের অভিমত, এখনো সময় আছে। এসব চাঁদাবাজী বন্ধে সরকার বা প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তা মহামারি আকার ধারণ করবে। তখন ইচ্ছে করলেও এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না।


Advertisement

আরও পড়ুন