আজ বৃহঃপতিবার, ২৪ মে ২০১৮ ইং, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘তনু হত্যার তদন্তে চিকিৎসকরা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা দেননি’

Published on 23 June 2016 | 4: 06 am

সোহাগী জাহান তনুর ময়নাতন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান।

তিনি বলেছেন, ‘ওই চিকিৎসকদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে আমাদের কাজ করতে সহজ হতো।’ বুধবার সিআইডি কুমিল্লা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে সিআইডির তদন্ত দল বুধবার আবারও সেনানিবাসে তনুর মরদেহ উদ্ধারের স্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা তনুর বাবা-মা ও ক্যান্টনমেন্ট পর্ষদ বয়েজ স্কুলের শিক্ষক শিকদার কামালের সঙ্গে কথা বলেন। সকালে সিআইডি কুমিল্লা কার্যালয়ে সেনানিবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া তিন শিল্পীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি তিনি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন বলেও বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

সিআইডি কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান গতকাল সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘কিছুটা বিলম্ব হলেও তনু হত্যার বিচার হবে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সিআইডি সত্যকে প্রমাণ হিসেবে প্রকাশ করেছে। হত্যাকারীরা যতই ক্ষমতাসীন হোক না কেন, দেরিতে হলেও তাদের শাস্তি পেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তিন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল সিআইডির হাতে রয়েছে। কেউ মরে পচে গেলেও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আসামি শনাক্ত করা যাবে।’

সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেফতার করা ঠিক হবে না। শতভাগ নিশ্চিত হয়েই তদন্ত সামনের দিকে এগোবে।

সন্দেহভাজনদের সঙ্গে হাতে থাকা তিনজনের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর বিষয়ে ঢাকা অফিসে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে সব সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখা হবে। তনুর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, থানায় জিডি করলে আমরা অবশ্যই তা দেখব।

একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে তদন্ত সহায়ক দলের সঙ্গে কুমিল্লার সিআইডি দলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তনুর বাবা সেনানিবাস বোর্ডের কর্মচারী মো. ইয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম কোনো খোঁজ-খবর নেননি।’

তিনি অভিযোগ করেন, তনু হত্যার বিচারের দাবিতে যারা আন্দোলন করে আসছে, জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদেরই হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আর হারানোর ভয় নেই, মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে কোনো ভয়ভীতিতেই আমি পিছু হঠবো না।

তদন্ত সূত্র জানায়, সিআইডি কুমিল্লার কার্যালয়ে বুধবার শিল্পী সারওয়ার ও বাপ্পি এবং মিউজিশিয়ান খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদে ১৮ মার্চ ও পরের দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

ওই অনুষ্ঠানে গান গাইতে অস্বীকৃতি জানানোয় তনুকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার মা আনোয়ারা বেগম একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। শিল্পীরা বুধবার জানিয়েছেন, তারা টাকার বিনিময়ে গান করেন। মিউজিশিয়ান খোকন তাদের সেনানিবাসের ওই অনুষ্ঠানে নিয়ে যায়। ২০ মার্চ লাশ উদ্ধারের পর তারা তনুকে চিনেছে। তনুর ১৮ মার্চের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।


Advertisement

আরও পড়ুন