আজ বৃহঃপতিবার, ১৬ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০১ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অসৎ ব্যবসায়ীদের ছাড় নয় : জেলা প্রশাসক ।। রমজানে বাজার মনিটরিংয়ে ১০ টিম

Published on 02 June 2016 | 2: 47 am

রমজানে পণ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অন্তত ১০টি টিম বাজার মনিটরিং করবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। নাগরিকদের সুবিধার্থে মনিটরিং টিমের নেতৃত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল নম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাজার মনিটরিং টিমের সাথে বাজার কমিটির প্রতিনিধিও রাখা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল বেলা সোয়া এগারোটায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় নগরীর ৩১ টি বাজার কমিটির সভাপতিসাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সরকারিবেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আরো বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের বাইরে মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বিবেচনা করলেও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কথা না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সারাবছরই তো মুনাফা করেন। রোজার মাসে না হয় একটু কম করেন। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মিটিং হয়, আইন আছে তবুও কাজ হয় না কেন? এটা দু:খজনক। আমরা প্রত্যেকেই যদি প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করি তাহলে এমনটি হওয়ার কথা না।

সভায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ীদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ন হতে দেয়া হবে না। এজন্য আমরা প্রয়োজনে কঠোর হবো। কোন ব্যবসায়ী অন্যায় কিছু করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিব। এ সময় তিনি বলেন, আমরা সৎ ব্যবসায়ীদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু অসৎ ব্যবসায়ীদের ছাড় নয়।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আরো বলেন, এই বছর রাজনৈতিকভাবে অস্থিরতা নেই। তাই বাজারও স্থিতিশীল থাকার কথা। সয়াবিনের বাজার স্থিতিশীল। চিনি অস্থির।

সভায় খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিযেশনের সাধারণ সম্পাদক ছগীর আহমদ বলেন, ‘তেল চিনি খাতুনগঞ্জের কন্ট্রোলে নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা নিম্নমানের পামওয়েল উৎপাদন করেন তাদের ব্যাপারে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে তাও আমরা জানতে চাই। ’

কাজীর দেউড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে জেলা প্রশাসন ছোলার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন সেই দরে ছোলা বিক্রি হচ্ছে না। খাতুনগঞ্জে ৭৫ টাকায় ছোলা বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু আমরা সবচেয়ে নিম্নমানের ছোলাও ৭৬ টাকায় কিনতে পাইনি। ২ হাজার ৮২০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩২০ টাকায় প্রতিমণ ছোলা বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা গাড়ি ভাড়া, ১০ টাকা ধোলাই খরচ, লাভ মিলে কত টাকায় বিক্রি করবো। ছোলার নমুনা ও রশিদ দেখিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছগীর আহমদ, আমদানিকারক আবুল বশরকে অবহিত করেছি। এ ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ক্যামিকেল ড্রামে মিশিয়ে কলা ডুবিয়ে রেখে পাকানো হচ্ছে। চিনির মোড়কে লেখা আছে ৫৮ টাকা কেজি। কিন্তু বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কামাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খালেদ চৌধুরী বলেন, ভেজাল নকল ঘিতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। ক্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, অনেক সভা হয়েছে। কিন্তু বাজার অস্থিতিশীল রয়ে গেছে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ ও ক্যাবের নাজের হোসাইন বক্তব্য রাখেন। নাজের হোসাইন বলেন, সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ডিসি একা নন। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলেরও প্রস্তাবনা থাকা উচিত।

সভায় ব্যবসায়ী খালেদ চৌধুরী বলেন, ১০ বছর আগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা পিরানহা মাছ এখনো বিক্রি হচ্ছে। অপর এক ব্যবসীয় বলেন, শুধু রমজানে নয়। সারাবছরই মনিটরিং করতে হবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন