আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ইবির উপ-উপাচার্যের পিএইচডি জালিয়াতিতে তদন্ত কমিটি

Published on 21 June 2016 | 3: 18 am

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানের অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইবির রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশও হয়েছে। তাই ২০০২ সালে অর্জিত পিএইচডি ডিগ্রিতে ড. শাহিনুর রহমান কোনো ধরনের অনিয়ম করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে ইবির উপাচার্যের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলীনুর রহমান, আল-কুরাআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক। এ ছাড়া ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন এই কমিটির সদস্য। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন এবং সাচিবিক দায়িত্বে থাকবেন ইবির উপ-রেজিস্ট্রার মো. নুরুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোদ সরকার সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের অভিযোগ, ইবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমান উপ-উপাচার্য শাহিনুর রহমান মাত্র পাঁচ মাস সাত দিনে নিজের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। যার পুরো প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারপন্থী শিক্ষকদের দুটি সংগঠন তার বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগই করেনি, গত ১৭ মে ইবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে তারা দাবি জানিয়েছে, ইবির অ্যাকাডেমিক ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে যথাযথ তদন্ত করে এই পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের তোপের মুখে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার ১৯ মে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। শিক্ষা সচিবের বরাবরে প্রেরিত চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদের কাছেও পৌঁছেছে।

উপাচার্য আব্দুল হাকিম সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই তথ্যানুসন্ধানের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শাহিনুর রহমান পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন ১৯৯৯-২০০০ সালে, কিন্তু যোগদান করেন ২০০২ সালের জুলাই মাসের ১১ তারিখে। এ সময়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও তিনিই পালন করেছেন; যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিসমর্থিত নয়। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে রচিত থিসিস জমাদানের আবেদন করেন ২০০২ সালের ৩ জুলাই। যা রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির প্রকৃত তারিখের আগে!

সরকারপন্থী শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, পিএইচডি গবেষককে থিসিস জমাদানের আগে ন্যূনতম দুইটি সেমিনার দিতে হয়, কিন্তু শাহিনুর রহমান, জানা মতে, একটি সেমিনারও দেননি। এটা পিএইচডি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


Advertisement

আরও পড়ুন