আজ বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ ইং, ১২ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সাইনবোর্ডটি সরিয়ে নিল কে

Published on 26 May 2016 | 2: 36 am

নগরীর জাতিসংঘ পার্কে কোন ধরনের নির্মাণ কাজ না করার অনুরোধ জানিয়ে এক সপ্তাহ আগে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের টাঙ্গানো সেই সাইনবোর্ডগুলো রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন এজন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দায়ি করেছেন। তাদের দাবি, পার্কটিতে চসিকের নিয়োগকৃত দারোয়ান ও মালিরা দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাদের উপস্থিতিতে বাইরের লোক কিভাবে সাইনবোর্ডগুলো সরিয়ে নেবে? এদিকে চসিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা সাইনবোর্ডগুলো সরিয়ে নেয়নি। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি ছাড়াই গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন জায়গায় চসিক বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এমন সংবাদ জানতে পেরে গত ১৭ মে বিকেল পাঁচটার দিকে গণপূর্ত বিভাগ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে চারটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল জাতিসংঘ পার্কে। সাইনবোর্ডে লেখা ছিল, ‘বিশেষ বিজ্ঞপ্তি। জাতিসংঘ পার্কটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। উক্ত পার্কে কোন প্রকার নির্মাণ কাজ না করার জন্য অনুরোধ করা হল। আদেশক্রমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়’। এদিকে গতকাল পার্ক এলাকায় উপস্থিত হয়ে সাইনবোর্ডগুলো দেখা যায় নি। এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, গত রোববার রাতেই সাইনবোর্ডগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কারণ সোমবার সকাল থেকেই সাইনবোর্ডগুলো দেখা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ কেউ না কেউ সাইনবোর্ডগুলো তুলে নিয়ে গেছে। আমরা সাইনবোর্ড স্থাপন করবো’। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম বলেন, সাইনবোর্ডগুলো আমরা সরিয়ে নেয়নি। বিএস মূলে জাতিসংঘ পার্কের মালিকানা এখন চসিকের বলেও দাবি করেন তিনি’। এদিকে গত ১৯ মে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এতে বলা হয়, ‘পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘ পার্কটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ তৎকালীন পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেছিল। গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃপক্ষ হস্তান্তরের পর দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উক্ত পার্কের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ পূর্বক পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ কার্য সম্পাদন করে আসছে। বর্তমানে পার্কটি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। কারণ বি.এস খতিয়ানে উক্ত সম্পত্তি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নামে প্রচারিত আছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি নাগরিক স্বার্থে যে কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার চসিকের রয়েছে’। চসিকের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সেখানে কোন ধরনের কমিউনিটি সেন্টার তৈরি হবে না। নগরে আগত বিদেশি মেহমান, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য দৃষ্টি নন্দন একটি গেস্ট হাউজ থাকবে যা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে থাকবে না’। চসিকের ব্যাখ্যায় জাতিসংঘ পার্কের মালিকানা দাবির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণপূর্ত বিভাগ১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, উনারা বি.এস খতিয়ানে দাবি করছেন। কিন্তু আর.এস খতিয়ান ছাড়া জায়গার মালিক হতে পারবে না। উনাদের দাবিকৃত বি.এস খতিয়ানের নাম পরিবর্তনের জন্য কিছু ফরমালিটি আছে। আমরা সেগুলো করবো’। এদিকে অভিযোগ আছে, গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব সম্পত্তি হলেও তাদের অনুমোদন না নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পার্কটি বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এলক্ষ্যে ‘এলিট পার্ক লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছিল চসিক। প্রতিষ্ঠানটি এজন্য চসিককে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতিমাসে ভাড়া হিসেবে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করেছে। এদিকে দৈনিক আজাদীর অনুসন্ধানে চসিকের উদ্যোগটি প্রথম জনসম্মুখে চলে আসে। গত ১৬ মে দৈনিক আজাদীতে ‘জাতিসংঘ পার্কে কমিউনিটি সেন্টার, গেস্ট হাউস ! চসিকের সিদ্ধান্তে এলাকাবাসীর ক্ষোভ’ শীর্ষ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নগরজুড়ে চলে নানা আলোচনাসমালোচনা। নগরবাসী চসিকের এমন উদ্যোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ১৭ মে ‘জাতিসংঘ পার্কে বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়’ শিরোনামে সাবেক দুই মেয়রসহ বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া ছাপানো হয়। এবং ওইদিনই পার্কটিতে চারটি সাইনবোর্ড লাগায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে গত ১৭ মে চসিককে নোটিশ দেয় গনপূর্ত বিভাগ। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল, চট্টগ্রামস্থ পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় স্থিত জাতিসংঘ পার্কটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। তবে উক্ত পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বরাবর ন্যস্তকৃত। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা নির্মাণকালে উক্ত জমিটি মাস্টারপ্ল্যানে পার্ক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যা আবাসিক এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের একমাত্র খোলা জায়গা ও সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে’। নোটিশে আরো বলা হয়, ‘উক্ত পার্কটিতে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের সুবিধার্থে কোন ধরনের নির্মাণ কাজ না করার জন্য অনুরোধ করা হল’।


Advertisement

আরও পড়ুন