আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিক্রি নেই স্ট্যাম্প, রাজস্বে বিপুল ক্ষতি

Published on 22 June 2016 | 3: 04 am

মো. আব্দুল কাইয়ুম। ১৬ বছর ধরে সিএমএম আদালতের নিচে ভেন্ডর হিসেবে ব্যবসা করতেন। আদালতের প্রতিনিয়ত দরকারি স্ট্যাম্প, হাজিরা, ওকালত নামা, বেইলবন্ড, ফিরিস্তি কাগজ, কোর্ট ফি, নকলের দরখাস্তসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল ডকুমেন্ট তিনি বিক্রি করেন। ব্যবসা তার ভালোই চলছিল। নতুন আদালত ভবন নির্মাণের কারণে গত বছর সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয় তার দোকানটি।

পরে তিনি ডিসি অফিসের পুরনো ভবনে একটি টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছেন। কিন্তু তার দোকানে এখন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী স্ট্যাম্প কিনতে তেমন যান না।

বেচাবিক্রি না হওয়ায় তিনি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে। ঈদে ছেলে-মেয়েদের কাপড় কিনে দেওয়ার ক্ষমতাও এখন তার নেই।

শুধু কাইয়ুম নয়, আদালত এলাকায় এমন প্রায় ৪০ ভেন্ডর রয়েছেন যারা এখন বেকার দিন কাটাচ্ছেন। ঈদে তাদের ছেলে মেয়েদের কাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। শুধু মাত্র অপেক্ষায় থাকেন কখন দুটি কাগজ বিক্রি করতে পারবেন।

আগে বছরে স্ট্যাম্প বিক্রি বাবদ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হতো প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এখন এর পরিমাণ কমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের অভিমত সরকার স্ট্যাম্প ভেন্ডার থেকে এখন রাজস্ব তেমন পাবে না।

স্ট্যাম্প বিক্রেতা কাইয়ুম বলেন, আদালতে আগে ভালো ব্যবসা করতাম। নতুন আদালত ভবন নির্মানের কারণে আমাদের ১৬ বছরের পুরানো দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন এ আদালত ভবন নির্মানে পাঁচ বছরের বেশি সময় লাগবে। আমরা এখন যেখানে বসি সেখানে কোনো ক্রেতা আসেন না। কারণ জায়গাটা ব্যাকওয়ার্ড। আমরা এ ব্যবসার মাধ্যমে সরকারকে অনেক রাজস্ব দেই। আর এখন সরকার এ রাজস্ব হারাচ্ছে।

তিনি বলেন আমাদের সিএমএম আদালতের সামনে বা আদালত ভবনের নিচে যদি বসতে দেওয়া হয় তাহলে সন্তান নিয়ে বাঁচতে পারব ও সরকারের রাজস্ব অনেক আদায় হবে।

একই ধরনের কথা বলেন মো. জাহাঙ্গীর নামক আরেক স্ট্যাম্প ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমি ২০ বছর যাবৎ ব্যবসা করি। আগে প্রতিদিন দশ হাজার টাকার মতো বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন একহাজার টাকাও বিক্রি করতে পারি না। সরকারের রাজস্ব খাতেও অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের আদালত ভবনের নিচে বসতে দিলে ভালো বিক্রি করতে পারতাম।

আইনজীবীর সহকারী জহুরুল হক বলেন, সিএমএম আদালতে ব্যবসায়ীদের আগে অনেক বেচাবিক্রি ছিল। কিন্তু এখন তাদের আর এখানে বসতে না দেওয়ায় বিক্রি কম হয়। আমাদের যে কোন কাগজ কিনতে জজ আদালত ভবনের স্ট্যাম্প ভান্ডারদের কাছে যেতে হয়। আমাদের ওখানে যেতে অনেক দুর হয়ে যায়।

আইনজীবীর চেম্বারে কর্মরত ইয়াসিন আরবি বলেন, আগে সিএমএম আদালতের স্ট্যাম্প ভেন্ডরদের থেকে আমরা হাজিরাসহ বিভিন্ন কাগজ কিনতাম। কিন্তু এখন এদের তুলে দেওয়ায় আমরা অন্য জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ কিনি। তারা অনেক আগে থেকে এ ব্যবসা করত।  বর্তমানে তারা অনেক অভাবে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সিএমএম আদালত ভবনের নিচে বসতে দিলে আমরা প্রয়োজনীয় কাগজ কিনতে পারতাম। আমাদের সময়ও বাঁচত।


Advertisement

আরও পড়ুন