রূপালী ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম অডিট আপত্তির ২৮৭০ কোটি টাকা অনাদায়ী

রূপালী ব্যাংকের অডিট আপত্তির ২ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা এখনও অনাদায়ী। এ অর্থ ব্যাংকের মোট মূলধনের চেয়ে ১১৯ শতাংশ বেশি। বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতর ৩৫৫টি ঘটনায় এ পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছে। তবে এ পর্যন্ত অডিট আপত্তির ২৬০ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
রূপালী ব্যাংকের ওপর তৈরি করা বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিরীক্ষা বিভাগ বলেছে, রূপালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় দুর্বলতা রয়েছে। তা পরিহারসহ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও অন্যান্য ব্যয় কমাতে হবে। একই সঙ্গে অনাদায়ী অর্থ আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. ইব্রাহিম খালেদ বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের অনাদায়ীর পরিমাণ বাড়লে তা অবশ্য খারাপ। কারণ এতে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। এ ঘাটতি শেষ পর্যন্ত জনগণের করের অর্থ দিয়ে পূরণ করা হয়, যা অনৈতিক বলে আমি মনে করি।
জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের হিসাবের ওপর বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতর নিরীক্ষা পরিচালনা করে। এতে দেখা গেছে, ৬৩২টি আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় ৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৫৫টি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। যার সঙ্গে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। ব্যাংকটির ওপর ২০০৩-১০ সাল পর্যন্ত বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৪টি অডিট আপত্তি দেয়া হয়। যার সঙ্গে ৭২৭ কোটি টাকা জড়িত থাকার সন্ধান পাওয়া যায়। ২০০৯-১১ অর্থবছরে অডিট আপত্তি উঠে ২৮৮ কোটি টাকার।
নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যাংকটিতে বেড়েছে অলাভজনক শাখার সংখ্যা। ওই সময়ের হিসাবে মোট অলাভজনক সংখ্যা ৮টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ২০১৩ সালে মোট ঋণ ও অগ্রিম ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১০ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে রূপালী ব্যাংকে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা এবং ২০১৪ সালে এতে তা কিছুটা নেমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৩ সালে কুঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা এবং ২০১৪ সালে এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।
ঋণ প্রসঙ্গে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রিম ও ঋণ খাতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা অনাদায়ী দেখানো হয়েছে। ব্যাংকটিকে সাধারণ ঋণ ও সিসি ঋণের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়। একই সময়ে অনাদায়ী টাকার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যাসহ সমুদয় টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়। এদিকে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে রূপালী ব্যাংকে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মন্দ ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও নিুমানের ঋণের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। সেখানে শ্রেণীবিন্যাস ঋণ আদায়ে আরও সজাগ হওয়ার জন্য ব্যাংকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়, স্থিতিপত্রের অন্যান্য সম্পদ অংশে সাসপেন্স হিসাব উপখাতে ১০৯ কোটি টাকা অসমন্বয় দেখানো হয়। দ্রুত এ অসন্বিত টাকা যথাযথ হিসাবে সমন্বয় করতে বলা হয়।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market