আজ শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ডিএনএ রিপোর্ট দিতে নারাজ সিআইডি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ডা. শারমিনের বিরুদ্ধে

Published on 20 May 2016 | 3: 56 am

কুমিল্লায় কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশের ২য় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে চরম সংকটের মুখে পড়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। দফায় দফায় চিঠি চালাচালি করেও ফরেনসিক বিভাগ সিআইডি থেকে বহুল আলোচিত ডিএনএ রিপোর্ট পায়নি। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে ডিএনএ রিপোর্ট দেয়া হবে না বলে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে রহস্যজনক কারণে প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শারমিন সুলতানা তনু হত্যা ও ধর্ষণের আলামত নষ্ট কিংবা গোপন করেছেন কিনা- এ বিষয়ে সিআইডি থেকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, তনুর প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণ ও হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ কারণেই সংকটে পড়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। তারা এখন সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট দেখতে চায়। কিন্তু সিআইডি এ রিপোর্ট দিতে নারাজ।
২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের একটি জঙ্গলে পাওয়া যায় তনুর মরদেহ। পরদিন কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের ডা. শারমিন সুলতানা তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত করেন। ৪ এপ্রিল ফরেনসিক বিভাগ থেকে দেয়া প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ নমুনা ও ২য় ময়নাতদন্ত করা হয়। কিন্তু গত ৫১ দিনেও ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা না হলেও সোমবার রাতে কুমিল্লা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ডা. নামজুল করিম খান কর্তৃক ডিএনএ রিপোর্টে ৩ ধর্ষকের বীর্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
ডিএনএ রিপোর্ট দেবে না সিআইডি : বৃহস্পতিবার সিআইডি চিঠি দিয়ে ডিএনএ রিপোর্ট দেবে না বলে জানিয়ে দেয়ায় কুমিল্ল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ ওই ডিএনএ রিপোর্টের জন্য কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেবে নাকি ডিএনএ ছাড়াই ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেবে- তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুমেকের ফরেনসিক বিভাগ ও ২য় ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা নগরীর বাদুড়তলায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘সিআইডি থেকে ডিএনএ রিপোর্ট দেয়া হবে না বলে লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছে। যেহেতু সিআইডি বলে আসছে ডিএনএ রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে, তাই ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট তৈরির আগে ডিএনএ রিপোর্ট সহায়ক হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এর পর্যালোচনা করে ২য় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সিআইডি আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডিএনএ রিপোর্ট নিতে বলেছে।
ডা. শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে : কুমিল্লা সিআইডির একাধিক সূত্র জানায়, ডিএনএ এবং প্রথম ময়নাতদন্তে অসঙ্গতি থাকায় তাতে ডা. শারমিন সুলতানার কোনো গাফিলতি ছিল কিনা কিংবা তিনি কোনো আলামত গোপন অথবা নষ্ট করেছিলেন কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়টি প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ কিংবা দণ্ডবিধি ২০১ ধারায় আলামত নষ্ট ও গোপনের অভিযোগে মামলা হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের নজির রয়েছে।
এ ব্যাপারে ডা. শারমিন সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। হত্যা ও ধর্ষণের কোনো আলামত খুঁজে না পেলে রিপোর্ট দেব কিভাবে। তিনি আরও বলেন, আমি তনুর শরীরে কোনো বীর্যের আলামত পাইনি, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর যে প্যান্টিতে বীর্যের আলামত পেয়েছে বলে দাবি করছে সেই প্যান্টি আদৌ তনুর কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমি কারও চাপে কিংবা ভয়ে তনুর হত্যা কিংবা ধর্ষণের আলামত নষ্ট করিনি, এটা করার প্রশ্নই আসে না।
এদিকে তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচার দাবি করেছেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম। তারা বলেন, কি কারণে তিনি আমার মেয়ে হত্যা ও ধর্ষিত হয়নি উল্লেখ করে  রিপোর্ট দিয়েছেন তা তদন্ত করে দেখা উচিত। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী বোর্ড কেন  রিপোর্ট দিতে দেরি করছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তনুর বাবা-মা এ দাবি করেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন