মক্কা-মদিনা আক্রান্ত হলে সেনা পাঠাবে বাংলাদেশ

সলিমদের পবিত্রতম স্থান মক্কা ও মদিনা আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ থেকে সেনা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ৩৪ দেশের সামরিক জোটে যোগ দেয়া বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এই জোটে বাংলাদেশ সেনা পাঠাবে কিনা জানতে চাইলে মাহমুদ আলী বলেন, ‘এটা একটা হাইপথিটিক্যাল প্রশ্ন হয়ে গেল। যখন সময় আসবে, তখন বিবেচনা করব। তবে এখানে আমি একটা কথা বলতে পারি যে, এর আগে ইরাকে যখন সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে কুয়েত আক্রমণ করেছিল তখন কিন্তু আমরা সেনা পাঠিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেনা পাঠিয়েছিলাম সৌদি আরবে পবিত্র দুই মসজিদ রক্ষার জন্যে। এটা একটা আছে অতীতে আমরা কী করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এটা করতে পারি। আপাতত এটুকুই। যখন সময় আসবে, তখন আমরা দেখব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি জোটে যোগদানকারী দেশগুলোর মধ্যে যে সহযোগিতা কার্যক্রম হবে সেটা হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় কার্যক্রম। কেউ সহযোগিতা দিলে দিতে পারে; আবার কেউ না দিলে তাকে বাধ্য করা যাবে না। এই জোটের সভায় যোগদানও হবে স্বেচ্ছায়।’

তার দাবি, ‘সামরিক জোট হলে সহযোগিতা বাধ্যতামূলক থাকে। এটা সামরিক জোট নয় তাই বাধ্যতামূলকও নয়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় কেউ সহযোগিতা করতে পারে।’

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সৌদি এই জোটের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জোটের সম্প্রতি সদস্য দেশগুলোর এক সম্মেলনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান অংশ নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব গত ১৪ ডিসেম্বর ঘোষণা করে, তারা ৩৪টি মুসলিম দেশ নিয়ে একটি সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক জোট গঠন করেছে। এই জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসরসহ সুন্নিপ্রধান দেশগুলো যোগ দিয়েছে। তবে ইরান, ইরাক ও সিরিয়াসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ এতে যোগ দেয়নি।

সৌদি আরব সন্ত্রাসবিরোধী এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়ার পর পরই বাংলাদেশ রিয়াদে সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে এই জোটে যোগদানের কথা ঘোষণা করে।

তবে সৌদি জোটের আওতায় বাংলাদেশকে সন্ত্রাসকবলিত দেশে সন্ত্রাস দমনে সেনা পাঠানোর চাপ দিতে পারে সৌদি আরব- এমন ধারণা থেকে বাংলাদেশে এনিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আলী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ দিনের এক সরকারি সফরে শুক্রবার সৌদি আরব যাচ্ছেন। সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এ সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন এবং মদিনা শরিফে হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর পবিত্র রওজা মুবারক জিয়ারত করবেন।

প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩ থেকে ৭ জুন সৌদি আরব সফরকালে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই প্রতিনিধি দলে থাকবেন। এছাড়াও, ১০ সদস্যেও উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী ৩ জুন অপরাহ্নে ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটে রওনা হয়ে এদিন সন্ধ্যায় জেদ্দা পৌঁছাবেন। এ দিন রাতেই তিনি পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন।

এরপর ৫ জুন সৌদি আরবের বাদশাহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দায় রাজকীয় প্যালেসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এ সফরকালে সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সৌদি নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী মহানবী (সা.) পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশে মদিনা সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে পররাষ্ট্র দফতর পর্যায়ে আলোচনার জন্য সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা প্রভৃতি বিষয়ে চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক সই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে সৌদি আরবে ব্যাপকভাবে পুরুষ শ্রমিক নিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগে যাই, আলোচনা করি। তারপর দেখা যাবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market