আজ শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র ।। অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে নজরুল চর্চার আহ্বান

Published on 26 May 2016 | 2: 40 am

কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্মের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ, বঞ্চনা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে মুক্তির গান। নজরুলের লেখনিতে উঠে এসেছিল প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী। আর অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে নজরুল চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। গতকাল দুপুরে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়ামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭ তম জন্মজয়ন্তীতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হতে না পারায় তার বাণী অনুষ্ঠানে পড়ে শোনান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ। নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনী বেগম খিলখিল কাজী, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আকতারী মমতাজ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য রাখেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দায়িত্ব পালন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার বক্তব্যে বলেন, ১৯২৬, ১৯২৯ ও ১৯৩২ সাল ছাড়াও নজরুল একাধিকবার চট্টগ্রাম এসেছিলেন। এখানকার নদী, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তার লেখনিতে ফুটে উঠেছে। তাই তাঁর স্মৃতিধন্য চট্টগ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রামে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে এর মাধ্যমে নজরুল সাহিত্য চর্চার প্রচার ও প্রসার ঘটবে প্রত্যাশা করে মন্ত্রী বলেন, নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেজন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পেলেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বিভিন্ন সময় নজরুলকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মননেমগজে অসাম্প্রদায়িক কবিকে সাম্প্রদায়িকভাবে ব্যবহারেরও চেষ্টা কম হয়নি। কবি এখনও তাদের কবল থেকে মুক্ত নন। আজকে যখন ধর্মান্ধতা, অজ্ঞানতা আবারও আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার চেতনাকে কলুষিত করতে উদ্যত, তখন আমরা নিজেদের সেই চেতনাকে রক্ষায় নজরুলের শরণ নিতে হবে।

এদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত সঙ্গীত সম্ভার নিয়ে নজরুল সঙ্গীত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন কবির নাতনী খিলখিল কাজী। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খিলখিল কাজী বলেন, আমরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী পালন করছি। কিন্তু নজরুলকে জানার জন্য এখানে কোন উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র নেই। নজরুল সঙ্গীত সাধনার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিত। আর এটা বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও হবে না। এখানে নজরুলের গান, কবিতা, রচনা সম্পর্কে জানতে বিদেশিরা আসবে। এর মাধ্যমে আমরা নজরুলকে পুরো বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুলকে নিয়ে ‘নজরুল : সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অম্লান শিখা’ শীর্ষক স্মারক বক্তব্য পাঠ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। তিনি বলেন, নজরুল চিরায়ত বাঙালির উদার মানবতার ঐতিহ্যেরই ধারা বহন করেছেন। অবশ্য এ ধারা রক্ষা করতেও তাকে ধর্মীয় ও সামাজিক বাধা ডিঙ্গাতে বারবার বিদ্রোহ করতে হয়েছে। বাঙালির দুর্ভাগ্য, বাঙালি রাজনীতি ও তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেনি। তাই আমাদের সমন্বয়ধর্মী উদার মানবিক ধারার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কলুষিত হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্রয়ে ধর্মান্ধতা মাথাচাড়া দিয়েছে। গত ১৫ মাসে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তি গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে সাতটি। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, নজরুলের মর্মবাণী আমাদের ধারণ করতে হবে। আমরা যা বলি তা যদি ধারণ করি তবে আমাদের দেশে হানাহানি, বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর হয়ে যেতো। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার নজরুল গবেষক ও শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে জানিয়েছেন আয়োজকরা।


Advertisement

আরও পড়ুন