আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ড. ইউনূস

Published on 28 September 2015 | 7: 50 pm

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় সময় রোববার এ বিক্ষোভ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।
 বিক্ষোভে অংশ নেয়া সায়েম চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে রয়েছেন নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিক্ষোভ চলাকালে জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হিলটন হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এ সময় বিক্ষোভরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা তার কাছে এগিয়ে গিয়ে স্বাগত জানান। তিনিও (ইউনূস) হাসিমুখে অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ছবি তোলেন। সায়েম চৌধুরী আরও জানান, বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতি দেখে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেকটা আকস্মিকভাবে উপস্থিত হওয়া নোবেল বিজয়ী এ অর্থনীতিবিদকে।

সকাল থেকেই বিক্ষোভে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে প্রবাসী বাংলাদেশী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জাতিসংঘ অফিসের সামনে অবস্থান নেন। তারা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল- ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন’, ‘শেখ হাসিনাকে না বলুন’ ইত্যাদি।

বিক্ষোভকালে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতারা বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়ে জাতিসংঘে অংশ নিন। যেভাবে এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তাতে আপনি জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে পারেন না। অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতেও শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এরপর দুপুর ২টায় ম্যানহাটনের হোটেল হিলটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত সর্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনায় যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখনও সিক্সথ এভিনিউর ফিফটি থার্ড স্ট্রিটে এ হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা। তারা সেখানেও শেখ হাসিনাকে অনির্বাচিত ও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার আহ্বান জানান। দেশে বর্তমানে খুন, গুম, নির্যাতন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, মানবাধিকার লংঘনের জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিক্ষোভকারীরা। বলেন, ৫ জানুয়ারির অগণতান্ত্রিক ও প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাই জাতিসংঘে তার ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব জায়গায় শেখ হাসিনাকে প্রতিহত করার হুমকি দেয়া হয়।

হোটেল হিলটনের সামনে আরেক বিক্ষোভে বিএনপি ছাড়াও অংশ নেয় কোয়ালিশন অব বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ আমেরিকান প্রোগ্রেসিভ ফোরাম।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা আবদুল লতীফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসেন বাবু, ডা. মুজিবুর রহমান, প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস আহমেদ, জসীম উদ্দিন ভুইয়া, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ, মিজানুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, কাজী আজম, গোলাম ফারুক, এমএ বাতিন, তোফায়েল লিটন চৌধুরী, রফিকুল মাওলা, আতিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ, এমএ খালেক আখন্দ, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, জাহাঙ্গীর এম আলম, নীরা রাব্বানী আহ্বায়ক, আবদুস সবুর, ভিপি জসিম, মোহাম্মদ হাসান, ওয়াহেদ আলী মণ্ডল নূরে আলম, এবাদ চৌধুরী, ড. নুরুল আমিন পলাশ, সায়েম চৌধুরী প্রমুখ বিক্ষোভে অংশ নেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন