ট্রেনের ফায়ার এক্সটিংগুইশার এর মেয়াদ নেই!

চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন। ভুলে বা অভ্যাসের বশে সিগারেট খেয়ে আগুন ফেললেন। হঠাৎ লেগে যেতে পারে আগুন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ‘ফায়ার এক্সটিংগুইশার’ এ কিছুটা ভরসা থাকে। কিন্তু সেই এক্সটিংগুইশার যদি হয় মেয়াদোত্তীর্ণ তাহলে!

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের গার্ড ব্রেক, ইঞ্জিন, জেনারেটর ও বগিতে ব্যবহৃত এক্সটিংগুইশারগুলোর অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। আবার অনেক বোতলের ওপর আলাদা কাগজ সেঁটে বসানো হয়েছে তারিখ।

শনিবার (৫ জুন) দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখে মেলে বেশ কিছু ফায়ার এক্সটিংগুইশারের, যেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আগেই।

২০১৪ সালের ১৩ মে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আন্ত:নগর কালনী এক্সপ্রেসের খাবারের বগিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আগুন জ্বলতে থাকে। এতে ট্রেনটির খাবারের বগিসহ তিনটি বগি পুড়ে যায়। আগুন নেভানোর জন্য সে সময় বগি বা ইঞ্জিনে কোন ব্যবস্থা ছিল না। এরপর থেকে রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনে এক্সটিংগুইশার দিয়ে আসছে।

নিয়মানুয়ী ট্রেনের জেনারেটর রুমে দুইটি, গার্ড ব্রেক রুমে দুইটি, দুই ইঞ্জিনে দুইটি ও বগি প্রতি একটি করে এক্সটিংগুইশার দেওয়ার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ বগিতে এই ফায়ার এক্সটিংগুইশার দেওয়া হয় না।

ট্রেন ছাড়ার আগে পরীক্ষা করে এক্সটিংগুইশার দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষা করা হয় না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ট্রেনে দিতে আটটি এক্সটিংগুইশার রাখা হয়েছে। এর মধ্যে লাল রঙের একটি এক্সটিংগুইশারের গায়ে লেখা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর।

একই রঙের আরো দুইটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুছে গেছে। আরো দুইটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নাম ঠিকানাবিহীন লেবেলে দেওয়া আছে দু’টি তারিখ।

কমিউটার ট্রেন তুরাগের নিয়মিত যাত্রী ইমরান হোসেন জানান, এই ট্রেনে সাতটি বগি থাকে। এরমধ্যে একটি কি দুটিতে এক্সটিংগুইশার থাকে। এক্সটিংগুইশার এর চেহারা দেখে মনে হয় না এর মেয়াদ আছে।

ট্রেনের আরোহী একটি আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করে বলেন, টেস্ট না করেই এ লেবেল লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এসব বোতল সম্পর্কে ভালো জানি। সবগুলোর মেয়াদ শেষ।

এক্সটিংগুইশার এর দায়িত্বে থাকা কাউকে দেখা না গেলেও রাতে কমলাপুর স্টেশনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো. রায়হান হোসেন স্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা করতে তেমন কাউকে দেখি না।

তিনি বলেন, ট্রেন আসার একটু আগে ভেতরে দিয়ে আসা হয় আর ট্রেন আসলে কোন কোন সময় নামানো হয়, কোন সময় হয় না। মেয়াদ আর কি ট্রেনে তুলে দিতে ‍পারলেই হয়।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market