আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জিটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, সন্দ্বীপবাসীর অহংকার

Published on 09 June 2016 | 5: 02 pm

শাহাদাৎ আশরাফ  ::

সন্দ্বীপের সন্তান ইকবাল করিম নিশান। জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ আজিমপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়া পরিবারে। পিতা আবুল বশার ভূঁইয়া, মাতা মিসেস খাদিজা বেগম। স্ত্রী ইজাজ আরা ক্যামেলিয়া, দুই কন্যা নিদর্শনা ও ‍নির্জনা এবং পুত্র নির্ভানকে নিয়েই তার সুখের পৃথিবী।

শিক্ষা জীবন :
সন্দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী সরকারী কার্গিল হাই স্কুল থেকে ১৯৮৯ সালে এসএসসি, সন্দ্বীপ সরকারী হাজী এবি কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স – মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন। ষ্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেলিভিশন ও ফিল্ম মেকিং এ আবারো মাষ্টার্স করেন।

স্বপ্ন :
প্রয়াত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি দুনিয়াখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে। স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয়না।’
উপরোক্ত উক্তিটি ইকবাল করিম নিশানকে খুবই প্রভাবিত করেছে। সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেননি। মনেপ্রাণে একজন সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন লালন করেছেন। ছোটবেলায় সে স্বপ্ন দেখতেন, নিজের কলমে এ দেশের নিপীড়িত মানুষের কথা, সামাজিক নানা অসঙ্গতি, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার গল্প তুলে ধরবেন। আর এই স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটানোর আকাঙ্খা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। সময়ের বিবর্তনে নিশান অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক।

(প্রিন্ট মিডিয়া) সাংবাদিকতা :
১৯৯২ সালের শুরুর দিকে তার সাংবাদিকতার পথচলা শুরু। নিশানের সাংবাদিকতার হাতেখড়ি বিখ্যাত সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। তার কাছেই হাতে কলমে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছেন তিনি। পেশাগত জীবনে তিনি ক্রাইম, সিটি করেপোরেশন, রাজউক, স্বাস্থ্য ও বিএনপি বিটে কাজের পাশাপাশি লম্বা একটা সময় কাটিয়েছেন বিনোদন সাংবাদিকতায়। নিশানের হাত ধরেই এ দেশের প্রথম কোনো দৈনিকের ‘রঙিন বিনোদন পাতা’বিচরণ যাত্রা শুরু করে। সাংবাদিকতার নানা শাখা প্রশাখায় বিচরণ করে ইকিবাল করিম নিশান নিজেকে বহুমূখী প্রতিভার একজন সাংবাদিক হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর সিনিয়র বা সমসাসয়িক কেউ কেউ তাকে ভারসেটাইল জার্নালিষ্ট বলে থাকেন। অনুজদের কাছে নিশান একজন আদর্শ সাংবাদিক। দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে তিনি কাজ করেছেন- দৈনিক মানব জমিন, ভোরের কাগজ, দৈনিক রূপালী (সন্দ্বীপ মরহুম সাংসদ দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান সম্পাদিত) ও নয়া দিগন্ত পত্রিকায়। সম্পাদনা করেছেন সাপ্তাহিক আনন্দ দিন পত্রিকার। নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন বিনোদন পত্রিকা- জেমিনি’র।

টেলিভিশন সাংবাদিকতা :
ইকবাল করিম নিশানের টেলিভিশন সাংবাদিকতা শুরু আরটিভি দিয়ে। টিভি সাংবাদিকতার যা কিছু শেখা- তার সবটুকই সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার কাছে। নিশান দীর্ঘদিন আরটিভির যুগ্ম বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন দিগন্ত টেলিভিশনে। গাজী টেলিভিশনের (জিটিভি) জন্মলগ্ন থেকেই কাজ করছেন। এখন নিশান জিটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক।

অভিজ্ঞতা :
সাংবাদিকতা ইকবাল করিম নিশানের কাছে একটা রোমাঞ্চকর বিষয়। এই কাজটি বরাবরই দারুণ উপভোগ করেন। তার ভাষায়- সাংবাদিকতা শেখার বড় পাঠশালা হচ্ছে পত্রিকা। পত্রিকা ও টেলিভিশন সাংবাদিকতার মধ্যে পার্থক্য হলো- পাঠক হিসেবে পত্রিকায় আমরা খবর পড়ি। দর্শক হিসেবে টেলিভিশনে খবর শুনি ও দেখিঅ পাশাপাশি সাংবাদিক হিসেবে পত্রিকায় খবর লেখা হয় আর টিভিতে তা বলতে হয়। পার্থক্য এই লেখা আর বলা। তিনি মনে করেন- নতুন প্রজন্ম তাদের চেয়ে বেশী মেধাবী। ওরাও ভালো কাজ করছে। তবে ওদের মধ্যে তাড়াহুড়োর একটা ব্যাপার আছে। সবকিছু যেন সহজে পেতে চায়।

নাটক রচনা :
সাংবাদিকতার সিদ্ধহস্ত নিশান এই কাজের পাশাপাশি মাঝে নাটক রচনা ও পরিচালনা করে সুনাম কুড়িয়েছেন। ইতোমধ্যে ২টি ধারাবাহিক ও ৫টি খন্ড নাটক পরিচালনা করেছেন তিনি। নাটক গুলো হলো- দুই বিহঙ্গ, সুন্দরীতমা, তুমি, অবশেষে একদিন, একদা। নাটকের কাজে নিয়মিত না হওয়া প্রসঙ্গে নিশান জানান নৌকায় পা দিয়ে বেশিক্ষণ থাকা যায়না। ফলে সাংবাদিকতাই এখন তার ধ্যান-জ্ঞান।

স্বীকৃতি :
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ইতিমধ্যে ইকবাল করিম নিশান অনেক গুলো সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননা সমূহ- শেরে বাংলা গোল্ড মেডেল এওয়ার্ড, বঙ্গবীর ওসমানী এওয়ার্ড, বাংলাদেশ ফিল্ম মুভমেন্ট থার্ড ইন্টারন্যাশনাল এওয়ার্ড, ফুলকলি এওয়ার্ড, আমরাকুঁড়ি এওয়ার্ড, বাংলা সেন্টার লন্ডন এওয়ার্ড, সিজেএফবি এওয়ার্ড।

পেশাগত দায়িত্বে বিদেশ সফর :
ইতিমধ্যে পেশাগত কাজে ইকবাল করিম নিশান পৃথিবীর বহু দেশ সফর করেন। উল্লেখ যোগ্য হল- আমেরিকা, ইতালী, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, জার্মানী, অষ্টেলিয়া, সুইডেন, মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, সিঙ্গাপুর, ভারত।


Advertisement

আরও পড়ুন