আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জাতিসংঘ পার্ক এখন আবর্জনার ভাগাড়! ।। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা

Published on 23 June 2016 | 4: 04 am

রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ‘অবহেলায়’ নগরীর জাতিসংঘ পার্কটি সৌন্দর্যের দিক থেকে অস্তিত্ব হারিয়েছে অনেক আগেই। এখন আবার স্থানীয় জনগণের আপত্তির মুখেই পার্কটিতে ফেলা হচ্ছে খালনালা থেকে উত্তোলনকৃত ময়লাআবর্জনা। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ লোকজন পার্কটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এর আগে পার্কটিকে ঘিরে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের বিষয়ে সরকার যখন তৎপর ঠিক সেই মুহূর্তে চসিকের এমন উদ্যোগের বিষয়ে দৈনিক আজাদীতে সংবাদ প্রকাশিত হলে হস্তক্ষেপ করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত ১৭ মে চসিককে নোটিশও দেয়। এতে ‘উক্ত পার্কটিতে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের সুবিধার্থে কোন ধরনের নির্মাণ কাজ না করার জন্য চসিককে অনুরোধ করা হয়েছিল’। এদিকে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জাতিসংঘ পার্কে ময়লাআবর্জনা ফেলছে সিটি কর্পোরেশন। চলমান খাল খনন কাজে বিভিন্ন নালানর্দমা থেকে এসব মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব ময়লাআবর্জনা থেকে নির্গত দুর্গন্ধ আশেপাশের পরিবেশকে দূষিত করে তুলছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। পার্ক সংলগ্ন সুবসতি ও এএনজেড ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে দৈনিক আজাদীকে বলেন, আবাসিক এলাকার ভেতর যেভাবে ময়লাআবর্জনা ফেলা হচ্ছে তা মোটেই কাম্য নয়। এতবছর পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থেকেও অযত্নেঅবহেলায় পার্কটির সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। ব্যবহার অনুপোযোগী করা হয়েছে। এখন আবার ময়লাআবর্জনা ফেলে আমাদের থাকার পরিবেশও নষ্ট করা হচ্ছে। গতকাল বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পার্কটির উন্মুক্ত স্থানে ময়লাযুক্ত মাটির স্তূপ। একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটিগুলো সমান করা হচ্ছে। এসময় রহিম নামে এক পথচারী বলেন, আজ (গতকাল) সকালেও মাটি ফেলা হয়েছে।

পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ সেলিম বলেন, প্রায় প্রতিদিন এখানে ময়লাযুক্ত মাটি ফেলা হচ্ছে। নালা থেকে তোলা আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লাআবর্জনা থেকে নির্গত দুর্গন্ধে আমাদের বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ কোন ময়লা ফেলছে না। আমি নিশ্চিত করে বলছি ফেলছে না এবং ভবষ্যিতেও ফেলবে না। এখন যেসব মাটি রয়েছে সেগুলো ইতোপূর্বে উত্তোলনকৃত মাটি। জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন ওখানে মাটি ফেলছে। বিষয়টি আমরাও জেনেছি এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

এদিকে গত ৫ জুন নগরীর জাতিসংঘ পার্কের ভেতর গেস্ট হাউস ও কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ করাসহ ২৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে আরো যে দাবি করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছেপার্কটিকে চিত্ত বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত রাখা, শিশু কিশোরদের জন্য খেলাধূলার স্থান রাখা, উন্মুক্ত জলাধারে সাঁতারের ব্যবস্থা রাখা, হাঁটার ব্যবস্থা রাখা, পার্কের জিমনেশিয়ামে ইনডোর গেইমের ব্যবস্থা রাখা, পার্কটিকে সবুজ বনায়ন সৃষ্টি করা, তালা বন্ধ নয়, উন্মুক্ত পার্কের ব্যবস্থা রাখা, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নারী পুরুষের জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা, সুইমিং পুলে এলাকাবাসীর জন্য সাঁতারের সুযোগ করে দেয়া, পার্কে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা, জাতিসংঘ পার্ক নাম বদলে পাঁচলাইশ পার্ক নামকরণের উদ্যোগ নেয়া, পার্কে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন