আজ সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সুন্দরবনের মাস্টার বাহিনীর ১০ সদস্যের আত্মসমর্পণ যমুনা টিভির ভূয়সী প্রশংসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Published on 01 June 2016 | 2: 51 am

যমুনা টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর অবশেষে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর ১০ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার মংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ৫২টি  আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার গুলি, ট্রলারসহ অন্যান্য উপকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে তুলে দেন। তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার করে মংলা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
কুখ্যাত মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণে ভূমিকা রাখায় যমুনা টিভির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণে নেপথ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য যুমনা টিভিকে ধন্যবাদ।’ এ সময় মন্ত্রী সন্ত্রাসী, জলদস্যুসহ অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিতে সব গণমাধ্যমকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ভয়ংকর এ দস্যুবাহিনীর আত্মসমর্পণের নেপথ্যে জানা গেছে যমুনা টিভির বিশাল ভূমিকার কথা। কিছুদিন আগে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর ওপর যুমনা টিভিতে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রচারের পর দস্যুরা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করে। বিষয়টি যুমনা টিভির প্রতিবেদকের মাধ্যমে র‌্যাবকে জানানো হয়। র‌্যাবের মহাপরিচালকের পক্ষে গোয়েন্দা উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে যমুনা টিভির প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। র‌্যাব-৮ থেকেও আত্মসমর্পণের বিষয়ে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ২৩ মে দস্যু বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন যমুনার প্রতিবেদকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাবের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, তারা স্বরাষ্ট্রন্ত্রীর হাতে অস্ত্র সপে দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর যমুনার একটি প্রতিনিধি দল ২৭ মে সুন্দরবনে গিয়ে দস্যু বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে। তারা শনিবার রাত ৩টার দিকে সুন্দরবনের চরপুটিয়া ভারাণী এলাকায় যমুনা টিভির প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির হিসাব দেয়। রোববার তারা আত্মসমর্পণের জন্য দিন ধার্য করে। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না যাওয়ায় তারা আত্মসমর্পণ করেননি। পরে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেন। এই অনুষ্ঠানে র‌্যাবের উপ-প্রধান কর্নেল আনোয়ার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, র‌্যাব-৬-এর কমান্ডার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৮-এর কমান্ডার ফরিদুল আলম, অপারেশন অফিসার মেজর আদনান কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সরকার সুন্দরবনকে একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে দেখতে চায়। জেলে, বাওয়ালি ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি সুন্দরবনকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ও নিরাপদ জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাস্টার বাহিনীর মতো অন্য দস্যু বাহিনীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের সুরক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের জন্য ৪টি আধুনিক নৌযান কেনা হয়েছে। শিগগিরই সুন্দরবনসহ সাগর উপকূলকে নিরাপদ রাখতে সেগুলো যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি র‌্যাবকে শক্তিশালী করা হচ্ছে- এককথায় সুন্দরবনকে সুরক্ষার জন্য সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বনদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদেরও খুঁজে বের করা হবে। কাজেই অন্য দস্যুদের বলব স্বভাবিক জীবনে ফিরে আসতে। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।
আত্মসমর্পণকারীরা হল- বাহিনী প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার (৪৭), সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহাগ আকন (৩৭), ফজলু শেখ (৩৫), সোলায়মান শেখ (২৮), মো. শাহিন শেখ (২৮), মো. হারুন (২৪), মো. আরিফ সরদার (২২), মো. আসাদুল ইসলাম (২৭), সুমন সরকার (৩৪) ও  মো. সুলতান খান (৫৮)। র‌্যাব-৮-এর অপারেশন অফিসার মেজর আদনান কবীর জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হবে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, নানা কারণে সুন্দরবন দাপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু মাস্টার বাহিনী তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করে। তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকালে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ১০ সদস্য ৫২টি অস্ত্র ও ৫ হাজার গুলি, ট্রলারসহ অন্যান্য উপকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে তুলে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এল। উল্লেখ্য, মাস্টার বাহিনীর ১০ সদস্য মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেও এরা রোববার অস্ত্র ও গুলি র‌্যাবের কাছে জমা দেয়। এদিকে মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলে। এখানকার মানুষের আশা মাস্টার বাহিনীর মতো অন্য বনদস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন