আজ মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মোহর বিয়েকে প্রেমময় করে

Published on 08 June 2016 | 1: 39 pm

মুহম্মদ হুমায়ুন কবির ছিদ্দিকী

ভূমিকাঃ বিয়ে শাদীতে মোহর অপরিহার্য শর্ত। মোহর নিয়ে আমাদের সমাজ জীবনে নানা অজ্ঞতা বিরাজমান। আছে রকমারী কুসংস্কারও। ফলে নারীরা হচ্ছেন অনিবার্য বঞ্চনার শিকার। যে নারী আমাদের সমাজের অর্ধেক, কন্যা, জায়া, জননী। সেই তাদেরই বঞ্চনার পরিণতি বড় ভয়াবহ, করুণ ও নির্মম। একে অস্বীকার করার উপায় নেই। নারী সমাজ বঞ্চিতা হলে মানবতাই বঞ্চিত হয়। মানবাধিকারের লংঘন হয়। মানবতা অপমানিত ও পরাজিত হয়। ফলে পরিবারে ভাঙ্গন, সমাজে অশান্তি আর রাষ্ট্রে বিশৃংখলা অনিবার্য হয়ে ওঠে। আজকের সমাজ ব্যবস্থা এর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। এর নিরাময় হতে পারে অজ্ঞতা দূরীকরণ, সংস্কার সাধন, শরীয়াঃ আইনের বাস্তব প্রয়োগ ও অনুশীলনের মাধ্যমে। আর সে উদ্দেশ্যেই চলতি আলোচনার প্রয়াস।

নারী আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্টি কৌশলের বিস্ময়কর নিদর্শন এবং তাকে ছাড়া তাঁর বিরাট সৃষ্টি কারখানা অচল হয়ে পড়ে। অপর দিকে সে না হলে পুরুষের জীবন হয় নিতান্ত নীরস ও একেবারে আনন্দহীন। নারী-পুরুষের মিলনেই আল্লাহ তা’য়ালার সৃষ্টি কারখানা চালু থাকে। নারী তার দেহ ও মান – সম্ভ্রম পুরুষের নিকট অকাতরে সমর্পণ করে। এই আত্মদান ও প্রেম-প্রীতির সম্যক আর্থিক বিনিময় ও প্রতিদান সম্ভব নয়। তবে নারীর মর্যাদার খাতিরে যথাসাধ্য এর প্রতিদান দেয়া পুরুষের অবশ্য কর্তব্য। সদাচার এবং সৌজন্য ও তাই দাবি করে। স্ত্রীর জন্য স্বামীর এ দানকেই ইসলামের পরিভাষায় “মোহর” বলে। কোন পুরুষ যদি বিনিময়ে কিছুই দিতে না চায়, তবে নারীর দেহ সমর্পণ অশুদ্ধ হবে না বটে কিন্তু ইসলামী আইন নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। ইসলামী আইন অবশ্যই স্বামীর যোগ্যতা ও স্ত্রীর সামাজিক মর্যাদা অনুসারে তার পরিতোষিক (মোহর) আদায় করে দিতে তৎপর।

যদিও বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় উভয় পক্ষের সমতা, সম্মতি ও আগ্রহের ভিত্তিতে, তবুও দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরুষের উপর ইসলাম অধিকতর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বোঝা অর্পণ করে। একদিকে যেমন স্বীয় স্ত্রী ও সন্তান সšুÍতির খোরপোশ, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে স্বামী আইনতঃ ও নীতিগত ভাবে বাধ্য, অপরদিকে সারা জীবনের জন্য স্ত্রীকে একান্ত ভাবে তার জন্য হালাল এবং অপরের জন্য হারাম করে নেবার এ বৈবাহিক সম্পর্কের বিনিময়ে একটি যুক্তি সংগত পরিমাণের অর্থ বা সম্পদ মোহর রূপে স্ত্রীকে প্রদান করতে ও স্বামী বাধ্য থাকে। কুরআন মাজীদ নারীকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে; তাকে যে সকল অধিকার প্রদান করেছে, তন্মধ্যে “মোহর” অন্যতম।

ইসলাম পূর্বযুগে পৌত্তলিক আরবে বিবাহে “মোহর” অত্যাবশ্যক শর্ত হিসাবে গণ্য হত। এবং “মোহর” প্রদানের পরই শুধু স্বামী স্ত্রীর যথার্থ আইন সংগত সম্পর্ক স্থাপিত হত। “মোহর” ব্যতীত বিবাহ বন্ধনকে খুবই জঘন্য এবং অবৈধ সম্পর্ক হিসাবে বিবেচনা করা হতো। আরব কবি আনতারের উপখ্যানে দেখা যায় যে “মোহর” ব্যতীত যে বিবাহ হত আরব মহিলারা তাকে মর্যাদা হানিকর বলে মনে করত। তারা ইহা ঘৃনার সাথে প্রত্যাখান করতঃ বিজয়ীরাই কেবল বিজিতদের মেয়েদেরকে “মোহর” ব্যতীত বিবাহ করত।

মোহর কি? এর উত্তরে বলা যায়, বিয়েতে অপরিহার্য প্রদেয় হিসেবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী যে অর্থ-সম্পদ পেয়ে থাকে তাকে মোহর বলে। শরীয়তের পরিভাষায়ঃ “বিবাহ বন্ধন উপলক্ষে স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক বাধ্যতামূলক ভাবে প্রদত্ত সম্পদকে “মোহর” বলে। “মোহর” স্ত্রীর অধিকার এবং তার নিজস্ব সম্পদ। এর মালিকানা স্বত্ত্ব একমাত্র তারই। এটা মাফ করে দেওয়া বা আংশিক মাফ করার অধিকার তার ছাড়া আর কারো নেই।

বিয়েতে নারীকে মোহর দেয়ার জন্য পুরুষের প্রতি আল্লাহর এ নির্দেশ নামাজ রোজার মতই কুরআনী নির্দেশ। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন, “আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্ট চিত্তে দিয়ে দাও। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে অংশ বিশেষ ছেড়ে দেয় তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।” নিসাঃ ৪

মোহরানা স্বামীর করুণা নয়, নয় সামাজিক কোন ট্র্যডিশন। মহানবী (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহর দেয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে কিন্তু সেই মোহর আদায় করার তার ইচ্ছে নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে জ্বেনাকার বা ব্যাভিচারী হিসাবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ)
এখন ভেবে দেখুন এটা কত বড় কঠোর সতর্কবাণী। বিয়ের সব কিছু বিদ্যমান থাকা স্বত্ত্বেও যদি সে জ্বেনাকার বা ব্যাভিচারী বলে গণ্য হয়, তাহলে যে কারণে তা হবে সেটা সংশোধন কি জরুরী নয়? মোহর একটা মেয়ের অর্থনৈতিক অগ্রীম নিরাপত্তা। সংকটকালে সে যেন এ সম্পদ ব্যবহার করে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে তার জন্যে এ ব্যবস্থা।

মোহরের সম্পর্ক বিয়ের সাথে, বিয়ে হলেই বাধ্যতামূলক মোহরানা দিতে হবে। তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে মোহরানা সামাজিক প্রদর্শনীমূলক বিষয় নয়। ইহা অবশ্য প্রদেয়। অবশ্য পরিশোধ্য ঋণ। মোহর বিবাহ বন্ধনের সূচনাতে স্ত্রীর প্রতি স্বীয় আগ্রহ এবং তাহাকে পাইবার আকাংখার প্রতীক। আগে হউক পরে হউক ইহা শোধ করিতে হইবে। নিজেদের কৌলিনত্ব জাহির বা লৌকিকতার খাতিরে মোটা অংকের মোহর নির্ধারন করে পরে তা পরিশোধ না করা কবিরা গোনাহ।

পৌরুষের অধিকারী একজন ঈমানদার পুরুষ স্ত্রীকে মোহরানা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দেবেন, এটাইতো কাম্য হওয়া উচিৎ। মোহরানা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত স্ত্রীর একান্ত এক অধিকার, স্বামীর করুণা নয়। মোহরানা স্ত্রীর এমন একটা প্রাপ্য যে তিনি স্বামীর সাথে মিলিত হওয়ার আগেই পাওনা হন, তবে স্ত্রী সময় দিলে বাকী রাখাও চলে। কিন্তু মোহরের অর্থ আবশ্যিকভাবে পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, জাগতিক লেন-দেনের ব্যাপারে যেমন নগদ মেয়াদী ইত্যাদি ব্যবস্থায় বিনিময় পরিশোধ করা শরীয়ত সম্মত। মোহরের বেলায়ও ফক্বীহগণের মতে উপরোক্ত ব্যবস্থাদি জায়েজ। তবে নগদ পরিশোধ সর্বক্ষেত্রে উত্তম ব্যবস্থা। মোহর অবশ্যই দিতে হবে। কারণ এর বিনিময়ে ইসলামী শরীয়তে স্ত্রীকে স্বামীর জন্য হালাল করে দিয়েছে। বরকে বিবাহের প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের আদেশ প্রদানের উদ্দেশ্য হল তাকে মুসলমান সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্যরূপে গড়ে তোলা, যেন সে পরমুখাপেক্ষী না হয়ে স্বাধীনভাবে স্ব-সম্মানে জীবন যাপন করতে পারে।

ইসলামে যৌতুকের কোন ভিত্তি নেই। হিন্দু সমাজ হতে এটা গৃহীত। তবে সঙ্গতি থাকলে নিজ খুশীতে পাত্রীপক্ষ বরকে কিছু দান করবে/ উপহার হিসাবে দিবে এতে কোন দোষ থাকতে পারেনা। কিন্তু কিছু দাবি করার অধিকার বর পক্ষের নেই।

স্ত্রীর প্রাপ্য মোহর পরিশোধের দায়িত্ব স্বামীর উপর বর্তায়। অবশ্য পাত্রের কোন নিকটাত্মীয় তার পক্ষ থেকে শোধ করে দিলে তা পরিশোধ হবে। ধর্মতঃ ও আইনতঃ যেহেতু মোহর আদায়ের দায়িত্ব স্বামীর কাজেই বিয়ের সময় মোহরের ব্যাপারে পাত্রের আর্থিক যোগ্যতার বিষয়ও তার মতামত নিয়ে সংগত পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করা বাঞ্চনীয়। বিবাহ বন্ধন অটুট থাকাকালে স্বামী নির্ধারিত মোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারবে, কিন্তু হ্রাস করতে পারবেনা। প্রক্ষান্তরে স্ত্রী হ্রাস করতে পারবে, বৃদ্ধি করতে পারবে না।

এখানে সবিশেষ উল্লেখ্য যে কোন দম্পতির বিয়েতে মোহর তাদের ইচ্ছার বাইরে কম বেশি হতে পারে, বিবাহের পর বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনা করে উভয়ের সমঝোতা ও সম্মতিতে হ্রাস বৃদ্ধির ইনসাফ পূর্ণ ব্যবস্থা আছে। ঐক্যমত্য না হলে স্বামী বাড়াতে পারবেন, কমাতে পারবেন না। আর স্ত্রী কমাতে পারবেন, বাড়াতে পারবেন না।

দেশের প্রায় সব অঞ্চলে এ কু প্রথা চালু আছে যে স্ত্রীর সাথে প্রথম নির্জন সাক্ষাতে মোহরানার টাকা মাফ করিয়ে নেয়া। দাদা, নানা, ভগ্নিপতি, দাদী, নানীরা শিখিয়ে দেন বরকে, প্রথম রাতেই মাফ চেয়ে নিও। নারীর স্বভাবগত লজ্জার সুযোগে (তাও আবার প্রথম রাতে) মোহরানা মাফ করিয়ে নেয়া আর অন্ধকারে কারো গলায় ছুরি ধরে তার সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়ার মধ্যে কি কোন পার্থক্য থাকতে পারে?

বাসর রাতে আবেগ উচ্ছ্বাস আর স্বামী নামক স্বপ্নের রাজপুরুষ, আর সারা জীবনের সঙ্গী যখন মোহর মাফ চায়, তো সে রেওয়াজ মোতাবেক মাফ করে দেয়ার সম্মতি দেয়। সে বুঝতে পারেনা যে এ ভালবাসা আবেগ আর উচ্ছ্বাস নাও থাকতে পারে। মোহর নিয়ে এরূপ নাটক করার জন্য আল্লাহ কুরআনের আয়াত নাযিল করে মোহর ফরজ করেননি। বর প্রথম রাতে স্ত্রীর কাছে মাফ চেয়ে পৌরষত্বের চরম অপমান করে।

ফক্বীহগণ বলেছেন যে, মোহর মাফ চেয়ে নিলে, অথবা ছলে বলে কৌশলে বা চাপ প্রয়োগে মাফ করিয়ে নিলে মাফ হবে না। তলবী মোহর অনাদায়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর সাথে একত্রে বসবাস করতে এবং স্ত্রী চর্চার সুযোগ দিতে অস্বীকার করতে পারে। অথবা স্বামী যতক্ষণ পর্যন্ত না সম্পূর্ণ মোহর পরিশোধ করে ততক্ষণ স্ত্রী নিজেকে স্বামী হতে পৃথক রাখা এবং জৈবিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের অধিকার রাখে। এমতাবস্থায়ও খোরপোষ প্রদান স্বামীর জন্য আবশ্যিক থাকবে।

হাদীসের বিশ্লেষণ থেকে বিয়ে ও ব্যাভিচারের ভেতর পার্থক্য সৃষ্টিকারী ব্যাপারগুলো হলোঃ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গার্জিয়ানের (অভিভাবকের) উপস্থিতিতে দু’জন স্বাক্ষী ও মোহরানা। আর এ দুটি বিষয় হচ্ছে বিয়ে ও ব্যাভিচারের মধ্যে পার্থক্য।

মোহর প্রদানে অসামর্থ্য হলে বিবাহ থেকে বিরত থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “যাদের বিবাহের সামর্থ নেই আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে। (সুরা নূর – ৩৩)

ইসলামের বিধান মতে বিবাহের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব পাত্রপক্ষের উপর ন্যস্ত। সে যদি এই ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ হয়, তবে তার সঙ্গতি না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিবাহ হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এমন ব্যক্তিকে বিবাহ হতে বিরত থেকে সংযম অবলম্বন ও রোযা রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসুল (সঃ) বলেন তোমাদের মধ্যে যে বিবাহে সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ (পর নারী দর্শন হতে) দৃষ্টিকে নীচু রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। আর যে, বিবাহের (ব্যায়ভার বহনের) সামর্থ রাখেনা সে যেন রোযা রাখে। নিশ্চয় রোযা তার জন্য ঢাল হবে। (বুখারী-মুসলিম, কিতাবুন নিকাহ)

“মোহরের” পরিমাণঃ “মোহর” এর সর্বনিন্ম পরিমান দশ দিরহাম যার বর্তমান পরিমান ১০ ঢ ৩.৪০৩ গ্রাম বা ৩৪.০৩ গ্রাম রূপার বর্তমান বাজার মূল্য যা তাই। (উল্লেখ্য যে ১ দিরহাম = ৩.৪০৩ গ্রাম রূপা)। (তথ্যসূত্রঃ মুফতি রশীদ আহমদ এর আহসানুল ফতওয়া)
১. হযরত আলী (রাঃ) বলেন নারীর লজ্জাস্থান বৈধ হবার নুণ্যতম মোহরানা হল দশ দিরহাম।
২. হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন “দশ দিরহামের কম মোহর হতে পারে না।
৩. হযরত জাবির (রাঃ) বলেন “দশ দিরহামের কম কোন মোহরানা নেই।”

মোহর এর সর্বোচ্চ পরিমাণের কোন নির্দিষ্ট সীমা দেয়া হয়নি। কারো কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স আছে। আবার কেউ বা শত টাকার ঋণের বোঝা সইতে পারে না। এ অবস্থায় সমান সমান অথবা একটা পরিমাণ নির্ধারিত করে দিলে ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষ মজলুম হত আর ক্ষেত্র বিশেষে নারী’ বঞ্চিতা হত। এজন্য ইসলামী শরীয়াঃ সর্বোচ্চ মোহর নির্ধারণ করেনি। এটা ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের দাবী। এটাই যুক্তি সংগত বুদ্ধি বৃত্তিক ও বিজ্ঞান সম্মত। বরের সাধ্য ও সংগতি অনুযায়ী উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা পরিমাণ “মোহর” নির্ধারণ হওয়া উচিত।

ইমাম আবু দাউদ ও ইমাম নাসাঈ (রহঃ) নিজ নিজ কিতাবদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন যে, আবিসিনিয়ার অধিপতি নাজ্জাশী হাবশায় হযরত উঁম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান এর বিবাহ রাসুল (সঃ) এর সাথে দিয়েছেন এবং ৪ হাজার দিরহাম/দিনার পরিমাণ মোহর নিজ তহবিল হতে নগদ প্রদান করেছিলেন এবং উম্মে হাবীবাকে সুরাহবীল ও ইবনে হাসানের সাথে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছেন।

উল্লেখ যে, রাসুল (সঃ) এর জামানাতেই সাহাবায়ে কেরামের বিবাহ শাদীতে হাজার দিরহাম, চারহাজার দিনার/দিরহাম এমনকি ৪০ হাজার দিরহামের বর্ণনা পাওয়া যায়। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বরের সাধ্য থাকলে মোহরানা বেশী হতে পারে।

“মোহরে ফাতেমী” কত ছিল?
নবী কারিম (সঃ) ফাতিমা (রাঃ) কে বিবাহ দিলেন ৪৮০ দিরহাম দেন মোহর এ। অন্য বর্ণনায় আছে রাসুল (সঃ) ৪০০ মিস্কাল রূপার দেন মোহরে ফাতেমাকে আলীর কাছে বিবাহ দিলেন। হযরত আলী (রাঃ) বলেন, তিনি তার যুদ্ধে ব্যবহৃত ঢালটি ৪৮০ দিরহামে বিক্রি করে রাসুল (সঃ) এর দরবারে হাজির হলেন এবং তা দিয়ে ফাতিমার “মোহর” আদায় করেন।

বুঝা গেল হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর মোহর এর ব্যাপারে দু’টি মতামত আছে। একটি হচ্ছে ৪৮০ দিরহাম। অপরটি হচ্ছে ৪০০ মিসকাল চান্দী/রূপা। প্রথমোক্তটি হাদীস ও সীরাতের কিতাব দ্বারা প্রমাণিত। ২য়টি শুধুমাত্র ‘তারীখে খামীস’ এর। সুতরাং প্রথম বক্তব্য অগ্রগণ্য।

Kabir

* লেখক : একজন মাওলানা ও বর্তমানে ঢাকার উত্তরাতে ব্যবসা করছেন


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন