পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার বর্ণনা দিলেন ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহির

মাকে হারিয়ে ছেলের আহাজারি
জঙ্গি দমনে চট্টগ্রামের আলোচিত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে (৩৩) ছুরিকাঘাতের পর গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

মিতু তার একমাত্র ছেলে আক্তার মাহমুদ মাহিরকে (৭) স্কুলবাসে তুলে দিতে যাচ্ছিলেন। জিইসি মোড়ে মোটরসাইকেলে তিন দুর্বৃত্ত তাকে ছুরিকাঘাতের পর গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

বাবুল-মিতু দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলে বড়, মেয়ে ছোট। ছেলে মাহির ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

এ হত্যাকাণ্ডের পর মাহিরকে সান্ত্বনা দিতে অনেকেই ছুড়ে আসেন জিইসি মোড়ে তাদের ভাড়া বাসায়। কিন্তু কারও সান্ত্বনায় যেন কাজে আসছে না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহির উপস্থিত সাংবাদিকদের বলে, ‘আম্মুকে যে গুণ্ডারা মারসে, ওরা হোন্ডা করে ওখানে দাঁড়ায়সিল। তারা ছিল তিনজন।’

সে বলে, ‘একজন দৌড়ায়ে আইসা আম্মুকে নিচে ফালাই দিয়ে চাকু ঢুকাই দিসিল। আরেকজন গুলি মেরে মেরে ফেলসে। তারপর আম্মুর মুখের থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।’

মাহির কান্নায় সেখানে উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এসপি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর বাবুল আক্তার যোগদানে ঢাকায় আসেন। এরই মধ্যে এই ঘটনা ঘটল।

বাবুল আক্তার এর আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। এজন্য তাকে হত্যার একাধিক হুমকিও দেয়া হয়েছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, জিইসি মোড় এলাকায় ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু (৩৫) হত্যায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে উনি (মিতু) বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলের বাসে উঠিয়ে দেয়ার জন্য এখানে এসেছিলেন। একটা মোটরসাইকেলে তিনজন এসেছে। এদের একজন হেলমেট পরা।’

সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘প্রথমে একটু তর্কাতর্কি করে একপর্যায়ে একজন ছুরি মেরেছে। পরে গুলি করে চলে গেছে। ঘটনাস্থলেই উনার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘আমরা এখন খতিয়ে দেখছি, এই রাস্তায়, অয়েল ফুড থেকে শুরু করে মন্দির পর্যন্ত অনেক সিসি (ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা) আছে। সবক’টির ফুটেজ নিয়ে আমরা এদের চেহারা শনাক্ত করতে পারব।’

ইকবাল বাহার বলেন, ‘বাবুল আক্তার যেহেতু জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিয়ে অনেক কাজ করেছে, তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটি অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখব এবং আশা করি, খুব দ্রুততার সঙ্গেই আমরা এদের গ্রেফতার করতে পারব।’

শাহাদাৎ আশরাফ শাহাদাৎ আশরাফ

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market