নিয়ম না মেনে চাকরি করছেন রাবির ১৪ শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম না মেনে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৪ জন শিক্ষক। এ সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরা নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস করান না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সব বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন শিক্ষকদের এই প্রবণতা বাড়ছেই। তাই এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের ২১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬২ তম সিন্ডিকেট সভায় খণ্ডকালীন শিক্ষকদের নতুন নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর বাইরে খণ্ডকালীন চাকরি করতে গেলে অর্জিত ছুটি নিতে হবে (ধারা-৬ এর খ.)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরে ৩০ দিনের বেশি একজন শিক্ষক অর্জিত ছুটি নিতে পারেন না। কিন্তু অনেক শিক্ষক কোনো প্রকার ছুটি না নিয়েই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজশাহী অবস্থিত তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় প্রধানসহ একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষকরা।

তেমনই একজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান। তিনি ঢাকায় অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিয়াল স্টেট’ বিভাগে পূর্ণকালীন শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ জন্য সপ্তাহে তিন দিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন বলে জানিয়েছেন বিভাগের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তিনি প্রতি বুধবার বিকেলে ঢাকায় গিয়ে শনিবার বিকেলে রাজশাহীতে আসেন। এ কারণে তিনি রাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সামগ্রিক কাজে ঠিকভাবে অংশ নেন না।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ‘তিনি গত ২০০৭ সালের আগস্ট থেকে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়াল স্টেট বিভাগে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন জুন ২০০৮ থেকে সেপ্টেম্বর ২০০৯ পর্যন্ত। একই দায়িত্ব পালন করেন ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত।’

এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বক্তব্য নিতে চাইলে মুঠোফোনে কল করে ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পি এম সফিকুল ইসলাম কোনোপ্রকার অনুমতি না নিয়ে রাজশাহীতে অবস্থিত নর্থবেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করছেন। ওই পদে দায়িত্ব পালন করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু তিনি কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করছেন।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market