আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ঈদ উৎসব থেকে এবারো বঞ্চিত ৪৫ লাখ পরিবার

Published on 24 June 2016 | 5: 05 pm

শেখ মোসলেহ উদ্দিন বাদশা, খুলনা :::
মানবাধিকার যেখানে নিশ্চুপ, ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সেখানে বাধা। ডেসটিনি গ্রুপের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা এখনো জেলে। গ্রুপের সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, ১৩ লাখ নারী ও ২৫ লাখ যুবকসহ ৪৫ লাখ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র গত ৫২ মাস পরিলক্ষিত হলেও টনক নড়ছে না সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের। অন্যদিকে ডেসটিনিসহ আটক শীর্ষ দুই কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে সম্প্রতি দেশব্যাপী মানববন্ধনে আজ প্রমাণিত ডেসটিনির বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিবিউটরদের কোনো অভিযোগ নেই। প্রশ্ন হলো, তাহলে কাদের স্বার্থে বা কাদের অভিযোগে ডেসটিনি বন্দি? কেন গত ৫২ মাস যাবৎ ডেসটিনির ৪৫ লাখ মানুষ ঈদের আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত?
এবারো এই উৎসব থেকে বঞ্চিত হবার আশঙ্কা করছে ডেসটিনি পরিবারের সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ। সরকার যখন ঘোষণা দিয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ বোনাসের, সেখানে ডেসটিনি গ্রুপের চলমান প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত হাজার হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৫২ মাস ধরে বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত। ঈদের বোনাস বা ঈদের উৎসব ওদের কাছে যেন আজ স্বপ্ন। ওদের মানবেতর জীবনযাপনের করুণ চিত্র বা ওদের দাবিদাবা শুনছেন না বর্তমান সরকার। বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। অন্যদিকে বিনাবিচারে ৪ বছর কোম্পানির এমডি ও চেয়ারম্যান জেলের অন্ধকার কারাগারে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছেন।
তথ্যানুন্ধানে আরো জানা যায়, সকল ধর্ম-বর্ণ মানুষের সমন্বয়ে বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লিঃ। ৪৫ লাখ পরিবারের সাথে জড়িত দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ। গত ৫২ মাস ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঐসব পরিবারের মাঝে চলছে নিদারুণ দারিদ্র্য। সারাদেশে ডেসটিনি পরিবারগুলোতে চলছে অভাব-অনটন। চিকিৎসার অভাবে বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। আবার অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সন্তানদের লেখাপড়া। ঈদ মানে খুশি। এ যেন ভুলে গেছে তারা। গত ৮টি ঈদের আনন্দ উৎসব থেকে তারা বঞ্চিত। এবারো নবম ঈদের আনন্দ উৎসব তাদের ভাগ্যে মিলবে কি না জানেন না ভুক্তভোগী ডেসটিনি পরিবার। একইভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের লাখ লাখ মানুষ জড়িত ডেসটিনির সাথে। তারাও তাদের নানান উৎসব থেকে আজ বঞ্চিত। প্রতিটি উৎসবের পূর্বে বঞ্চিতরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানান, মুক্তি দিন ডেসটিনি তথা আটক কোম্পানির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে। ডেসটিনির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল ১৭ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটরসহ ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দৈনিক ডেসটিনির পত্রিকার শতাধিক সাংবাদিক পরিবার। জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা গত ৫২ মাস যাবৎ সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানপূর্বক সরকারের সর্বমহলসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মানবিক দাবি তুলে ধরেছেন, ঈদের আগেই যেন মুক্তি মেলে ডেসটিনিসহ আটক কোম্পানির এমডি ও চেয়ারম্যানের। এ ব্যাপারে ডেসটিনির বিভিন্ন পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে কথা বললে তারা এইভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
খুলনার মামুন শরীফ বলেন, ঈদের উৎসব ভুলে গেছি। আমি ডেসটিনির একজন বিনিয়োগকারী। ডেসটিনির বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
বিনিয়োগকারী প্রতিবন্ধী সাহিদা বলেন, ডেসটিনিতে আমার ও পরিবারের বিনিয়োগ ১৭ লাখ টাকা। আমরা সরকারের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। তাহলে কাদের কারণে ডেসটিনি বন্দি। মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আমার টাকা ডেসটিনিতে নিরাপদ। অথচ ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ হবার পর থেকে আমিসহ আমার এলাকার বহু পরিবারে চলছে মানবেতর জীবনযাপন। তিনি আরো বলেন, ২০০৪ সালে আমি ডেসটিনি আসার পর ভালো চলছিল আমার সংসার জীবন। ২০১২ সালে ডেসটিনি বন্ধ হবার পর থেকে কি অবস্থায় আছি তা বলে বোঝাতে পারব না।
আছাদুর রহমান পিয়ারুল বলেন, দুদকের মিথ্যা মামলায় ডেসটিনির কার্যক্রম যখন সরকার বন্ধ করে দেয় তখন আমিও ডেসটিনি মুক্তির মিছিলে যোগদান করি। অদ্যাবধি ডেসটিনি মুক্তির অপেক্ষায় আছি। ঢাকার মো. খোরশেদ আলম বলেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিবিউটরদের কোনো অভিযোগ নেই। অথচ ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ করে রাখায় দেশে লাখ লাখ মানুষ বেকার। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সারাদেশে ডেসটিনি মুক্তির মানববন্ধন প্রমাণ করেছে ডেসটিনি তথা আটক কোম্পানির এমডি ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ডেসটিনির ৪৫ লাখ মানুষের কোনো অভিযোগ নেই। ভুক্তভোগী ডেসটিনির লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীর দাবি, ঈদের আগেই যেন মুক্তি মেলে আটক এমডি ও চেয়ারম্যানের। তারা এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সুত্র : দৈনিক ডেসটিনি


Advertisement

আরও পড়ুন