রাত থেকেই প্লাটফর্মে অবস্থান – ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

ঈদ উপলক্ষে আজ বুধবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আজ দেয়া হচ্ছে ১ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট। এছাড়া ২৩ জুন ২ জুলাই, ২৪ জুন ৩ জুলাই, ২৫ জুন ৪ জুলাই এবং ২৬ জুন ৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে।

এদিকে টিকিট পেতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নিয়েছে ঈদে ঘরমুখো টিকিট প্রত্যাশীরা। রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্টেশনের বারান্দায় কেউ ঘুমিয়ে, কেউ বসে গল্প-গুজবে আবার কেউ কার্ড খেলার আড্ডায় মেতে রয়েছে। তবে সেহরীর পর থেকে স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

টিকিট প্রত্যাশী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ চাকুরে অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, এভাবে প্রতিবছর টিকিটের জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করেও অনেক সময় কালোবাজারি বা জালিয়াতির কারণে টিকিট পাওয়া যায় না। মানুষের ভিড়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তাদের কথা হলো- দেশের অনেক সেবা সেক্টর তো এখন ডিজিটালাইজড। তাহলে ট্রেনের টিকিট পেতে এভাবে অপেক্ষা বা ভিড়-বাড়তি না করে অনলাইনে টিকিট বুকিং সিস্টেম করলে সব পক্ষেরই কষ্ট কমে। ঝামেলা চুকে।

টিকিট প্রত্যাশীরা মনে করেন, অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের বিপরিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট ছাড় দিলে কালোবাজারি রোধ করা যাবে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনে আগের চেয়ে ৮টি কাউন্টার বাড়িয়ে বর্তমানে ২৩টি কাউন্টার করা হয়েছে। নারীদের একটি কাউন্টার রাখা হয়েছে। কাউন্টারের সামনে নারীদের লাইন বড় হলে তাৎক্ষণিক তাদের জন্য আরেকটি কাউন্টার খোলা হবে। তিনটি কাউন্টার এক্সট্রা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার কাউন্টার সংলগ্ন ওয়ালে, পিলারে ফ্যান লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারি রোধে কাউন্টারের ভেতর, বাহির ও বিশেষ বিশেষ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। টিকিট বিক্রির সময় দায়িত্বশীল অফিসার ছাড়া কেউই কাউন্টারের ভেতর প্রবেশ করতে পারবে না। বুকিং সহকারী মাস্টারদের প্রত্যেককে তল্লাশি করে কাউন্টারের ভেতর ঢুকানো এবং বাহির করা হবে। র‌্যাব, বিজিবি এবং রেলওয়ের আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা স্টেশন এবং স্টেশনের চত্বরে নিয়োজিত থাকবেন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, সবক’টি কাউন্টারে নতুন প্রিন্ট মেশিন এবং সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে। আধুনিক এসব সরঞ্জাম দিয়ে ১৬ সেকেন্টের মধ্যে একটি টিকিট কাটা সম্ভব এবং ৪টি টিকিট একসঙ্গে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কাটা যাবে।

গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, ২২ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ১ থেকে ৫ জুলাইয়ের ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে। ৪ জুলাই থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও খুলনা থেকে বিক্রি হবে ঈদের ফিরতি টিকেট।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market