সন্দ্বীপ-গুপ্তছড়া সড়কের বেহাল অবস্থা, ভোগান্তি

রহিম মোহাম্মদ :::
———————
গত দু’দিনের ভারী বর্ষণে সন্দ্বীপের প্রধান সড়ক কুমিরা-গুপ্তছড়া-সন্দ্বীপ সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাস্তায় সৃষ্ঠ বড় বড় গর্ত বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। সড়কটির খন্তার হাট থেকে রহমতপুর স্টীমার ঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ কি.মিঃ. জুড়ে প্রায় দশটি স্পটে বর্তমানে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বিরাজ করছে। কিছুদিন আগে সড়কটি মেরামতে প্রায় ৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করলেও অজ্ঞাত কারণে কাজটি শুরু করতে পারেনি সড়ক ও জনপথ।

সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমের আগে কাজটি শুরু করার কোন সম্ভাবনা নেই। ফলে পুরো বর্ষাজুড়ে পথচারী ও যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছার আশংকা করছে সাধারণ জনগণ। ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়াও পথচারী- যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে এ বর্ষায় স্বল্পপরিসরে সড়কটি সংস্কারের দাবি উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া এ সড়কটির ধলই পাড়া, বাদামতলী, তালতলী বাজার, বশিরিয়া গেইট, এক্সিম ব্যাংক গেইট, সেনের হাট, কারিতাস অফিস ও মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার সামনে বিশাল অংশ জুড়ে বিটুমিন ও ইটের সুড়কি উঠে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটিতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২/৩ কি.মি. যেনতেন ভাবে ও ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্দ্বীপ আগমন উপলক্ষে তড়িঘড়ি করে ৪/৫ কি.মি. সংস্কার করা হয়। কিন্তু এরপর সড়কটি সংস্কারে আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রায় ১০ কি.মি. দীর্ঘ এ সড়কটির পশ্চিম ও পূর্ব পাশে মালঘাট ও যাত্রী পরিবহন ট্রলার-স্টীমার সার্ভিস থাকায় প্রতিদিন শত শত যাত্রী সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম যাতায়াতে এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। তাছাড়া মাল পরিবহনে ট্রাক-ট্রলির যাতায়াতে সড়কের ভাঙ্গা অংশটুকুতে দুর্দশা দিন দিন বাড়ছে। সড়কের উভয় পার্শ্বে ২টি কলেজ, ৪টি মাদ্রাসা, ৬টি হাই স্কুল ও ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র, উপজেলা পরিষদ, আদালত, ব্যাংক-বীমা ও কয়েকটি হাট বাজার রয়েছে। উভয় পার্শ্বে পানি সরবরাহের কোন ড্রেইন না থাকায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এ অভিযোগ সাধারণ মানুষের। কিন্তু সাধারণ মানুষের এ দাবি আমলে নিয়ে সড়ক ও জনপথ এ পর্যন্ত পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তবে গত বছর সন্দ্বীপ পৌরসভা দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিডিএমপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে সেনের হাট থেকে এনাম নাহার পর্যন্ত এ সড়কের পাশে দুইশ’ মিটার আরসিসি ড্রেইন নির্মাণ করে। সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা জানান, প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ ২/১ মাসের মধ্যে শুরু হবে। যার মধ্যে সেনের হাট থেকে ধলই পাড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কি.মি. ড্রেন রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল আলম জানান, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কার্যাদেশ প্রদান করা হবে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ বর্ষায় কাজটি শুরু করা আদৌ সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার জানান, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অগ্রিম কিছু কাজ করার উদ্যোগ নিতে পারে। বর্ষায় সড়কটিকে ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়াও আপাতঃ সাধারণ পথচারী ও যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে নির্বাচিত ঠিকাদারকে দিয়ে অগ্রিম বালু ও ইটের চিপস্ সমন্বয়ে রোলিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো সংস্কারের দাবি করছেসাধারণ জনগণ।

(দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত)

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market