আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ট্রেনের রং লাল-সবুজ, যাত্রা শুরু ২৫ জুন

Published on 21 June 2016 | 3: 20 am

দেশের রেলযোগাযোগে যুক্ত হচ্ছে লাল-সবুজ রংয়ের অত্যাধুনিক ট্রেন। রাজশাহীসহ দেশের ব্রডগেজ লাইনে চলাচল করবে পতাকার রংয়ে রাঙানো এই ট্রেন। আগামী ২৫ জুন শনিবার রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলের মধ্যে দিয়ে এর যাত্রা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে গত শনিবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের পতাকার রংয়ের লাল সবুজ ট্রেনটি। এসব কোচে অর্থায়ন করছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিপি) ও ভারত সরকার।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের ব্রডগেজ লাইনের জন্য ভারতের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক ১২০টি কোচ। ইতোমধ্যে ৪০টি কোচ ভারত থেকে চলে এসেছে। রাজশাহী-ঢাকা, চিলাহাটি-ঢাকা, রংপুর-ঢাকা ও খুলনা-ঢাকাসহ দেশের ব্রডগেজ লাইনে চলাচল করবে এসব ট্রেন। ভারত থেকে আনা এই কোচগুলো নির্মিত হচ্ছে পাঞ্জাবের কাপড় তোলায় অবস্থিত ট্রেনের কোচ নির্মিত প্রতিষ্ঠান আরসিএফ রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরিতে। এলএসবি ডিজাইন বিলাসবহুলভাবে নির্মিত ওই কারখানা থেকে ভারতের ‘শতাব্দী’ ও ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ কোচগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনে থাকছে দু’টি করে পাওয়ার কার। যার ফলে ট্রেনের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। বর্তমানে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন লাইনে ছুটে চলা ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে চলে। অনেক সময় লাইন খারাপ থাকলে এর গতিবেগ আরও কমে যায়।

এদিকে লাল সবুজ রঙের ট্রেনটি দেখতে প্রতিদিন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। নানা স্তরের যাত্রীদের মাঝেও বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।

রাজশাহী-সিরাজগঞ্জ যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী সৌরভ হোসেন জানান, বাংলাদেশের পতাকা রংয়ের ট্রেন চলাচল করবে ভাবতেই বেশ আনন্দ লাগছে! কোচগুলোতে যে আধুনিকতা রয়েছে তা যাত্রীদের সেবার মান বাড়িয়ে দিবে।পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক বক্সি জানান, লাল-সবুজ রংয়ের এ ট্রেনের সবকটি কোচ অত্যাধুনিক। এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার। রেল লাইনের কারণে এই গতিতে চলতে পারবেনা। তবে বর্তমানে যে সকল ট্রেন ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলছে তার চেয়ে এর গতি বেশি থাকবে। পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতুর সব কোচ পরিবর্তন করে লাল-সবুজের আদলে নির্মিত ওই কোচগুলো চলাচল করবে। এখন যেমন প্রতিটি ট্রেনে নয়টা করে কোচ আছে, লাল-সবুজ রংয়ের ট্রেনে ১৩টি কোচ থাকবে। প্রতিটি কোচে সিট সংখ্যা থাকছে ৯৯টির স্থলে ১০৫টি করে। আর রয়েছে অত্যাধুনিক আসন ব্যবস্থা, উন্নত টয়লেট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা, স্পেশাল ক্যাবিনসহ নানা ফ্যাসালিটিস। প্রতিটি বগিতে রয়েছে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। তাছাড়াও কোচগুলোতে, বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টার, টয়লেটে পানি ঠাণ্ডা গরম পানির জন্য-গেজার, হটকেস (খাবার গরম করার জন্য), ডিপ ফ্রিজার, বোটল কুলারসহ অনেক ধরনের যাত্রীসেবার ব্যাবস্থা করা আছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল আলম জানান, আগামী ২৫ জুন রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলার মধ্যে দিয়ে ১৩ কোচ সম্বলিত লাল-সবুজ রংয়ের ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে। রাজশাহী-ঢাকাগামী পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতুর সব পুরনো কোচগুলোর পরিবর্তে দেওয়া হবে নতুন কোচ। ট্রেনগুলোতে যেখানে ৬০০ থেকে ৭০০ জনের বসার ব্যবস্থা ছিলো, তা বেড়ে হবে ১০০০-১২০০। ইঞ্জিন-বগি সব নতুন হওয়াতে ঢাকা-রাজশাহী যাতায়াতে সময় কমে যাবে। ট্রেনগুলোতে যাত্রী ধারণক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানো হবে। যাত্রীধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর ফলে দূর হবে পরিবহন সঙ্কট। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই সাথে নির্ধারিত ভাড়ায় বিলাসবহুল এ ট্রেনে যাত্রীসেবার মান বাড়বে ও পরিবহন সঙ্কট দূর হবে বলে জানান তিনি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন