আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ইয়েস, উচ্চাভিলাষী

Published on 04 June 2016 | 4: 02 am

প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেটে ৭১ শতাংশই আসবে রাজস্ব খাত থেকে। এটা উচ্চাভিলাষী কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর, ‘ইয়েস, আমি নিজেই বলছি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী।’

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, গত বছর রাজস্ব আদায় ‘নিম্নমানের’ হলেও আগের বছর পুরো সময় তা দুই অংকের ঘরেই ছিল। দুঃখজনক এটি চলতি অর্থবছরে হয়নি। তবে গত ৭ বছরে আমার সময়ে রাজস্ব আদায় সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এজন্যই ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আদায়ের প্রস্তাব করেছি। এটি আদায় সম্ভব।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগের ধাক্কা এসেছে। ফলে আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কালো টাকা সাদা করার প্রসঙ্গে বলেন, এর জন্য একটি আইন আছে। সেটি আগামীতেও বহাল থাকবে। এ সরকার ক্ষমতায় যতদিন থাকবে উল্লেখিত আইনটিও থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ইউনুসুর রহমান, পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম।

তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর বাড়ানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট নয়। জিনিসপত্রের দাম বাজেটে কমলেও বাজারে প্রভাব পড়ে না এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম কমেছে। আশা করছি এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে দরকার বিনিয়োগ। কিন্তু বর্তমান বেসরকারি বিনিয়োগের পরিস্থিতি আগামীতে অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের একটি ধাক্কা এসেছে। বিদেশী বিনিয়োগ ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি আস্থার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। দেশের কর্মযজ্ঞ লোকজন এখন ধর্মঘট করে না। কর্মজীবী শক্তি কাজ করছে। ফলে বিনিয়োগ আগামীতে আরও বাড়বে।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় মোটরসাইকেল উৎপাদন শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করায় শিল্প খাত ক্ষতিগ্রন্ত হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অদূর ভবিষ্যতে আমরা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করব। এর অংশ হিসেবে আমদানি পণ্যে শুল্ক ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। এক সময় ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত ছিল। এখন সেটিকে কমিয়ে ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এখন দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের নিয়মিত আইন রয়েছে। যেখানে জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করার সুযোগ রয়েছে। এটি নিয়ে প্রতি বছর বলা হয় আমি কালো টাকার ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন। এ প্রশ্নের কোনো দরকার হয় না। এই আইন আগামীতেও থাকবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন প্রথা চালুর কথা বলা হয়েছে। সেটি এ বছর থেকে কার্যকর হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই স্কিম চালু করা হবে। এটি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার মতো এখানেও কিছু করা হবে।

দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে স্থানীয় অনিশ্চিত শাসন ব্যবস্থাকে মনে করছেন আপনি। তাহলে কি আপনি উপজেলা নির্বাচনের সহিংসতাকে মাথায় রেখে এ ধরনের কথা বাজেট বক্তব্যে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, না। আমার মতে, প্রতিটি জেলার নিজস্ব অবস্থান তৈরি থাকতে হবে। সেখানে নিজস্ব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নও সেখান থেকে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার রেখেই জেলাকে ক্ষমতায়ন করতে হবে। এজন্য দরকার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে অকটেনের মূল্য বেশি আর গরিব মানুষের ব্যবহৃত জ্বালানির মূল্য কম কমানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রক্রিয়াটি চলমান। তবে এটি সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করছি। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যে ৫০ ডলারের বেশি দাম উঠেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সিম ট্যাক্স থেকে কর আসে না। ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এটা আর বাড়বে বলে মনে হয় না। তার মানে এখান থেকে আর বেশি কর আসার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও বলেন, মোবাইল সেবার (টক টাইম, এসএমএস, এমএমএস ও ইন্টারনেট) ওপর কর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোয় জনমনে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। যারা কথা বলেন তাদের এটা গ্রাহ্য করা উচিত নয়। এটি রাজস্ব আয় বাড়ানোর উত্তম উপায়। এক থেকে দুটি দেশ ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ কম রাজস্ব আদায় করে।

বাজেট একটি প্রতিক্রিয়াশীল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। আপনি কি মনে করছেন, এ প্রসঙ্গে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে প্রতিক্রিয়াশীল লোকজন নেই। থাকতে পারে গুটিকয়েক। সবাই প্রগতিশীল। প্রতিক্রিয়াশীল লোকজন খালেদা জিয়ার অনুসারী হতে পারে। খালেদা জিয়ার দল কোনো দল নয়। এটি বিরোধী দলও নয়। ফলে বাজেট কোন দৃষ্টিতে প্রতিক্রিয়াশীল বলা হয়েছে তা জানা নেই।

ওই সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষকের সারের মূল্য কমাতে এই বাজেটে সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্পের ক্ষতি হয় সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা দূর করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি গণমুখী বাজেট।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ছে। দক্ষতা উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাড়ানো হয়েছে বরাদ্দ। আশা করছি আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। নন-পারফরমার কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে তাদের ধাক্কা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রতি বছর এনবিআর ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। চলতি অর্থবছরে সেটি বেড়ে ১৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে উন্নীত হবে। এর ফলে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন