আজ সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রভাব খাটাতে গিয়ে গ্রেপ্তার দুই আ.লীগ নেতা ।। ব্যালট পেপারসহ আটক চেয়ারম্যান প্রার্থী

Published on 29 May 2016 | 3: 50 am

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে চন্দনাইশ ও বোয়ালখালীতে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন ও চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনুকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বিজিবি আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবের আহমদকে ব্যালটে সিল মারার সময় হাতেনাতে আটক করে বিজিবি।

বোয়ালখালী থানা পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা ১২টার দিকে আব্দুল কাদের সুজনকে বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর ভূর্ষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বেয়াই মার্কেট এলাকা থেকে আটক করে বিজিবি। এসময় তাকে বহনকারী মাইক্রোবাস ও একটি ব্যাগ জব্দ করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুতফুর রহমান জানান।

বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদের ভাই সুজনকে তালুকদার পাড়া এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবৈধভাবে ঘোরাফেরার সময় বিজিবি সদস্যরা দুপুরে আটক করে । নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুতফুর বলেন, ‘উনার (সুজন) উপস্থিতির কারণে কেন্দ্রের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। আমার সাথে বিজিবির টহল দলও ছিল। উনার গাড়ি ও ব্যাগ সার্চ করেছিলাম। কিন্তু কিছুই পাইনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উনাকে আমাদের সাথে রেখেছিলাম, যাতে এলাকায় আর উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়। এটুকুই, আর কিছু নয়।’ এর আগে বোয়ালখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মাহবুবুল আলম বলেছিলেন, তিনি ওই কেন্দ্রের ভোটার নন। সেখানে অবৈধভাবে যাওয়ায় তাকে আটক করে বিজিবি।

আব্দুল কাদের সুজনের দাবি, সকালে তালুকদার পাড়া এলাকায় তার আরেক ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মোমিনের উপর হামলার খবর শুনে তিনি সেখানে যান। কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় তারা (বিজিবি সদস্যরা) আমাকে থামায় এবং আমার সঙ্গে কথা বলে। তারা আমাকে তাদের সাথে থাকতে বলে। আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের গাড়িতেই ছিলাম। পরে বিকেলের দিকে আমি চলে আসি।

অন্যদিকে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিকাল ৩টায় চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনুকে আটক করা হয়। চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের শেবন্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রের বাইরে থেকে তাকে আটক করে বিজিবি। চন্দনাইশ থানার ওসি শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ জুনুকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করে বিজিবি। পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ওদিকে কর্ণফুলী থানাধীন চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী ছাবের আহমদ বাথরুমে ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০ টায় কেন্দ্রে ঢুকে নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারার সময় কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ব্যালট পেপারসহ আটক করেন। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তার ব্যবহৃত গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরে বিজিবির সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে উদ্ধার করে কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যায় এবং কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। গাড়িতে বেশ কিছু সিলমারা ব্যালট পেপার পাওয়া যায়। পটিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম বলেন, সাবের আহমেদকে বিজিবি আটক করেছে। তার মাইক্রোবাসে সিল মারা কিছু ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। বিজিবি আটকের পর তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইনে ব্যবস্থা নেবেন।

নগর পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর) হারুনুর রশিদ হাজারি জানান, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে শনিবার সকাল ১১টার দিকে ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উপকমিশনার হাজারিসহ পুলিশ প্রায় আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ভোটকেন্দ্রের দোতলা থেকে হাজী সাবের আহমেদকে আটক করা হয়। তার মাইক্রোবাস থেকে নৌকা প্রতীকের সিল মারা বেশকিছু ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন