আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চকচকে মোড়কে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই, সরিষার তেলে মেশানো হচ্ছে রং ।। তিন প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা

Published on 24 June 2016 | 4: 07 am

অপরিষ্কার ও নোংরা পানি দিয়ে তৈরি বাংলা সেমাই খোলা আকাশে শুকানো এবং পচা মিষ্টি বিক্রির দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মেয়াদোর্ত্তীণ ঘি ও পচা ইলিশ মাছ বিক্রি এবং ওজনে কম দেয়ার ঘটনায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান পরিচালিত হয় নগরীতে। অভিযানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানার খোঁজ পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বাকলিয়ার চরচাক্তাই নয়া মসজিদ এলাকার হোসেন ফুড অ্যান্ড কোম্পানির কারখানায় হানা দেন। এ সময় ওই কারখানা থেকে দুই মণ পচা মিষ্টি জব্দ করা হয়। এ ছাড়া নোংরা পরিবেশে পাম তেলে ভাজা নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই তৈরির অপরাধে কারখানার মালিক সুরুজ পালকে (৫৩) নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৬ ধারা অনুযায়ী আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, এ কারখানায় উৎপাদিত নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই চকচকে মোড়কে ভরে সারাদেশে বাজারজাত করা হচ্ছে। ওই কারখানার পরিবেশ অত্যন্ত বাজে। পোকামাকড় কিলবিল করছে। তিনি আরো জানান, চাক্তাই শেখ মোশারফ হোসেন সড়কের মোহসেন আউলিয়া অয়েল মিলে সরিষার তেলে রং মেশানোর দায়ে মালিক মোহাম্মদ রুবেল (২৭) ও মোহাম্মদ নয়নকে (৩০) ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪১ ও ৪৩ ধারায় ২ লাখ টাকা এবং শফিল অয়েল মিলের মালিক মোহাম্মদ করিমকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে বহদ্দারহাট এলাকার হক মার্কেটের বাগদাদ স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি পেয়েছে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। করপোরেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফোরকান এলাহি অনুপমের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে। মোবাইল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বাগদাদ স্টোরকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি ও বেশি দামে পণ্যসামগ্রী বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে পচা ইলিশ মাছ বিক্রি ও ওজনে কম দেওয়ার দায়ে মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ মুসলিমকে ৫ হাজার টাকা, মহিষের মাংসকে গরুর মাংস বলে বিক্রি ও কসাইখানার রশিদ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় মাংস বিক্রেতা আনোয়ার হোসেনকে ৫ হাজার টাকা, মোহাম্মদ জুয়েলকে ৫ হাজার টাকা, মোহাম্মদ সেলিমকে ৫ হাজার ও নোয়াব আলীকে ২ হাজার টাকাসহ মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।


Advertisement

আরও পড়ুন