নিবন্ধিত সিমসংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ শুরু হয়েছে

আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে নিবন্ধিত না হওয়া সিম বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী তাঁদের অনিবন্ধিত সিম থেকে ফোন করতে পারছেন না। আবার কারও কারও নম্বরে ফোনও আসছে না।
বিভিন্ন মুঠোফোন অপারেটরের কাছে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে ১০০ টাকার যে সিমের কর দিতে হয়, সেটি গ্রাহকদের পক্ষে মুঠোফোন অপারেটররা পরিশোধ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ বিষয়ে একটি মুঠোফোন অপারেটরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমের পুনর্নিবন্ধনের জন্য সরকারের প্রাপ্য ১০০ টাকা সিমের কর মওকুফ করার জন্য আবেদন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত গ্রাহকদের পক্ষে তারা সিমের কর পরিশোধ করবে।
গত সোমবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিম আবার চালু করতে নতুন সিম কেনার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে একটি নতুন সিম কিনতে হলে সরকার সিমের কর হিসাবে ১০০ টাকা পায়। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম একটানা ১৮ মাস বা ৫৪০ দিন বন্ধ থাকলে সেটির মালিকানা গ্রাহকের থাকে না। এর মধ্যে ১৫ মাস বা ৪৫০ দিন পার হলে মুঠোফোন অপারেটররা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিষ্ক্রিয় সংযোগটি পরের ৯০ দিনের মধ্যে চালু করার জন্য গ্রাহককে অনুরোধ করে। এভাবে মোট ১৮ মাস সময়ে সিমটি চালু করা না হলে সেটির মালিকানা বর্তমান ব্যবহাকারকারী ব্যক্তির থাকে না। বন্ধ হওয়া সংযোগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

এয়ারটেলের যান্ত্রিক ত্রুটি, পরে সমাধান
পুনর্নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরও গতকাল এয়ারটেলের কিছু সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন অনেক গ্রাহক। এ বিষয়ে এয়ারটেল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের একটি প্রধান মোবাইল সুইচিং সেন্টারে হঠাৎ করেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। এ কারণে ঢাকার দক্ষিণাংশ ও নারায়ণগঞ্জে এয়ারটেল গ্রাহকেরা সাময়িক নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছেন। অন্য জায়গাগুলোতে বর্তমানে এ ধরনের কেনো সমস্যা নেই। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনর্নিবন্ধন করা বা না করার কোনো সম্পর্ক নেই।
রাতে পাঠানো আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে।
নিবন্ধনের পরও এয়ারটেল সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে এয়ারটেলের শাখা কার্যালয় ঘেরাও করেন কয়েক শ গ্রাহক। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া বলেন, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনর্নিবন্ধনের পরও সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে এমন অভিযোগ জানাতে বেলা ১১টার দিকে ধানমন্ডিতে এয়ারটেল কার্যালয়ে গ্রাহকেরা ভিড় করেন। কিন্তু এয়ারটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, সাইবার সমস্যার কারণে এ ধরনের ত্রুটি হচ্ছে। আমরা গ্রাহকদের এই বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’

Mahabubur Rahman Mahabubur Rahman

Leave a Reply

Top
%d bloggers like this:
Web Design BangladeshBangladesh Online Market