আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



দ্বীপের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রঃ মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরী

Published on 18 June 2016 | 7: 17 am

সোনালী নিউজ ডেস্ক :: মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরী ১৯৩৮ সালের ২২  সেপ্টেম্বর চট্রগ্রাম জেলার অন্তর্গত সন্দ্বীপ থানার হরিশপুর গ্রামে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন পিতা মাতার একমাত্র সন্তান। তার পিতার নাম মরহুম গোলাম মজিদ চেীধূরী এবং মাতার নাম মরহুমা আয়েশা খাতুন।
তিনি স্কুল জীবনের শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গন্ডির শুরু থেকে ষষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত কলকাতা খিদিরপুরের এক স্কুলে পড়াশুনা করেন, এরপর সপ্তম শ্রেনী হতে এস.এস.সি. পর্যন্ত সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুলে পড়াশুনা করেন এবং এই স্কুল হতে তিনি মেট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি কলেজ জীবনে আই.এ. পাশ করেন কুমিল্লা ভিক্টেরিয়া কলেজ হতে।
পরে তিনি ১৯৫৯ সালে চট্রগ্রামের কানুনগোপাড়া কলেজ হতে বি.এ. পাশ করেন। কলেজ জীবনে ওনার অনেক সহপাঠি ছিলেন, যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক গুরুত্ব¡পূর্ন ভূমিকা রেখে সুনাম অর্জন করেছেন। এবং বর্তমানেও অনেত গুরুত্বপূর্ন ভ’মিকা অব্যাহত রেখেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বয়েজ অব এমেরিকার সাবেক সাংবাদিক মরহুম গিয়াস কামাল চেীধূরী ও বর্তমান গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী  ইঞ্জি: মোশারেফ হোসেন।
কলেজ জীবনে তিনি মজলুম জননেতা মরহুম মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দল ন্যাপ এর রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন এবং বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রেখেছিলেন। সন্দ্বীপের সন্তান হয়েও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি রেখেছিলেন গেীরবময় উজ্জল ভূমিকা। ১৯৭১ সালের সেই দিন গুলোতে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভেীমত্ব রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি ইন্ডিয়াতে প্রশিক্ষনের জন্য পাড়ি জমান। ইন্ডিয়ার হরিনা ক্যাম্পে তিনি একপর্যায়ে মুক্তিপাগল বাংলা মায়ের বীর সাহসী সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশিক্ষন দিতে শুরু করেন। সেখানে ওনাকে বাংলাদেশের স্বধীনতার সপক্ষের মুক্তিযুদ্ধের একজন রাজনৈতিক প্রশিক্ষক হিসেবে সন্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তার সরাসরি ভূ’মিকার কারনে সেদিন সন্দ্বীপের অনেক লোকের জীবন রক্ষা হয়েছিল।
দেশ স্বাধীনের পূর্বে ১৯৬৫ সালে, বাংলাদেশের তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওনার রাজনৈতিক সফরে সন্দ্বীপ আসেন। তখন তিনি সন্দ্বীপ থানা আওয়ামীলিগের অফিস উদ্বোধনের এবং কমিটি গঠনের উদ্যেশ্যে সন্দ্বীপ আসেন। তখন সন্দ্বীপ থানায় বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা মুসলিমলীগের রাজনীতির সাথে এতবেশী জড়িত ছিলেন যে, কেউ সাহস করে এগিয়ে আসার ছিলেন না আওয়ামী রাজনীতির সুচনা করার জন্য।
একপর্যায়ে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের জনসভা করার জন্য কতিপয় লোক একত্রিত হয়ে মরহূম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরীর সহযোগীতার জন্য ছুটে আসেন। তখন তিনি সাহসী ভুমিকা নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং সেই জনসভার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। আর তারই সুবাধে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ওনাকে হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসেন। সেদিনের কমিটি হতে তিনি সন্দ্বীপ থানা আওয়ামীলিগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত। তিনি হয়ে উঠেছিলেন বংগবন্ধুর খুবই প্রিয় পাত্র ও কাছের লোক। বংগবন্ধু ওনাকে কিবরিয়া নামেই ডাকতেন, আর কিবরিয়া হিসেবেই তিনি বংগবন্ধুর নিকট খুবই পরিচিত ছিলেন। তারই ধারাবহিকতায় বংগবন্ধু এরপর কয়েকবার সন্দ্বীপ সফর করেন।
মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কারনে তিনি আওয়ামীলিগের রাজনীতি হতে দুরে সরে আসেন এবং আইন বিষয়ে পড়াশুনা শুরু করেন। নিজেকে রাজনীতি হতে অনেকটা গুটিয়েও নিয়েছিলেন তিনি।
তিনি আইন বিষয়ে প্রথম পর্বের পড়াশুনাও শেষ করেন এবং পরীক্ষায়ও উর্র্ত্তীর্ন হন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক মরহূম জিয়াউর রহমান সন্দ্বীপ সফরে আসেন, তখন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ও বর্তমানে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান সর্ব-জনাব কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের পরামর্শে মরহুম জিয়াউর রহমান, মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরীকে তার সাথে তার রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।
মরহুম জিয়া ওনাকে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুচনা লগ্নে সন্দ্বীপ থানা জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে মনোনীতি করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরী সন্দ্বীপ থানা বি.এন.পির.ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে ওনার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সন্দ্বীপ থানায় তৃনমূল পর্যায়ে বি.এন.পি.র সাংগঠনিক কার্যক্রম এতই শক্তিশালী করে তুলেছিলেন যে, মরহুম জিয়া খুশি হয়ে কয়েকবার সন্দ্বীপ সফরে আসেন এবং মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধুরীর বাসায় ও আগমন করেন। জিয়াউর রহমানের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন কিবরিয়া সাহেব হিসেবে।
এরই ফলশ্রুতিতে মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধুরী চট্রগ্রামের এবং রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক অংগনে খুব বেশী পরিচিতি লাভ করেন। চট্রগ্রমের জেলা নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও নেতাগন ওনাকে খুবই পছন্দ করতেন এবং ব্যাক্তিগতভাবেও চিনতেন। তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সন্দ্বীপ থানা হেড কোয়াটারের অর্থাৎ হরিশপুর ইউনিয়নের কয়েকবার চেয়ারম্যান নির্বচিত হয়ে দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন সফল ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবেও সন্দ্বীপ থানায় পরিচিত ছিলেন ও খ্যাতিও লাভ করেছিলেন।
তিনি চট্রগ্রাম উত্তর জেলা বি.এন.পি.র সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওনাকে চট্রগ্রাম উত্তর জেলা বি.এন.পি.র. গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও করা হয়েছিলো। মরহুম জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শাহাদাৎ বরনের পর বাংলাদেশের রাষ্টপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন সাবেক প্রধান বিচারপতি আবদুস সাত্তার। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অসাধারন রাজনৈতিক ভুমিকা ও বলিষ্ট সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কারনে বি.এন.পি.র মনোনিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মরহুম আবদুস সাত্তার থানা ওয়ারী সবচেয়ে বেশী ভোট পেয়েছেন সন্দ্বীপে।
তথ্যসূত্র :
## দ্বীপের উজ্জ্বল এক নক্ষত্রঃ মরহুম গোলাম কিবরিয়া চেীধূরী সম্পর্কে  বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেছেন-মির্জা গোলাম হায়দার চৌধুরী, (কিবরিয়া চৌধুরীর সন্তান)
কৃতজ্ঞতায়- মরহুম আনছারুল হক, সাবেক পরিচালক, বি,এ,ডি,সি।
 


Advertisement

আরও পড়ুন