আজ বৃহঃপতিবার, ২৪ মে ২০১৮ ইং, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আগাম শপিংয়ে মুখর ঈদ মার্কেট ।। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই সেরে নিচ্ছেন কেনাকাটা

Published on 14 June 2016 | 4: 17 am

শুরু হয়েছে ঈদ কেনাকাটার ধুম। রমজানের শুরু থেকেই চলছে ঈদ প্রস্তুতি। শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে ঈদ সংগ্রহ দেখছেন তরুণতরুণীরা। সাথে নিজেদের পছন্দকে ঝালাই করেও নিচ্ছেন। পছন্দের কেনাকাটার প্রাথমিক তালিকা তৈরি, দর্জি বাড়িতে ভিড়বাট্টা, থান কাপড় কেনার দৌঁড়ঝাঁপ নিয়ে চলছে ঈদের মাতম। যদিও পনেরো রমজানের পর থেকে ঈদ কেনাকাটার ধুম লাগে নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে। তবে ঝামেলা এড়াতে এরই মাঝে অনেকে সেরে নিচ্ছেন ঈদ শপিং। বিশেষত তরুণীরা কাপড় কিনে তাতে বুটিকস শপ থেকে পছন্দের নকশা তৈরি করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পাশাপাশি ফ্যাশন সচেতন রুচিশীল অনেক ছেলেরাও সেলাই করা ফিটিংস কাপড় পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। যে কারণে ইতোমধ্যে থান কাপড় ক্রয় কিংবা দর্জি বাড়িতে দৌঁড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। এছাড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা একটু আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে নিতে অভ্যস্ত।

রাজধানী ঢাকার ইসলামপুরের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি আড়ত নগরীর টেরিবাজার। যেখানে সারাবছরই ক্রেতাদের থান কাপড়ের জন্য আনাগোনা থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে নগরবাসী রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এবারও এখানে ভিড় করছেন। টেরিবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, সেন্ট্রাল প্লাজাসহ বিভিন্ন থান কাপড়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে লিনেন, সুতি, জর্জেট, কাতান, জামদানি, নেট ও সিরামিক প্রভৃতি কাপড়ের প্রতি। এসব মার্কেটে প্রতি গজ লিনেন কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়, জর্জেট কাপড় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়, ভারতীয় কাতান ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, জামদানি কাপড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, নেটের কাপড় ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় এবং সিরামিক বিক্রি হচ্ছে প্রতি গজ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। এছাড়া দেশীয় মনিপুরী কাতান প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায়।

নগরীর জিইসি মোড়ের সেন্ট্রার প্লাজায় নিজের জন্য ও দুই মেয়ের জন্য কাপড় কিনতে আসা শাহেনা আকতার মনি জানান, দশ রমজানের পর থেকে মার্কেটগুলোতে ভিড়বাট্টা বেড়ে যায়। হাঁটাচলার জায়গা পাওয়া যায়না। এছাড়া রোজা রেখে দিনের বেলা কিংবা রাতে শপিং করা বিরক্তিকর। তাই একটু আগেভাগেই ঈদ শপিং সেরে নিতে এসেছি। তবে কাপড়ের দাম এবার খানিকটা বেশি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও টেরিবাজারে দেখা গেছে ভারতীয় কাপড়ের অধিপত্য। প্রায় প্রতিটি পাইকারি দোকানেই রয়েছে ভারতীয় কাপড়ের সুবিশাল সংগ্রহ। এখানে গুজরাটি চীকেন প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায়, জয়পুরী কটন ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা, সিল্কের কাশ্মিরী কাতান ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বোটা জর্জেট ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, মুম্বাইয়ান নেট ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, স্টোন নেট ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেলভেট ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা, বোম্বে বুটিকস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং দিল্লী কটন ৬৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা।

অন্যদিকে দর্জির দোকানগুলোতে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের ভিড় দেখা গেছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার কাপড় সেলাইয়ের দাম অনেকটা বেশি বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেন। নগরীর বিভিন্ন দোকান ভেদে শার্ট সেলাই ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, পেন্ট সেলাই ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা এবং মেয়েদের কামিজ সেলাই ৩০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। বহদ্দারহাটের ফরিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম জানান, গতবার শার্ট সেলাই করেছিলাম ৩০০ টাকা দিয়ে। আর এবার নাকি ৪০০ টাকা হয়ে গেছে। অথচ দাম বাড়ার কোন যৌক্তিক কারণ তারা বলতে পারেন নি। তবুও আমরা অসহায় যেহেতু কাপড় তো সেলাই করতেই হবে। বিক্রেতারা বলছেন, কারিগরদের পারিশ্রমিকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরকেও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে এবং সেটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ঈদ আনন্দে কেনাকাটা জমে আরো উঠবে তেমনটাই প্রত্যাশা সবার।


Advertisement

আরও পড়ুন