আজ বৃহঃপতিবার, ২৪ মে ২০১৮ ইং, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সাঁড়াশি অভিযানে সারাদেশে আটক সহস্রাধিক

Published on 11 June 2016 | 4: 41 am

গুপ্তহত্যা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের প্রথম দিনে সারাদেশে অন্তত সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযান চলবে আরও ছয়দিন। তবে এই অভিযানকে বিরোধী দল দমনের একটি কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন ও পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

দেশের চট্টগ্রাম, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, মাগুরা, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুরসহ বিভিন্নাঞ্চল থেকে এই আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াত-শিবিরের পাঁচ কর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় ৬৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জয়নুল আবেদীন জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৬টি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের পাঁচ কর্মীসহ ৫৭ জনকে আটক করা হয়।

তবে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণার পর কিশোরগঞ্জে গাড়ি পোড়ানোর দুটি মামলায় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ গ্রেফতার ৫১ নেতাকর্মীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বিচারিক আদালতের বিচারক আলাউল আকবর জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

একটি মামলায় ১৮ জন এবং অপর মামলায় ৩৪ জন আসামি ছিলেন। এদের মধ্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল দুটি মামলাতেই আসামি ছিলেন। আসামিরা সকলেই জামিনে মুক্ত ছিলেন।

মাগুরা: মাগুরার চার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা সবাই বিভিন্ন মামলার আসামি বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াতের এক কর্মীসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামায়াতের একজন ও বিভিন্ন মামলার ৩৪ জন আসামি রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইও (পরিদর্শক) এসআই কুমকুম জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানায় ১০ জন, কলারোয়ায় সাতজন, কালিগঞ্জে দুজন, তালায় দুজন, শ্যামনগরে পাঁচজন, আশাশুনিতে দুজন, দেবহাটায় পাঁচজন ও পাটকেলঘাটায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪ জামায়াত কর্মীসহ ২৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুন) ভোরে এ অভিযান পরিচালনা করে মহেশপুর থানা পুলিশ।

রংপুর: রংপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাশকতার মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৯০ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রংপুরের আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নাশকতা,চুরি ও ডাকাতিসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

রংপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল ফারুক সাংবাদিকদের জানান, রমজান মাসে সন্ত্রাসীরা যাতে কোনও ধরনের অপরাধ কার্যক্রম না চালাতে পারে তার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

নাটোর: দেশব্যাপী জঙ্গি দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে নাটোরে ২৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া রাতে প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মন্সী শাহাবুদ্দিন জানান, র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, পলাতক আসামি ও সন্দেহজনকভাবে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

মেহেরপুর: মেহেরপুরে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি সবাই বিভিন্ন মামলার আসামি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় সাতজন, সিআর মামলায় দুজন ও ১৫১ ধারায় একজন আসামি রয়েছেন।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হামিদুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার থানা-পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়েছে। এসব এলাকায়ও অসংখ্য সন্দেহভাজনদের আটক করেছে পুলিশ। তবে তারা তাৎক্ষণিক সংখ্যা জানাতে পারেনি।

পুলিশ সদর দফতরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিকালের পর তথ্য জানাতে পারবেন বলে গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়েছে।

আটকের বিরোধিতা করে বিএনপি ইতিমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ‘সাঁড়াশি অভিযানের নাম বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের হয়রানি করছে পুলিশ। নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ তল্লাশি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।’

গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে একই কায়দায় ৪৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৪৮ জন নিহত হন। গত আড়াই মাসে হত্যা করা হলো ১১ জনকে।

প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে- এর সঙ্গে দেশীয় জঙ্গি সংগঠন দায়ী। কেউ বলেছেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।

সর্বশেষ চট্টগ্রামের জিইসি মোড়সংলগ্ন মিষ্টির দোকান ওয়েল ফুডের সামনে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে প্রথমে ছুরি মেরে, পরে মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যান দুর্বৃত্তরা। এরপরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হত্যাকারীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ ও বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। গত তিন দিনে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়, যা বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়। র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারবাহিনী একসঙ্গে সারাদেশে অভিযান শুরু করে, যা চলবে আরও ছয়দিন।


Advertisement

আরও পড়ুন