আজ বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নগরে নতুন তিনটি সার্কেল ও সাতটি তহশীল অফিস হচ্ছে

Published on 02 June 2016 | 2: 43 am

নগরীতে আরো ৩টি সার্কেল ভূমি অফিস (এসি ল্যান্ড অফিস) এবং ৭টি ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিস হচ্ছে। জনসংখ্যার তুলনায় নগরীতে ভূমি অফিসের সংখ্যা কম হওয়ায় সৃষ্ট নাগরিক দুর্ভোগ কমাতেই ভূমি মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন সার্কেল এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে বিভিন্ন পদে ৪২ জন কর্মকর্তাকর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। গত ১৬ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সৃজিত পদগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনও দেয়। সচিব কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে দৈনিক আজাদীকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

বিদ্যমান সার্কেল অফিসগুলোর বাইরে নতুন করে চালু হতে যাওয়া ৩ ভূমি সার্কেল অফিস হচ্ছেবাকলিয়া সার্কেল ভূমি অফিস, কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিস এবং পতেঙ্গা সার্কেল ভূমি অফিস। বিদ্যমান ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসের বাইরে নতুন করে হতে যাওয়া ৭টি ভূমি তহশীল অফিস হচ্ছেবন্দর, মোহরা, খুলশী, পাহাড়তলী, দক্ষিণ পাহাড়তলী মধ্য হালিশহর ভূমি অফিস ও দক্ষিণ হালিশহর ভূমি অফিস। ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীতে সর্বশেষ সার্কেল ভূমি অফিসের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। ওদিন নবসৃষ্ট ২টি সার্কেল অফিসসহ বর্তমানে নগরীতে সার্কেল ভূমি অফিসের সংখ্যা হচ্ছে ৩ টি। এগুলো হচ্ছে সদর, চান্দগাঁও এবং পতেঙ্গা সার্কেল অফিস। একইদিন নগরীতে সার্কেল ভূমি অফিসের অধীন ৬টি নতুন ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসও করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে নবসৃষ্ট ইউনিয়ন ভূমিসহ (তহশীল) বর্তমানে নগরীতে এ সংখ্যা হচ্ছে ৯টি। এর আগে চট্টগ্রাম পৌর এলাকার জন্য ১টি উপজেলা ভূমি অফিস এবং ৩টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ছিল। ভূমি, মন্ত্রণালয় সূত্রে ২০১৪ সালের ১৯ মে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক দাপ্তরিক পত্রে নগরীতে নতুন করে সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিস স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি সৃষ্ট সার্কেল ভূমি অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসে জনবল নিয়োগের সুপারিশ করে। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সদর সার্কেল অফিসে একজন করে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পদ সৃজনে অনুমতি দেয়। সর্বশেষ গত ১৬ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ৩টি সার্কেল ভূমি অফিসের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭ জন করে ২১ জন এবং ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসের জন্য ৩ জন করে ২১ টি পদ অস্থায়ীভাবে সৃজনের অনুমতি দেয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘৩টি এসিল্যান্ড অফিস এবং ৭টি ভূমি অফিসের (তহশীল) অনুমোদন পেয়েছি। এখন সচিব কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এই অনুমোদনের জন্য আমরা পাঠিয়েছি। আশা করছি এই মাসের মধ্যে অনুমোদন পাব এবং আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বাজেট অনুমোদন হয় নি। জনবলের বিষয়ও রয়েছে। এসব পেলে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’ কিন্তু সম্প্রতি তো জনবলের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হয়েছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই সংক্রান্ত কাগজপত্র আমি এখনো পাইনি। পেলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো।’

নবসৃষ্ট ভূমি অফিসগুলোর গুরুত্ব :

২০১৪ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক দাপ্তরিক পত্রে চট্টগ্রামে নতুন ভূমি অফিসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলা হয়, ‘লোকসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মহানগর এলাকার ভূমি খণ্ড ভাগ হয়ে দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এতে নব সৃষ্ট অসংখ্য রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা, নামজারি ও আপিল মামলা অনিষ্পন্ন থেকে যাচ্ছে। ভূমি উন্নয়ন করের দাবি আদায় ও রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনাকাঙিক্ষত বিলম্বের কারণে জনসাধারণকে কাঙিক্ষত সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’ ওই পত্রে আরো বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট জনসংখ্যা ৩২ লক্ষ ২ হাজার। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর সার্কেল ভূমি অফিসসমূহে ৩ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ৩ জন কানুনগো, ৩ জন সার্ভেয়ার, ১২ জন অফিস সহকারী, ৩ জন জারীরকারক, ৬ জন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। এ স্বল্প সংখ্যক জনবল দ্বারা মহানগর এলাকায় ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিপুল কর্মকাণ্ড সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব।’ এদিকে সাধারণ লোকজন বলছেন, বর্তমানে যেসব সার্কেল এবং তহশীল অফিস রয়েছে তা নগরবাসীর জন্য মাঝে মধ্যে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিদ্যমান সার্কেল ও তহশীল অফিসগুলোর অবস্থানগত কারণ ছাড়াও লোকবল কম হওয়ায় এ ভোগান্তির প্রধান কারণ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সার্কেল ও তহশীল অফিসের কার্যক্রম শুরু হলে সেই ভোগান্তি কিছুটা কমবে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা করিম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ক্রমবর্ধমান লোকসংখ্যার সাথে সঙ্গতি রেখে মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ছিল তিনটি থানা। ইতোমধ্যে থানার সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে ১৬ টিতে উন্নীতে হয়েছে। অথচ সেই অনুপাতে সার্কেল বা তহশীল অফিসের সংখ্যা বাড়ছে না।

নতুন ভূমি অফিসগুলোর পুনর্বিন্যাস যেভাবে :

নতুন সৃষ্ট তিন সার্কেলের মধ্যে বাকলিয়া সার্কেলের অধীনে সদর ইউনিয়ন ও ফিরিঙ্গিবাজার ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একইভাবে কাট্টলী সার্কেল অফিসের অধীনে খুলশী, কাট্টলী এবং পাহাড়তলী ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পতেঙ্গা সার্কেলের অধীনে পরিচালিত হবে মধ্য হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর ও পতেঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি (তহশীল) অফিসের কার্যক্রম। এর মধ্যে বন্দর ভূমি তহশীল অফিসের অধীন মৌজা হচ্ছে বাকলিয়া, পাথরঘাটা ও সুজাকাটগড়। মোহরা ভূমি তহশীল অফিসের অধীনে মৌজা হচ্ছে চর রাঙ্গামাটিয়া, পূর্বষোলশহর ও শুলকবহর। খুলশী ভূমি তহশীল অফিসের অধীনে মৌজা হচ্ছে পূর্ব পাহাড়তলী, খুলশী ও পূর্ব নাছিরাবাদ। পাহাড়তলী ভূমি তহশীল অফিসের অধীনে মৌজা হচ্ছে লট৯ পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও উত্তর পাহাড়তলী। দক্ষিণ পাহাড়তলী ভূমি তহশীল অফিসের অধীনে মৌজা হচ্ছে দক্ষিণ পাহাড়তলী, আস্কারাবাদ, পাঠানটুলী ও মোগলটুলী। মধ্য হালিশহরের ভূমি তহশীল অফিসের অধীন মৌজা হচ্ছে মধ্য হালিশহর, ডবলমুরিংয়ের নলসা ও বন্দরের গোসাইলডাঙ্গা। দক্ষিণ হালিশহর ভূমি তহশীল অফিসের অধীন মৌজা হচ্ছে দক্ষিণ হালিশহর ও বন্দরের নলসা। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানগরীর সমস্ত ভূমি ৬৭টি মৌজায় অন্তর্ভুক্ত।


Advertisement

আরও পড়ুন