আজ সোমবার, ২০ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৫ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চাপের মুখে বাজেট সুদ ভর্তুকি ও বেতন মেটাতে ব্যয় হবে এক-তৃতীয়াংশ

Published on 05 June 2016 | 3: 22 am

প্রস্তাবিত বাজেটের এক লাখ ৮ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে ভর্তুকি, সুদ ও সরকারি খাতে বেতন-ভাতা পরিশোধে। এই ব্যয় মোট বাজেটের প্রায় ৩২ শতাংশ। তিন খাতে চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি গুনতে হবে। উল্লেখিত এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হবে ৫০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেটের অর্থায়নে দেশী-বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হবে ৩৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি ও প্রণোদনায় ব্যয় বাবদ খরচ হবে ১৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে এই তিন খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৮৭ হাজার ৪৩ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ভর্তুকি কমানো উচিত। ভর্তুকিতে যে অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয় প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। বিনিয়োগনির্ভর না হলে সুদ খাতে অর্থব্যয় বাড়বে। এখন সবচেয়ে বেশি ঋণ নেয়া হচ্ছে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে। এখানে সুদের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। আর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনের সঙ্গে ভাতাও আগামী অর্থবছর থেকে বাড়বে। এক্ষেত্রে তা প্রদান করতে হবে।

আগামী বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পরিশোধে। এ খাতে ব্যয় হবে বাজেটে প্রায় ১৫ শতাংশ বা ৫০ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় হবে দেশী ও বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ। এ খাতে ব্যয় হবে ৩৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১২ শতাংশ। এছাড়া ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে আগামী বছর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ শতাংশের সমান।

বেতন-ভাতা খাত : আগামী পহেলা জুলাই থেকে সরকারের সাড়ে ১২ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় সব ধরনের ভাতা প্রদান করা হবে। চলতি অর্থবছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হয়। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা খাতে সরকারের ব্যয় এক দফা বাড়বে। ওই হিসাবে চলতি অর্থবছরে বেতন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের তুলনায় বেশি ব্যয় হবে আগামী অর্থবছরে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অষ্টম বেতন স্কেলে মুল বেতনের জন্য ৪২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আগামী অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

ঋণের সুদ পরিশোধ : প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতির পরিমাণ ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ এ ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে নতুন বছরে বিদেশী ঋণ, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে অর্থ। এসব ঋণের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ঋণের সুদ ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং বিদেশী ঋণের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে। গত বছর ঋণ খাতে ৩১ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই হিসাবে ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে ৮ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

ভর্তুকি ও প্রণোদনা : আগামী অর্থবছরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি থাকছে না। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কম থাকার কারণে এ খাতে ভর্তুকি দিতে হবে না। যদিও চলতি বাজেটে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জন্য ভর্তুকি বাবদ ৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তা ব্যয় হয়নি। নতুন বাজেটে ভর্তুকি-প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটে এ খাতে ব্যয় বাড়বে ৪ হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা। তবে কৃষি খাতে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন