আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ ।। একসাথে আড়াই হাজার লোকের ইফতার

Published on 23 June 2016 | 3: 59 am

ইফতারের তখনো ঘণ্টা দুয়েক বাকি। কিন্তু ইফতার আয়োজনের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মত। লাইনের পর লাইন ধরে বিছানো হচ্ছে চাদর, তার ওপর রাখা হচ্ছে শরবতের গ্লাস, ইফতারির প্লেট। জনা চল্লিশেক লোক একসাথে করে চলেছে এমন আয়োজন। দেখেই বুঝা যাচ্ছিল বড়সড় আয়োজনে ব্যস্ত তারা। এমন চিত্র দেখা গেছে গতকাল জিইসি মোড়স্থ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবাদতখানায় (আসলে মসজিদ)। রোজাদার মুসল্লিদের মুখে ইফতারি তুলে দিতে মসজিদের বাইরে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। কিন্তু এতো আর গুটিকয়েক মানুষের জন্য নয়, হাজার হাজার মুসল্লিকে একসঙ্গে ইফতার করানোর ব্যবস্থা। যে কারণে অনেক মানুষ একযোগে হাত চালাচ্ছেন প্রস্তুতিতে। আসরের আগে থেকেই প্রতিদিন এখানে চলে এমন বিশাল আয়োজন। দুপুরের পর থেকে আয়োজন শেষে একসাথে ইফতারে মিলিত হোন আড়াই হাজার রোজাদার ণ্ডএমনটাই জানালেন আয়োজকরা।

মাগরিবের আজানের আগ মুহূর্তেই ইফতারের এ আয়োজনকে ঘিরে সৃষ্টি হল সম্প্রীতির অনুপম এক দৃশ্য। আগেই বিছানো প্লাস্টিক ম্যাটকে ঘিরে চারপাশে বসে পড়েন রোজাদার মুসল্লিরা। ম্যাটে রাখা এক প্লেটে করে প্রত্যেক জনের জন্য হিসাব করে সরবরাহ করা হল ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, খেজুর, পেঁয়াজু। এর বাইরেও ছিল গ্লাসভর্তি শরবত ও বাটি ভর্তি হালিম। সাজিয়ে রাখা ইফতারি সামনে রেখে দোয়াখায়ের করেছেন রোজাদাররা। মসজিদের ভেতর থেকে পরিচালিত দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে আমিনআমিন। মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিরা মুখে ইফতারি তুলতেই সার্থকতা পেল এমন আয়োজন। হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির এমন সুন্দর সম্মিলনে হারিয়ে গেল ধনীগরিবের ব্যবধানসহ সব ভেদাভেদ।

সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর তদারকিতে গত চার বছর ধরে এ মসজিদে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক ইফতারে ভাগিদার হচ্ছেন। তবে চলতি বছর এ আয়োজন রূপ নিয়েছে ব্যাপকভাবে।

রোজা পালনে ইফতারের ফজিলত অপরিসীম এবং সময়মতো ইফতার করার মধ্যে রয়েছে অশেষ সওয়াব ও কল্যাণ। সারাদিন রোজা পালন করে যথাযথভাবে সময়মতো ইফতার করার গুরুত্ব অত্যধিক। ইফতারের সময়টি যেমন সুনির্দিষ্ট করা, তেমনি এ সময় আল্লাহর কাছে রোজাদার ব্যক্তির দোয়াও কবুল করার পরম মুহূর্ত।

কোনো রোজাদারকে মাহে রমজানে ইফতার করানোয় অশেষ সওয়াব ও নেকি অর্জন করা যায়। সারা দিন সিয়াম শেষে একজন রোজাদারের ইফতার করা ও করানোর মধ্যে রয়েছে আনন্দ ও অশেষ নিয়ামত এবং বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার জন্য গুনাহ মাফ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে এবং সে রোজাদারের সমান সওয়াবের অংশীদার হবে। অথচ রোজাদারের সওয়াবের মধ্যে কোনো কম করা হবে না।

সে কারণেই রোজাদারকে ইফতার করানোর প্রচেষ্টা দেখা যায় অনেকের মধ্যে। রোজাদারকে ইফতার করানোর মধ্য দিয়ে আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে প্রতিবছর রমজানে রোজাদারদের ইফতার করানো হয়। চলতি বছর সেটি বর্ণাঢ্য রূপ লাভ করেছে সাবেক মেয়রের প্রচেষ্টায়। এখন প্রতিদিন আড়াই হাজার লোক একসাথে ইফতার করেন এখানে। রাস্তায় থাকা লোকজন, রিকশাসিএনজি চালক, জিইসির আশপাশের এলাকায় শপিং করতে আসা লোকজন, হাসপাতালে থাকা রোগীর স্বজন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এখানে নাগরিক ইফতারে শরীক হোন। দলীয় নেতাকর্মীরাও আসেন। মূলত, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নিজস্ব অর্থায়ন আর দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজাদারদের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওসমান গণি বলেন, রোজাদারদের জন্য সরাসরি মদিনা শরীফ থেকে খেজুর নিয়ে আসা হয়েছে, সে খেজুর, সাখে ছোলা, পেয়াজু, কখনো হালিম, কখনো বিরানি দিয়ে রোজাদারদের আপ্যায়ন করা হয়। শুধু পুরুষরাই নয়, মহিলারাও এখানে ইফতারে অংশ নেন, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিভিন্ন আলেমওলামা, ইসলামী স্কলাররা ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।


Advertisement

আরও পড়ুন