একটি মৃত্যু উপত্যকা

—- কে. এম. আজিজ উল্যা
——————————————————–
দেশ আমাদের আমরা দেশের জনসাধারণ,
এদেশ ছিল তোমার, আমার শান্তি নিবেতন।
বাঙ্গালীর সুনাম ছিল শান্তি প্রিয় বলে,
বর্তমানে সেই সুনামটি গেল রসাতলে।

এখন আমরা মৃত্য উপত্যকায় করছি বসবাস,
উপত্যকাটি জল্লাদের মঞ্চ, দারুণ একটি ত্রাস।
এই ত্রাসের রাজত্বে আমরা নিরাপত্তাহীন জনগন,
ওদের বলয়ের ভিতরে আমাদের আছে অবাধ বিচরণ।
আমরা স্কুলে-কলেজে, অফিসে যথা ইচ্ছা যাই,
যাওয়ার পথে একজন খুন হবে খনী যাকে চায়।

এদেশ এখন বিস্তির্ণ রক্তস্নাত একটি কসাই খানা,
এখানে কেউ না কেউ বলী হতেই হবে কে? তা অজানা।
গতকাল কে কে জান দিল, মান দিল, পত্রিকাতে জানবেন,
আগামীকাল, জল্লাদেই জানেন কাকে, কাকে মঞ্চে আনবেন।
মঞ্চ হতে দেখা যাবে শেষ কান্নাটুকুর শব্দ,
দূর থেকে দেখা যাবে রক্তের ফিনকী, শব্দ হয়ে যাবে স্তব্দ।
সাউন্ড বুকে শুনা যাবে বিভৎস অট্ট-হাসির অপূর্ব আওয়াজ,
এবার বুঝা যাবে, এই মাত্র শেষ, জল্লাদের কাজ।

আবার মঞ্চ ফাঁকা, পড়ে আছে, নিথর একটি লাশ,
এবার শুনছি জনতার চিৎকার, আহ! কে করল এ সর্বনাশ।
আরে শুনতেছি, একটি শিশুর অঝোর কান্না, মার বুকের উপরে
দুনিয়াতে এমন কেউ কি আছে, এ বাচ্চাটির কান্না থামাতে পারে?

খুনিরা স্বাধীন, সর্বত্র তাদের আছে অবাদ বিচরণ,
আমার বেড রুম, দোকান, রাজপথ, যেথায় চাহে মন।
সন্দ্বীপের নাদিয়া, কাজের বুয়ার মেয়ে, এক স্কুল ছাত্রী।
কুমিল্লার তনু, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, হতে পারত কারো সু-পাত্রী।

এদের বাঁচার অধিকার ছিল, ঠিল সংসার গড়ার,
কিন্তু না!! এরা অন্যের ভোগ্য পণ্য, খুন হল সে জন্য, ইহা জল্লাদের বিচার।
খুনীরা যাদের মনে করে — ” ওরা অবাঞ্চিত প্রয়োজনহীন,
তা হলে ওদেরকে মরতেই হবে, একদিন না একদিন

প্রফেসর, গৃহবধু, শিশু, শিশুদের মা, ওদের নজরে এলেই হল,
হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান অনেক নামী-দামী বিজাতীদেরও প্রাণ গেল।

সারা চট্টগ্রামবাসীর যিনি নিয়েছিলেন নিরাপত্তার ভার,
সেই মহান ব্যক্তির সুযোগ স্ত্রী ও হারালো বাঁচার অধিকার।
নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা চরমে আছে এ দেশ,
সরকারের প্রতি দাবি— দেশ হতে দূর করতে হবে এ অশান্ত পরিবেশ।
পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের মত এমন সৎলোক,
হাজারো একজন হয় না, তাঁর পরিবারের আজ এমন শোক।
শোক সহিবারে, দয়াময়, তাকে সেই শক্তি কর দান,
তাঁর স্ত্রী, মাহমুদা আক্তার মিতু, বেহেশতে যেন হয় তাঁর স্থান।

ধনীরা ধন যত পায় তত চায় কখনও হয় রা বদ হজম,
খুনীদেরও খুন পিপাসা মিটেনা — খুন চাই-ই হরদম।

এ পরিস্থিতি হতে মুক্তি পেতে হলে,
বিচার বিভাগকে কঠোর হতে হবে, আমার বিবেকে বলে।
দেশের বিচারহীনতা, বিলম্বে বিচার, এর জন্য দায়ী,
দ্রুত এবং ন্যায্য বিচার হলে, দেশে শান্তি হবে স্থায়ী।

‪#‎লেখক‬ :
প্রবীণ লেখক ও কবি। [সভাপতি – সোনালী সন্দ্বীপ পাঠক ফোরাম, চট্টগ্রাম]
প্রাক্তন শিক্ষক, বাউরিয়া জি কে একাডেমী, সন্দ্বীপ।

সুত্র : দ্বীপের সংবাদ

 

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market