যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা কমলেও বেড়েছে বাংলাদেশে

গত বছর বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা এবং এতে নিহতের সংখ্যা কমলেও বেড়েছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে বিশ্বে সন্ত্রাসী হামলা ১৩ শতাংশ কমেছে।

বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘দেশভিত্তিক প্রতিবেদন ২০১৫’-এ বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তা সত্ত্বেও আগের বছরের তুলনায় ২০১৫ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এবং সরকারি স্থাপনায় সন্ত্রাসী হামলা ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।

এতে বলা হয়, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং ভারতীয় উপমহাদেশে সক্রিয় আল কায়দার (একিউআইএস) মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো প্রথমবারের মতো এসব হামলার দায়ও স্বীকার করেছে। বিদেশি নাগরিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পুলিশ, ব্লগার ও প্রকাশকরাই ছিলেন এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু।

তবে বাংলাদেশ সরকার এসব হামলার জন্য ‘বিরোধী রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সন্ত্রাসী’দের দায়ী করে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় থেকে শুরু করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় এবং প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যায় আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা একিউআইএসের ‘দায় স্বীকারের’ কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ইতালির নাগরিক এনজিও কর্মী সিজার তাভেলা ও জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও হত্যার ঘটনাসহ ৯টি হামলায় আইএসের নামে ‘দায় স্বীকারের’ কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বাংলাদেশে আইএসের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বলে সরকার যে দাবি করে আসছে, তাও উল্লেখ করা হয় এতে। প্রতিবেদনে সরকার স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বেশ কিছু সদস্যকে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় শিকার পাঁচ দেশ ইরাক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ভারত ও আফগানিস্তান। এর মধ্যে ইরাক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়ায় ২০১৫ সালে সন্ত্রাসী হামলা ১৩ শতাংশ কমেছে। সন্ত্রাসী হামলাগুলো অর্ধেকই ভারত ও আফগানিস্তানে ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক জাস্টিন সিবারেল প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বলেন, গত বছর উল্লেখিত পাঁচ দেশে ৫৫ শতাংশ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ৭৪ শতাংশই এই পাঁচ দেশের নাগরিক। তবে গত বছর বিশ্বের ৯২টি দেশে সন্ত্রাসী হামলা হয়।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৭৪টি। এসব হামলায় নিহত হয় ২৮ হাজার ৩০০ মানুষ। ২০১৪ সালের তুলনায় এ হার ১৪ শতাংশ কম।

জাস্টিন সিবারেল জানান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর, ফিলিপাইন, সিরিয়া এবং তুরস্কে হামলা ও নিহতের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ বছরে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, আফগানিস্তান এবং লিবিয়াসহ ১১টি দেশে আইএস জঙ্গিরা সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করে, সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ও ধরন ২০১৫ সালে যেমন পাল্টেছে, তেমনি আগের চেয়ে তা অনেক জটিলও হয়েছে। যেসব দেশে মুক্তচিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাভাবিক পরিবেশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, সেসব দেশের সাধারণ মানুষের হতাশাকে পুঁজি করছে সন্ত্রাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, গত বছর আইএস এককভাবে সবচেয়ে বড় হুমকি ছিল। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের দখলদারিত্ব কমলেও লিবিয়া ও মিসরে তারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস লালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশটি সিরিয়া ও ইরাকে সংঘর্ষে মদদ দিচ্ছে। তাছাড়া বাহরাইনে সরকারবিরোধী সহিংস শিয়া গোষ্ঠীকেও মদদ দিচ্ছে ইরান।

এদিকে জাতিসংঘ সম্প্রতি স্বতন্ত্রভাবে হুঁশিয়ার করেছে, আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করার দিকেই জোর দিচ্ছে।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market