আজ রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জি-৭ আউটরিচ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ।। ওবামাসহ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতবিনিময়

Published on 28 May 2016 | 3: 14 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাপানে শিল্পোন্নত দেশসমূহের সম্মেলন জি৭ এর আউটরিচ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এবং জি৭ সম্মেলনের আয়োজক শিনজো আবে’র আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সাত পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালি ও জাপানের জোট জিসেভেনের আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনার জন্য জোটের বাইরে থেকে বিভিন্ন দেশকে আলাদা আমন্ত্রণ জানানো হয়। একেই বলা হচ্ছে জিসেভেন আউটরিচ মিটিং। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জি৭ এর সদস্য ব্যতীত বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে এই আউটরিচ বৈঠকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। যার মধ্যে রয়েছেইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, শ্রীলংকা, পাপুয়া নিউগিনি ও আফ্রিকার দেশ চাদ। এছাড়া বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল মনেটরি ফান্ড (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। জাপানের নাগোয়ায় জিসেভেনের সম্মেলনের পরদিন গতকাল শুক্রবার এই আউটরিচ মিটিং হয়।

আউটরিচ মিটিংয়ের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ অন্যান্য রাষ্ট্র ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

সকালে ওই বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে আজ শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি রয়েছে তার। গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কিমুন ও আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন লগার্দসহ অন্যদের সঙ্গেও শেখ হাসিনা নানা বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘করিডোরে আলাপ হয়েছে। আমরা বলে থাকি করিডোরেই আসল আলাপ হয়। সেটা হয়েছে।’

আউটরিচ বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর একপাশে ছিলেন বারাক ওবামা, অন্যপাশে ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি, তার পাশেই ছিলেন বান কিমুন। বৈঠকের ফাঁকে শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবামা, মেরকেল ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে কথা বলতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দুটো আউটরিচ সেশনেই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন; আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে।’

স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা বা না থাকার বিষয়ে ক্যামেরন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভিমত জানতে চান। এই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যে সৃষ্ট বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখন বিশ্বায়নের এই যুগ, যোগাযোগের যুগ। এই যুগে একটি বড় ইউনিয়ন থেকে সরে আসাটা চিন্তা করার বিষয়।’ যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটি ব্রিটিশ জনগণের সিন্ধান্ত। তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা উচিত। কিন্তু ব্রিটিশ জনগণকেই সব শেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার বিষয়ে সে দেশের তিন এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক এবং রুশনারা আলীর জনমত সৃষ্টি করার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যামরন বলেন, ‘তার দেশ বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চায়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আউটরিচ বৈঠকের আয়োজনস্থল শিমা কানকো হোটেলের ব্যাংকুয়েট হলে এসে পৌঁছলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী আউটরিচ বৈঠকের দুটি পর্বের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতৃবৃন্দের সঙ্গে ফটোসেশন এবং মধ্যাহ্ন ভোজেও অংশগ্রহণ করেন।

আউটরিচ বৈঠকের শুরুতেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, গুণগত অবকাঠামো, জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশের অর্জন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, উন্নত দেশগুলো যদি কারিগরি সহায়তা, অর্থায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তাহলে বিশ্ব আজকে যে সব সমস্যায় পড়ছে, সেটা পড়বে না।’

সকালের এই বৈঠকের বিষয়ে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান মুখ্য সচিব আজাদ ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। এই বৈঠকে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যায় মুখ্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়া যে দেশগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে তাদের সবাই কোনো না কোনো গ্রুপকে প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে আমাদের যে উল্লেখযোগ্য অবদান, সেজন্য বাংলাদেশকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।’ আউটরিচ মিটিংয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব ‘স্পষ্ট হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন