আজ সোমবার, ২০ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে আটক ১৯৪৭ জঙ্গি মাত্র তিনজন ।। সপ্তাহব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শেষ

Published on 18 June 2016 | 4: 21 am

দেশব্যাপী গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে এক হাজার ৯৪৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার ভোরে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী সপ্তাহব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শেষ হয়। এ অভিযান শুরু হয়েছিল গত ১০ জুন মধ্যরাত থেকে। অভিযানের মুখ্য উদ্দেশ্য জঙ্গি দমন হলেও চট্টগ্রামে মাত্র তিনজন জঙ্গি ধরা পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এদের মধ্যে সীতাকুণ্ডে ধরা পড়া দুজন হলো কুমিরার মসজিদ্দা দেলিপাড়া এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে জুলফিকার আলী (৪০) ও একই এলাকার মৃত নুরুল আফছারের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৩১)। এ দুজন জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইয়ের সহযোগী বলে দাবি করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপরদিকে নগরীর শেরশাহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হিযবুত তাহরীরের সক্রিয় সদস্য রাউজানের বাসিন্দা মহিবুল আলমকে (২৬)। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করে ২দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৯৪৭ জনের মধ্যে দুইতৃতীয়াংশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তিন জঙ্গি ধরা পড়লেও বিশেষ এ অভিযানে ধরা পড়েনি তালিকাভুক্ত কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী। অভিযান শুরুর পর সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি ’কোয়ালিটি অ্যারেস্টের’ পক্ষে। গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। আসল অপরাধীদের ধরার জন্যই সিএমপি কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর তিন দিন পরই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ধরতে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেয় পুলিশ। জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শেষ হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

আমাদের রাউজান প্রতিনিধি জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহর নেতৃত্বে নগরীর বায়েজিদ থানাধীন শেরশাহ কলোনি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে মোঃ মহিবুল আলম মহিনকে আটক করা হয়। মহিন রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের এয়াছিন নগর এলাকার ছালেহ আহম্মদ তালুকদার বাড়ীর মো. মনছুর আলমের প্রথম পুত্র। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ জানান, আটকের পর মহিনের দেয়া তথ্য মতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হিযবুত তাহরীরের প্রচার পত্র, সরকার বিরোধী লিফলেটসহ ৬ শতাধিক বিভিন্ন লিফলেট জব্দ করে আলামত হিসেবে থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী দমন আইনে রাউজান থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হেলাল উদ্দিন দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিবুল ২০১৩ সালেও একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর মহিবুল তার নিজ বাড়ি রাউজান উপজেলা ও নগরীতে হিযবুত তাহরিরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার বাংলা ভাইয়ের সাবেক দুই সহযোগীকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলাসহ তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, গত বুধবার রাতে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের দেলিপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুলফিকার আলী ও আলাউদ্দীন রুবেলকে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০১ সালে ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের দেলিপাড়া এলাকায় আসেন। সেখানে একটি জঙ্গি সংগঠন গঠন করেন তিনি। এসময় আলাউদ্দিন ও জুলফিকার ওই সংগঠনের সদস্য হয়। বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হলে পরবর্তীতে ওই কমিটির সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। ওই সময় আটক হওয়া কয়েকজন সাজা ভোগের পর ছাড়া পেয়ে আবারো জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরে।

সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার জঙ্গি আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে দুটি মামলা হয়েছিল। ওই বছর গ্রেপ্তার হয় সে। ১০ বছর সাজাভোগের পর গত বছরের আগস্টে জেল থেকে ছাড়া পায় সে। জুলফিকারের বিরুদ্ধেও ওই সালে একটি মামলা হয়। সেও ছয় বছর সাজাভোগের পর কয়েক বছর আগে বের হয়।

এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান বলেন, সীতাকুণ্ডে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার দুই জঙ্গী বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ছিল। তারা সাজা ভোগের পর নিজ এলাকার বাইরে আবারো সংগঠিত হচ্ছিল। মাঝে মধ্যে এলাকায় আসত। গত বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলা ভাইয়ের সহযোগী বলে স্বীকার করে বলে জানান ওসি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল শুক্রবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কোনো নির্দোষ ব্যক্তি, নিরপরাধ ব্যক্তি কিংবা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হয়রানি করার জন্য এই অভিযান হয়নি। অভিযান হয়েছে জঙ্গি দমনের জন্য। ক্রিমিনাল যারা ছিলতাদেরকে ধরার একটা প্রক্রিয়া আমরা নিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে আমরা সাকসেসফুল হয়েছি।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন