আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ইফতারির কী নেই চকবাজারে

Published on 14 June 2016 | 3: 51 am

রমজানে রাজধানী ঢাকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় পুরান ঢাকার চকবাজার ইফতারি পণ্যের জন্য একটু বেশিই প্রসিদ্ধ। সপ্তম রোজার দিনেও ঢাকা শহর ও এর আশপাশের এলাকার মানুষ ছুটে আসছেন ইফতার কিনতে। ভিড় লেগেছে দোকানে দোকানে। দিন যত যাচ্ছে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে চকবাজারের ইফতার মার্কেট! বাড়ছে রোজাদার মানুষের ভিড়। একই সাথে দোকানিরা সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার বিক্রি করতে ও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তাদের খাবারের ভিন্নতা দিয়ে।

রাজধানীর চকবাজার এলাকায় সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা সাধারণের উপচেপড়া ভিড়। কেউ নিচ্ছেন ছোলা, পিঁয়াজু, খেজুর আবার কেউ নিচ্ছেন আস্ত মুরগীর রোস্ট, ফ্রাই আবার কেউ নিচ্ছেন খাসির রান। এখানে কী নেই, ইফতার করার জন্য যে খাবারগুলো দরকার তার সবই রয়েছে।

সমুচা, সিঙ্গাড়া, পিঁয়াজু, আলুর চপ ৩ থেকে ৬ টাকা প্রতি পিস। ডিমের চপ ২৫ টাকা। ঘুগনি ৮০ টাকা কেজি, সিদ্ধ ছোলা ২০০ টাকা কেজি, চিকেন বল ২০ টাকা।

মুড়ি ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, খেজুরের কেজি ১০০ থেকে ২৮০ টাকা, কমলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, আম খুব বেশি না থাকলেও যা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রুপালি ৮০ টাকা, হিমসাগর ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আপেল ১৫০ থেকে ১৪০ টাকা, ডালিম ২৬০ টাকা কেজি। সবজি রোল প্রতিটি ১৫ থেকে ২৫ টাকা,  চিকেন রোল ২৫ টাকা, চিকেন টোস্ট ২৫ টাকা।

কাবাবের মধ্যে জালি কাবাব ১৫ থেকে ২৫ টাকা, গরুর মাংসের সুতি কাবাব ৫০০ টাকা ও খাসির (ছাগল) মাংসের সুতি কাবাব ৬০০ টাকা কেজি।

ফালুদা ছোট বাটি ৭০-৮০ টাকা ও বড় বাটি ১২০ থেকে শুরু করে দোকান ভেদে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

জিলাপি ও সোলা ১০০ টাকা কেজি, খেজুর প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি।

বাঙ্গি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা প্রতিটি। ফিরনি প্রতি বাটি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, লবাং ১২০ টাকা। পনির ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। বোরহানি ও লাচ্চি ১২০ টাকা লিটার,

কলা বিক্রি হচ্ছে সাগর কলা ৫০ টাকা, ভাত কলা ৬০ টাকা হালি।

কোয়েল পাখি ৬০ টাকা পিছ, পাকিস্তানি মুরগি প্রতি পিছ ২৩০ থেকে ৩৫০, দেশি মুরগি ৩০০ টাকা পিছ। “বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লইয়া যায়” ৩৬ পদের জিনিস দিয়ে তৈরি বিশেষ এই খাবারটি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা।

দই বড়া বড় বাটি (১০ টি) ২০০ টাকা, ছোটো বাটি ১০০ (৫ টি) টাকা। এই এলাকার সবচেয়ে আলোচিত ও সুস্বাদু খাবার খাসির (ছাগল) রান ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতিটি। আচারের মধ্যে রয়েছে আম ২০০ টাকা কেজি, জলপাই, তেতুল, চালতা, মুরব্বা, আমসত্ত্ব ২০ টাকা প্যাকেট।

এখানে শুধু স্থায়ী দোকান মালিকরাই বসেন না, ভ্রাম্যমাণ হকাররাও নানা ধরনের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এবার রোজায় ইফতারের দাম নিয়ে কথা হয় কেরানিগঞ্জ থেকে আসা মো. আলি আকবরের সাথে। তিনি বলেন, আমি প্রতি বছরই প্রতিদিনের ইফতার চকবাজার থেকে কিনি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সবকিছুই এক সাথে পাওয়া যায়। দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে এবার একটু দাম বেশি মনে হচ্ছে। কারণ গতবার তরমুজ কিনেছিলাম ৫০ টাকা কেজি এবার ৭০ টাকা কেজি কিনলাম।

আস্ত মুরগি ও খাসির রানসহ ইফতার বিক্রেতা সোলেমান হাওয়ালাদার হিরন বলেন, প্রথমদিকে এজন্য দাম একটু কম। গতবার প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো এবার প্রথম দিনে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি আরও বলেন সারারাত পরিশ্রম করে রাত জেগে এইগুলো তৈরি করি। কষ্ট আছে ভাই। তিনি জানান, দিন শেষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাভ হয় তার।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন